Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নিউ ইয়র্ক সিটির রাজনীতিতে ইতিহাস গড়লেন (New York) ভারতীয় বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট নেতা জোহরান মমদানি(Zohran Mamdani)।
মীরা নায়ারের পুত্র জোহরান (New York)
প্রখ্যাত ভারতীয় চিত্র পরিচালক মীরা নায়ারের পুত্র (New York) জোহরান। সোমালিয়ায় জন্ম, উগান্ডা ও ভারতীয় বাবা-মার সন্তান জোহরান অবশেষে মার্কিন এক শহরের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে তিনি রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীকে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে নিউ ইয়র্কের ১১১তম মেয়র নির্বাচিত হন।
‘সবার জন্য শহর, কেবল ধনীদের নয়’ (New York)
মমদানি, যিনি নিউ ইয়র্কের অ্যাস্টোরিয়া এলাকা থেকে রাজনীতিতে (New York) উত্থান ঘটিয়েছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে শহরের ভাড়া বৃদ্ধি, পুলিশ সংস্কার ও জলবায়ু ন্যায়বিচার নিয়ে কাজ করেছেন। তাঁর প্রচার স্লোগান ছিল— ‘A city for all, not for the few’—অর্থাৎ ‘সবার জন্য শহর, কেবল ধনীদের নয়।’
নিউ ইয়র্কের কনিষ্ঠতম মেয়র
৩৪ বছর বয়সী মমদানি নিউ ইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম দক্ষিণ এশীয় ও মুসলিম বংশোদ্ভূত ব্যক্তি হিসেবে মেয়র পদে নির্বাচিত হলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিজয় শহরের জনসংখ্যাগত ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিফলন। অভিবাসী, শ্রমজীবী ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা এই জয়কে সম্ভব করেছে। আগামী বছর ১ জানুয়ারি নিউ ইয়র্কের মেয়র হিসাবে শপথ নেবেন মমদানি। ৩৪ বছর বয়সি এই ভারতীয় বংশোদ্ভূতই হবেন গত ১০০ বছরেরও বেশি সময়ের ইতিহাসে নিউ ইয়র্কের কনিষ্ঠতম মেয়র।
ব্যর্থ ট্রাম্পের চোখরাঙানি
নির্বাচনের পর বক্তব্যে মমদানি বলেন, “নিউ ইয়র্ক এমন এক শহর, যেখানে প্রত্যেকে নিজের স্বপ্ন গড়ে তুলতে পারে। আজ আমরা প্রমাণ করলাম, রাজনীতি ধনীদের হাতে সীমাবদ্ধ নয়।” ডেমোক্র্যাট এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে টানা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার ভোটপর্ব শুরু হওয়ার কয়েকঘণ্টা আগেই ট্রাম্প কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোহরান মমদানি বিজয়ী হলে তিনি নিউ ইয়র্ক শহরকে বাড়তি অর্থ সহায়তা করা বন্ধ করে দেবেন।’ পাল্টা মমদানিও বলেছিলেন, ,‘ট্রাম্প বুঝে গিয়েছেন, নিউ ইয়র্কবাসী এ বার পরিবর্তন চাইছেন। এই হুমকি শুধু আমার বিরুদ্ধে নয়, বরং নিউ ইয়র্কের মানুষের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার এক প্রচেষ্টা।’
আরও পড়ুন: November Horoscope: নভেম্বরজুড়ে কুম্ভ রাশির জীবনে কী চলবে?
প্রগতিশীল শক্তির পুনরুত্থানের ইঙ্গিত
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মমদানির জয় মার্কিন রাজনীতিতে প্রগতিশীল শক্তির পুনরুত্থানের ইঙ্গিত দেয়। তাঁর মেয়াদকালে সাশ্রয়ী বাসস্থান, গণপরিবহন উন্নয়ন ও জলবায়ু অভিযোজন প্রকল্পে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিউ ইয়র্কবাসীর কাছে মমদানির এই বিজয় শুধু একটি নির্বাচন নয়—বরং এক বহুসাংস্কৃতিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক শহরের স্বপ্নের প্রতিফলন।


