Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সামান্য প্রযুক্তিগত গোলোযোগ ও সময়ের অভাবে উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখরের নাহিদ আলমের ডাক্তারি পড়ার স্বপ্নই ভাঙ্গতে বসেছে (MBBS)। হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে স্বপ্ন সফলের আশায় বুক বাঁধছেন ডাক্তারি পড়ুয়া নাহিদ। পরবর্তী শুনানি আগামী বৃহস্পতিবার। সেদিনই নিশ্চিত হয়ে যাবে নাহিদের ভবিষ্যত।
মেডিক্যাল এন্ট্রান্স পাশ করেও চরম হয়রানি (MBBS)
বাবা এমডি হাদি হুসেইন কৃষক। কিন্তু উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখরের বড়াবিল্লার প্রত্যন্ত গ্ৰাম মতিলালের বাসিন্দা নাহিদ আলম ছোটবেলা থেকেই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখতো। সেইমতো গ্ৰামের স্কুলের পর শিলিগুড়ির দার্জিলিং পাবলিক স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে ডাক্তারি পরীক্ষার (MBBS) প্রস্তুতি শুরু করে নাহিদ। লক্ষ্যে অবিচল থেকে তৃতীয়বারের প্রচেষ্টায় রাজ্য মেডিক্যাল এন্ট্রান্স পরীক্ষায় পাশ করেন। তাঁর রেঙ্ক হয় ৬১,২৯১। ছেলে ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পাওয়ায় নাহিদ সহ তাঁর পরিবারের মুখে হাসি ফোটে। কিন্তু সেই হাসি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি নাহিদের। কারণ, এরপর যে চরম হয়রানি অপেক্ষা করছে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি নাহিদ ও তাঁর পরিবার।
রেঙ্ক অনুযায়ী বজবজের জগন্নাথ গুপ্ত মেডিক্যাল কলেজে ‘স্টেট কোটায়’ নাহিদের সিট বরাদ্দ হয়। সেই ‘অ্যালটমেন্ট লেটার’ নাহিদ হাতে পান গত ১৮ নভেম্বর। আর নির্দিষ্ট কলেজে গত ২০ নভেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট করে কোর্স ফি জমা দিতে বলা হয়। ভর্তির শেষ তারিখ ছিল ২০ নভেম্বরই। আর তাতেই মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে নাহিদ ও তাঁর পরিবারের। সুযোগ পেয়েও এতদিননের স্বপ্ন ও পরিশ্রম ভেঙ্গে যেতে বসে নাহিদের (MBBS)। কারণ, গোয়ালপোখর শহর থেকেও প্রায় ২৫ কিলোমিটার ভিতরে তাঁর বাড়ি। এই একদিনের অল্প সময়ের মধ্যে কোর্স ফি এর ২৫-২৬ লক্ষ টাকা জোগাড় করে কলকাতায় পৌঁছে কলেজে জমা করা এক কথায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
দিশেহারা নাহিদ
তবুও কোনও মতে ১৫ লক্ষ টাকা জোগাড় করে সেই চেক নিয়ে ২০ তারিখ সকালে বজবজের জগন্নাথ গুপ্ত মেডিক্যাল কলেজে বাবাকে নিয়ে পৌঁছান নাহিদ। হয়রানির এখানেই শেষ নয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তিনি জানতে পারেন এই কলেজে তাঁর ভর্তি প্রক্রিয়ার জন্য কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে কিয়স্ক খোলা হয়েছে। প্রথমবার কলকাতায় আসা নাহিদ ও তাঁর বাবা কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েন।
বিকালে বজবজ থেকে এসএসকেএম-এ পৌঁছালে সেখানে নাহিদকে ১৫ লক্ষ টাকার ড্রাফট জমা দিতে বলা হয়। এবং কোর্স ফি-এর বাকি ১০ লক্ষ টাকার একটি বন্ড চাওয়া হয় (MBBS)। তাহলে তাঁর ‘স্টুডেন্টস ক্রেডিট কার্ড’ ইস্যু করে দেওয়া হবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু, ততক্ষণে বিকাল হয়ে যাওয়ায় ব্যাঙ্কে গিয়ে ড্রাফট তৈরি করার সময় পাননি নাহিদ। তখনই ১৫ লক্ষ টাকা জমা করে তাঁর জন্য আসনটি ধরে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মেইল করে অনুরোধ করেন। কিন্তু তার কোনও উত্তর পাননি নাহিদ।
আরও পড়ুন:Humayuns Babri Donations: হুমায়ুনের বাবরি অনুদান ৩ কোটিতে, বাক্স-সোনা এখনও বাকি
নির্দিষ্ট ডেটলাইনের মধ্যে ভর্তি হতে না পারায় ডাক্তারি পড়ার (MBBS) স্বপ্ন প্রায় ভেঙ্গে যেতে বসেছিল নাহিদের। তবুও সেই স্বপ্নকে সফল করতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন নাহিদ। তাঁর আসনটি যেন ফাঁকা রাখা হয়, এবং দ্রুত ফি’জ জমা করে তিনি যাতে ডাক্তারি পড়ার জন্য কলেজে ভর্তি হতে পারেন, সেই আবেদন করে হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মঙ্গলবার নাহিদের আবেদনের শুনানি হয় বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাসে। বিচারপতি বসু ১৫ লক্ষ টাকার ড্রাফট এবং বাকি টাকার বন্ড তৈরি করে রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন।
আগামী বৃহস্পতিবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি। সেই দিন বিচারপতি বসু এ বিষয়ে যথাযথ নির্দেশ দেবেন। বিচারপতি বসু তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘সিস্টেম চাইলেও কোনও অদৃশ্য হাত বারবার দরিদ্রদের বিরুদ্ধে কাজ করছে। সিস্টেমের মধ্যে থাকা সেই লোকগুলোই বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। চাষির বাড়ির ছেলের স্বপ্ন এভাবে নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। আগামী দিনে এই ছাত্র দেশের নামকরা চিকিৎসক হতে পারেন (MBBS)। সিস্টেমে সাহায্যের আশ্বাস থাকলেও কয়েকজনের জন্য সেটা সম্ভব হয় না।’ নাহিদের আইনজীবীর দাবি, যেহেতু আর কোনও কাউন্সেলিং হয়নি তাই নাহিদের জন্য বরাদ্দ ওই সিট ফাঁকাই থাকবে। আদালতের হস্তক্ষেপে আবার স্বপ্নপূরণের আশার আলো দেখছেন নাহিদ।


