Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : হরিয়ানার পরিচিত সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার জ্যোতি মলহোত্রাকে(Jyoti Malhotra) ঘিরে এক চাঞ্চল্যকর গুপ্তচরবৃত্তি কাণ্ডের তথ্য প্রকাশ করল বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্ত জ্যোতির বিরুদ্ধে ২৫০০ পাতার বিশদ চার্জশিট আদালতে পেশ করেছে SIT, যেখানে একাধিক বিস্ফোরক দাবি করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, পাকিস্তানি গোয়েন্দারা তাঁকে “টুল কিট” হিসেবে ব্যবহার করে ভারতের সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছিল।
পাকিস্তানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে সরাসরি যোগসাজশ (Jyoti Malhotra)
SIT-এর চার্জশিটে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সফরের সময় থেকেই জ্যোতির সঙ্গে পাক এজেন্টদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে(Jyoti Malhotra)। তাঁর মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য প্রমাণ করে, তিনি দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের কর্মী দানিশ আলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। শুধু দানিশ নয়, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে যুক্ত শাকির, হাসান আলি এবং নাসির ধিঁলোর সঙ্গেও তাঁর সরাসরি কথোপকথন ছিল।
নাসির ধিঁলোর সঙ্গে জ্যোতির যে একাধিক কথোপকথনের রেকর্ড SIT-এর হাতে এসেছে, তাতে গোয়েন্দারা নিশ্চিত যে, এই যোগাযোগ শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ছিল না—বরং সুসংগঠিত তথ্য আদানপ্রদানের অংশ ছিল। চার্জশিটে এমনকি কিছু কথোপকথনের প্রতিলিপিও সংযোজিত হয়েছে, যা পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের কৌশল ও নির্দেশনার ছাপ বহন করছে।
ঘন ঘন বিদেশযাত্রায় সন্দেহ (Jyoti Malhotra)
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, জ্যোতির ঘন ঘন বিদেশ সফর ছিল বিশেষভাবে সন্দেহজনক। প্রতিবার সফরের সময় তিনি পাকিস্তানি সংযোগদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করতেন বলে ধারণা SIT-এর। এই ভ্রমণগুলির বেশ কয়েকটি ছিল কোনও অফিসিয়াল বা পর্যটন উদ্দেশ্যে নয়, বরং যোগাযোগ রক্ষা ও গোপন বৈঠকের জন্য পরিকল্পিত(Jyoti Malhotra)।
চার্জশিটে বলা হয়েছে, বিদেশ সফরের সময় তিনি বিভিন্ন কোডেড মেসেজ এবং এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে পাক এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। এই যোগাযোগের মাধ্যমে ভারতের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত, কূটনৈতিক এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন তথ্য বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

গ্রেফতার ও তদন্তের বর্তমান অবস্থা (Jyoti Malhotra)
গত ১৬ মে জ্যোতি মলহোত্রাকে হরিয়ানা পুলিশ গ্রেফতার করে(Jyoti Malhotra)। এরপর থেকে তিনি বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। SIT ইতিমধ্যেই তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট, ই-মেইল এবং কল রেকর্ড খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীদের মতে, তাঁর আর্থিক লেনদেনের মধ্যেও বিদেশি ফান্ডিংয়ের ইঙ্গিত মিলেছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, জ্যোতি পাকিস্তানি এজেন্টদের থেকে একাধিক ‘উপহার’ এবং আর্থিক সুবিধা পেয়েছিলেন। কখনও তা ছিল নগদ অর্থ, কখনও বিদেশ সফরের খরচ বহন, আবার কখনও দামি গয়না ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস। এইসব প্রলোভনের বিনিময়ে তিনি সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহ করতেন বলে অভিযোগ(Jyoti Malhotra)।

আরও পড়ুন : Flood In Pakistan : পাকিস্তানে প্রবল বর্ষণ ও হড়পা বানে তীব্র বিপর্যয়, মৃত ২০০-র বেশি, নিখোঁজ আরও অনেকে
বৃহত্তর প্রেক্ষাপট ও নিরাপত্তা হুঁশিয়ারি (Jyoti Malhotra)
এই ঘটনা গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে (NIA India) আবারও সতর্ক করেছে যে, পাকিস্তানি গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক এখন সোশ্যাল মিডিয়াকে বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা লক্ষ্যবস্তু করছে জনপ্রিয় নেটপ্রভাবীদের, যাদের অনলাইন প্রভাব, যোগাযোগের ক্ষেত্র এবং ভ্রমণ স্বাধীনতা আছে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের ছদ্মাবরণে কিংবা আর্থিক প্রলোভন দিয়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করছে।
জ্যোতি মলহোত্রার ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত কয়েক মাসে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অন্তত ডজনখানেক ব্যক্তি পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন(Jyoti Malhotra)। তাদের মধ্যে রয়েছেন সেনা সদস্য, সরকারি কর্মচারী, এমনকি সাধারণ নাগরিকও।
গোয়েন্দাদের মতে, এই ধরনের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এখন জাতীয় নিরাপত্তার অগ্রাধিকার, কারণ সীমান্ত পেরিয়ে চলা এই গুপ্তচরবৃত্তি শুধু সামরিক নয়, বরং কূটনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রেও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।


