Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলা বিনোদন জগতের অন্যতম স্টাইল আইকন মনামী ঘোষ বরাবরই তাঁর অভিনয়ের পাশাপাশি নজর কেড়েছেন অভিনব ফ্যাশন সেন্সের জন্য (Monami Ghosh)। ট্রেন্ডের পেছনে ছোটা নয় বরং নিজেই ট্রেন্ড তৈরি করা যেন তাঁর স্বভাব। আর সেই ধারাবাহিকতাতেই আবারও আলোচনার কেন্দ্রে অভিনেত্রী, তাঁর নতুন ‘ফিতে পোশাক’-এর জন্য।

মেজারমেন্ট টেপে তৈরি পোশাক (Monami Ghosh)
সম্প্রতি এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে হলুদ রঙের অফ-শোল্ডার পেপলাম স্টাইলের পোশাকে হাজির হন মনামী। কিন্তু এই পোশাকের আসল চমক লুকিয়ে ছিল তার উপাদানে কয়েকশো ‘মেজারমেন্ট টেপ’ দিয়ে তৈরি এই ড্রেস যেন ফ্যাশনের এক অভিনব পরীক্ষাগার। পোশাকের নিচের অংশে ঝালরের মতো ঝুলতে থাকা টেপগুলি গোটা লুকটিকে করে তুলেছিল নজরকাড়া ও ব্যতিক্রমী। সঙ্গে বাক্সের মতো একটি ইউনিক ব্যাগ যা এই লুককে আরও রহস্যময় করে তোলে।

‘মাস্টারজি’-দের প্রতি শ্রদ্ধা (Monami Ghosh)
এই পোশাক কেবল স্টাইল স্টেটমেন্ট নয়, এর রয়েছে গভীর বার্তা। মনামীর কথায়, এটি ফ্যাশনের চেয়েও বেশি দর্জি বা ‘মাস্টারজি’-দের অক্লান্ত পরিশ্রমের প্রতি এক অভিনব শ্রদ্ধাঞ্জলি। ফ্যাশনের আড়ালে যে অসংখ্য কারিগরের ঘাম ও শ্রম জড়িয়ে থাকে, সেই অদৃশ্য হাতগুলোকেই সামনে আনতে চেয়েছেন তিনি।
পরিবেশ থেকে সমাজ (Monami Ghosh)
মনামী ঘোষের ফ্যাশন মানেই শুধু গ্ল্যামার নয়, বরং সচেতনতার প্রচার। এর আগেও পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি ফ্রক পরে এবং অ্যাকোরিয়াম ব্যাগে মাছ নিয়ে তিনি আলোড়ন তুলেছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণ কমানো এবং পুনর্ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরা। ফ্যাশনকে তিনি ব্যবহার করেন সমাজকে বার্তা দেওয়ার এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে।

লোকসংস্কৃতি থেকে গ্লোবাল স্টাইল (Monami Ghosh)
বাংলার ঐতিহ্য ও গ্রামীণ শিল্পকেও সমান গুরুত্ব দেন মনামী। নকশিকাঁথা গাউনে তিনি তুলে ধরেছিলেন বাংলার কুটির শিল্পের সৌন্দর্য। শান্তিনিকেতন-এর শিল্পীদের হাতে তৈরি সেই পোশাকে ফুটে উঠেছিল সূক্ষ্ম কারুশিল্প, যা তৈরি করতে সময় লেগেছিল প্রায় ৮ দিন। ওয়েস্টার্ন কাটের গাউনে ঐতিহ্যবাহী নকশিকাঁথার ব্যবহার এই মেলবন্ধনই তাঁর ফ্যাশনের মূল দর্শন।

আরও পড়ুন: Energy Lockdown: দেশজুড়ে লকডাউন! যুদ্ধের জেরে এই অবস্থা?
‘পদাতিক’-এর প্রতি শ্রদ্ধা
তেলেঙ্গানা বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ‘পদাতিক’-এর প্রচারে গিয়ে শাড়ির আঁচলে সিনেমার গল্প ফুটিয়ে তুলেছিলেন মনামী। সেখানে ছিল কিংবদন্তি পরিচালক মৃণাল সেন-এর অবয়ব। রুপোর গয়না, পাঁচ লেয়ারের নেকলেস, স্নিগ্ধ মেকআপ সব মিলিয়ে সেই লুক ছিল এক কথায় সিনেম্যাটিক আর্ট। মনামীর এই ব্যতিক্রমী ফ্যাশনের জন্য তাঁকে একাধিকবার ‘বাংলার উরফি জাভেদ’ বলেও কটাক্ষ করা হয়েছে। তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিন্দুমাত্র বিচলিত নন। তাঁর মতে, এই আলোচনা নতুন কিছু নয় বরং ফ্যাশনের সাহসী পরীক্ষা-নিরীক্ষারই স্বাভাবিক ফল।



