Last Updated on [modified_date_only] by Suparna Ghosh
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাদেশি সন্দেহে দিল্লি পুলিশের হাতে আটক বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের(Migrant worker) বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগের মামলায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চাইল কলকাতা হাইকোর্ট(Calcutta High Court)। ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লির মুখ্য সচিবের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে যোগাযোগ রাখারও নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এই সমস্ত বিষয় নিয়ে মনোজ পন্থকে আদালতে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ। দিল্লি থেকে আটক করে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের কি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে? তারই বিস্তারিত রিপোর্ট অমিত শাহর মন্ত্রকের থেকে চাইল হাইকোর্ট।
দিল্লি পুলিশের হাতে আটক ছয় পরিযায়ী শ্রমিক(Migrant worker)
দিল্লি পুলিশের হাতে আটক ছয় পরিযায়ী শ্রমিক(Migrant worker) বীরভূমের পাইকরের বাসিন্দা। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৮ জুন দিল্লির রোহিনী পুলিশ জেলার কেএন কাটজু থানা এলাকায় বাংলাদেশি সন্দেহে ছ’জনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে একটি আট বছরের শিশুও রয়েছে। আটক হওয়ার পরই শ্রমিকরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাঁরা পরিবারকে জানান যে বাংলাদেশি সন্দেহে পুলিশ তাঁদের আটক করেছে। পুলিশের হাত থেকে মুক্ত করতে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত দিল্লি পৌঁছন।
কেএন কাটজু থানা পরিবারের সদস্যরা পৌঁছলে পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের বলা হয়, বাংলাদেশি সন্দেহে যাদের আটক করা হয়েছিল তাদের বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এবং ‘পুশব্যাক’ করে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের কোন এলাকা দিয়ে তাঁদের বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়েছে, সেকথা থানা থেকে তাঁদের জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা। এই বিষয়ে রাজ্য শ্রম দফতরের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন তারা। পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর পশ্চিমবঙ্গ শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলামই হাইকোর্টে মামলা করার কথা বলেন। এরপরই পরিবারের সদস্যরা হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস মামলা দায়ের করে।
দ্রুত ফিরিয়ে আনার আর্জি হাইকোর্টে(Migrant worker)
আটক পরিযায়ী শ্রমিকদের(Migrant worker) পরিবারের আইনজীবী জানিয়েছেন, কর্মসূত্রেই দিল্লি গিয়েছিলেন বীরভূমের ওই ছয় পরিযায়ী শ্রমিক। কিন্তু বর্তমানে তাদের সঙ্গে কোনওরকম ভাবে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। ওই ছ’জন বর্তমানে কোথায় রয়েছেন, কিছুই জানেন না পরিবারের লোকেরা। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের দ্রুত ফিরিয়ে আনার আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা।
কিসের ভিত্তিতে আটক? রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের
কিছুদিন আগে বাংলাদেশি সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমেরই নলহাটি ২ নম্বর ব্লকের ১৬ পরিযায়ী শ্রমিককে আটক করার অভিযোগ ওঠে ওড়িশা পুলিশের বিরুদ্ধে। তাঁদের পরিবারেও কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে ওড়িশার মুখ্য সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। কেন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের আটক করা হয়েছে? কিসের ভিত্তিতে আটক করা হয়েছে? কোনও এফআইআর দায়ের হয়েছে কি না? আটক করার পরে ওই পরিযায়ীদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে? এখন তাঁরা কোথায় রয়েছেন?— এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর ওড়িশার মুখ্যসচিবের থেকে জেনে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ডিভিশন বেঞ্চ। তাঁর জবাব দেখেই আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানিয়েছে আদালত।
আরও পড়ুন: Suvendu Adhikari: ১৩ জুলাই শুভেন্দুর মিছিলে মেলেনি পুলিশি অনুমতি, অনুমতি না পেয়ে হাইকোর্টে বিজেপি
কবে মামলার পরবর্তী শুনানি?
এদিন মামলার শুনানিতে বিচারপতি জানতে চান, ওড়িশার ঘটনার সঙ্গে দিল্লির ঘটনাটির পার্থক্য কোথায়। মামলাকারীর আইনজীবী জানান, ওড়িশায় আটকদের দেশের বাইরে পাঠানো হয়নি। কিন্তু দিল্লির ক্ষেত্রে আটকদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপরই এই ব্যাপারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করল চায় হাইকোর্ট। কেন্দ্রের আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদীকে আদালতে সেই রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। আগামী বুধবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি।


