Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ওয়াকফ আইনের বিরোধিতায় প্রতিবাদ, বিক্ষোভের সময় খুন হন মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জের পিতা-পুত্র হরগোবিন্দ এবং চন্দন দাস। খুনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া ১৩ জনের সাজা ঘোষণা করল জঙ্গিপুর আদালত(Murshidabad)।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ (Murshidabad)
সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেককেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিলেন জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতের বিচারক অমিতাভ মুখোপাধ্যায়। একই সঙ্গে পরিবারকে ১৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ভবানী ভবন থেকে সাংবাদিক করে রাজ্য পুলিশ শমসেরগঞ্জের ঘটনার তদন্ত নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়।
ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে খুন দাবি পুলিশের
সংশোধিত ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে অশান্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদ। হিংসা ছড়িয়েছিল জঙ্গিপুরের সামসেরগঞ্জ, সুতি, ধুলিয়ানের মত অঞ্চলে। ১২ এপ্রিল, অশান্তিতে প্রাণ হারান সামসেরগঞ্জের হরগোবিন্দ দাস এবং তাঁর পুত্র চন্দন দাস। অভিযোগ, তাঁদের খুন করা হয়েছে। পুলিশ প্রথম থেকে জানিয়ে এসেছে, ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে এই খুন হয়েছে। রাজনৈতিক বা অন্য কোনও কারণ নেই। চার্জশিটেও তা উল্লেখ করেছিল পুলিশ।
৫৫ দিনের মাথায় চার্জশিট পেশ (Murshidabad)
হরগোবিন্দ এবং চন্দন দাস খুনে অভিযুক্ত ১৩ জনকেই গ্রেফতার করে পুলিশ। সরকারি আইনজীবী জানান, ৫৫ দিনের মাথায় জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে চার্জশিট পেশ হয়। তাঁরা দ্রুত শুনানির আবেদন করেন। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন ঘরের ভিতর থেকে বাবা-ছেলেকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়। এই ঘটনায় ডিআইজি পদমর্যদার আধিকারিকের নেতৃত্বে সিট গঠিত হয়।
ফাঁসানো হয়েছে দাবি দোষীদের
মামলার শুনানি শেষ হয় গত সপ্তাহে। মোট ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে জঙ্গিপুর আদালত। রায় ঘোষণার সময় বিচারক জানান, রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগত রোষে ওই জোড়া খুনের ঘটনা। সাজা ঘোষণার দিন সকাল থেকে থমথমে সামসেরগঞ্জ। অশান্তির আশঙ্কায় রুটমার্চ করে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সঙ্গে ছিল পুলিশও। বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে সাজা ঘোষণা করে জঙ্গিপুর আদালত। সাজা শুনে আদালত চত্বরে কান্নায় ভেঙে পড়েন দোষীরা। তাঁদের ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি।
এডিজি দক্ষিণবঙ্গের দাবি (Murshidabad)
সাজা ঘোষণার আগে ভবানী ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতিম সরকার। সামসেরগঞ্জের ঘটনার তদন্ত নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দেন তিনি। তিনি জানান, কী ভাবে পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত করেছে। তাঁর কথায়, প্রত্যেক অভিযুক্তের গতিবিধির উপর নজর রাখা হয়। প্রত্যেকের মোবাইল টাওয়ারের লোকেশন খতিয়ে দেখা হয়। পরে অভিযুক্তদের ‘জিএআইটি’ পরীক্ষা বা হাঁটাচলা পরীক্ষা করা হয়। তথ্যের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ মেলালে দু’টি হুবহু মিলে যায়।
আরও পড়ুন: Epstein: এপস্টিন মামলার ৮ হাজার নতুন নথি প্রকাশ: মার্কিন বিচারবিভাগের বিরুদ্ধে সরব বিরোধীরা
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপরাধের ধারা (Murshidabad)
সুপ্রতিম আরও জানান, খুনের অস্ত্রে রক্তের দাগ মেলে। হরগোবিন্দ এবং চন্দনের ডিএনএ-র সঙ্গে রক্তের ডিএনএ মেলে। গণপিটুনিতে হত্যার ধারা দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনাও চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, গণপিটুনি ছাড়াও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১০-এর ২ ধারায় ডাকাতি, ৩৩১-এর ৫ ধারায় অন্যের বাড়িতে ঢুকে আক্রমণ, ১৯১-এর ৩ ধারায় মারাত্মক অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাস ঘটানোর চেষ্টা, ১১৫-র ২ ধারায় অস্ত্র দিয়ে আঘাত, ১২৬-এর ২ ধারায় জোর করে আটকে রাখা, ৩৩২-এর এ ধারায় খুনের জন্য অন্যের বাড়িতে প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে।



