Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠ্যবইয়ের জন্য এনসিইআরটি প্রকাশিত নতুন মডিউলকে কেন্দ্র করে আবারও বিতর্ক শুরু হয়েছে(Ncert Book Controversy)। অভিযোগ, ওই মডিউলে ভারত বিভাজন ও পাকিস্তান সৃষ্টির দায় ‘তিন শক্তির’— মহম্মদ আলি জিন্না, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং শেষ ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন— এর উপর সমভাবে আরোপ করা হয়েছে। খবরটি সামনে আসতেই শিক্ষামহল ও রাজনীতিতে উত্তাপ চড়েছে।
কী আছে মডিউলে? (Ncert Book Controversy)
নতুন মডিউলের সারকথা,দেশভাগ “কেবল এক জন ব্যক্তির কাজ নয়”, বরং তিন পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল—
- জিন্না: দেশভাগের লক্ষ্য সামনে রেখে ধারাবাহিক রাজনৈতিক প্রচার,
- কংগ্রেস: দেশভাগে ‘সম্মতি’ দেওয়া,
- মাউন্টব্যাটেন: বিভাজন বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক।
নিয়মিত পাঠ্যপুস্তকের বাইরে ষষ্ঠ–অষ্টম এবং নবম–দ্বাদশ শ্রেণির জন্য আলাদা সংস্করণে এই অধ্যায় যোগ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে(Ncert Book Controversy)।
বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া (Ncert Book Controversy)
কংগ্রেসের মুখপাত্র পবন খেরা এই পদক্ষেপকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে আখ্যা দিয়ে নতুন মডিউল পুড়িয়ে ফেলার ডাক দিয়েছেন(Ncert Book Controversy)। কংগ্রেসের অভিযোগ, ইতিহাস-সমাজবিজ্ঞান পাঠক্রমে ধারাবাহিকভাবে আদর্শগত হস্তক্ষেপ চলছে—
- মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসের আরএসএস-যোগের উল্লেখ বিয়োজন,
- গুজরাত দাঙ্গা প্রসঙ্গ অপসারণ,
— ইত্যাদি সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় দেশভাগের দায় কংগ্রেসের ঘাড়ে চাপানো নতুন রাজনৈতিক ‘ন্যারেটিভ’ তৈরির চেষ্টা।
শিক্ষামহলে আশঙ্কা (Ncert Book Controversy)
অনেক শিক্ষাবিদের মতে, দেশভাগের মতো জটিল ও বেদনাবহ মুহূর্তকে সরলীকৃত ‘ত্রিপাক্ষিক দায়ে’ নামিয়ে আনা ইতিহাসচর্চার পরিসর সংকুচিত করে(Ncert Book Controversy)। তাঁদের বক্তব্য—
- দেশভাগের পেছনে ঔপনিবেশিক নীতি, নির্বাচন-রাজনীতি, সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ, প্রাদেশিক স্বার্থ, প্রশাসনিক তৎপরতা— সব মিলিয়ে বহুস্তরীয় কারণ কাজ করেছিল;
- উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বিষয়টি প্রামাণ্য উৎস, নথি ও মতভেদসহ বহুমাত্রিক ভাবে পড়ানোই শ্রেয়।

আরও পড়ুন : Flood In Pakistan : পাকিস্তানে প্রবল বর্ষণ ও হড়পা বানে তীব্র বিপর্যয়, মৃত ২০০-র বেশি, নিখোঁজ আরও অনেকে
এনসিইআরটি-র অবস্থান কী? (Ncert Book Controversy)
নতুন মডিউল প্রকাশের খবর সামনে এলেও, আধিকারিক বিশদ ব্যাখ্যা বা শর্তাবলি সম্পর্কে এনসিইআরটি-র(NCERT) পক্ষ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি— এমনই অভিযোগ বিরোধীদের। সাধারণত, পাঠ্যক্রম সংশোধনে এনসিইআরটি বিষয় বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, বোর্ড ও রাজ্যগুলির সঙ্গে পরামর্শ করে ধাপে ধাপে চূড়ান্ত করে; সমালোচকদের দাবি, এ ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ নয়।

আরও পড়ুন : Trump Putin Meeting : বৈঠকের পর রাশিয়ার উপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ইঙ্গিত ট্রাম্পের
কেন এত বিতর্ক? (Ncert Book Controversy)
- পাঠ্যবই রাজনীতি: স্কুলের বইয়ের ভাষ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ঐতিহাসিক বোধ গড়ে দেয়; তাই এখানে আখ্যান বদল মানেই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব।
- সময়ের প্রেক্ষিত: নির্বাচনোত্তর জাতীয় রাজনীতিতে আদর্শগত মেরুকরণ বাড়ার সঙ্গে শিক্ষাসংস্করণকে ‘আইডিওলজিক্যাল ব্যাটলগ্রাউন্ড’ বানানোর অভিযোগ প্রবল।
- দেশভাগের স্মৃতি: দেশভাগ ভারত–পাকিস্তান–বাংলাদেশ— তিন উপমহাদেশেরই আঘাত ও স্মৃতির রাজনীতি; দায়বণ্টনের ভাষ্যে সামান্য সরে গেলেও জনমত উত্তাল হয়।
সামনে কী? (Ncert Book Controversy)
- বিরোধী শিবির পাঠ্যসূচি পুনর্বিবেচনা ও বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের দাবি তুলতে পারে।
- এনসিইআরটি চাইলে নতুন সংস্করণ প্রকাশের আগে মতামত আহ্বান, পাবলিক কনসালটেশন বা ব্যাখ্যাপত্র জারি করতে পারে— যাতে বিতর্ক প্রশমিত হয়।
- রাজ্য বোর্ডগুলি চাইলে সম্পূরক রিডিং লিস্ট বা কাউন্টার-রিসোর্স যোগ করতে পারে, যাতে শিক্ষার্থীরা বহুমত জানতে পারে।
দেশভাগের দায় ‘তিন শক্তি’র কাঁধে সমানভাবে চাপানো— এই এক বাক্যে ভারতের আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে জটিল অধ্যায়কে মাপা যায় কি? বিরোধীরা বলছে, না(Ncert Book Controversy)। এনসিইআরটি-র এই প্রস্তাব জনসমক্ষে আলোচনার টেবিলে এসেছে— এখন চোখ থাকছে তাদের আধিকারিক ব্যাখ্যা, এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বহুমাত্রিক আখ্যান ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি কতটা বজায় থাকে, তার দিকে।


