Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নোবেল শান্তি পুরস্কার বিশ্ব রাজনীতিতে শুধুমাত্র একটি সম্মাননা নয় ( Donald Trump), এটি এক ধরনের নৈতিক স্বীকৃতি। শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা ব্যক্তি বা সংস্থাকে এই পুরস্কার প্রদান আন্তর্জাতিক স্তরে একটি বার্তা বহন করে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনায় দেখা গেল, এই পুরস্কারকে কেন্দ্র করেই সৃষ্টি হয়েছে তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক চিঠিকে ঘিরে নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের সূক্ষ্ম সুতো যেন আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

নরওয়ে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান ( Donald Trump)
নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্তোরে দৃঢ় কণ্ঠে জানিয়ে দেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে নরওয়ে সরকারের কোনও ভূমিকা নেই। তাঁর কথায়, “নোবেল পুরস্কার একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন নোবেল কমিটি প্রদান করে। নরওয়ে সরকার বা কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্তোরে কার্যত ট্রাম্পের অভিযোগ খারিজ করে দেন। তিনি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর সরাসরি টেক্সট মেসেজে এই বিষয়টি পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
শান্তির বদলে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ( Donald Trump)
ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিঠি কেবল হতাশার প্রকাশ নয়, বরং তা এক ধরনের চাপ সৃষ্টির কৌশল বলেই অনেক কূটনীতিক মনে করছেন। চিঠিতে ট্রাম্প দাবি করেন, “আপনাদের দেশ আটটিরও বেশি যুদ্ধ থামানোর জন্য আমাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই আমি আর বিশ্বশান্তির কথা ভাবতে বাধ্য নই।” এই মন্তব্যে একদিকে যেমন ব্যক্তিগত ক্ষোভ ফুটে ওঠে, অন্যদিকে তেমনই বিশ্বশান্তির ধারণাকে কার্যত শর্তসাপেক্ষ করে তোলার ইঙ্গিতও স্পষ্ট।

পুরস্কার থেকে ভূখণ্ড দখলের যুক্তি ( Donald Trump)
চিঠির সবচেয়ে বিস্ফোরক অংশ ছিল গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত মন্তব্য। ডেনমার্কের অধীন স্বায়ত্তশাসিত এই ভূখণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি ট্রাম্প আগেও তুলেছেন। এবার তিনি সেই দাবিকে আরও আক্রমণাত্মক ভাষায় পেশ করেন। ট্রাম্পের যুক্তি, ডেনমার্ক রাশিয়া বা চীনের হাত থেকে গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করতে অক্ষম, গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের মালিকানার ঐতিহাসিক ভিত্তি দুর্বল, যুক্তরাষ্ট্রের “পূর্ণ ও সর্বাত্মক নিয়ন্ত্রণ” ছাড়া বিশ্ব নিরাপদ নয়, এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রসার্বভৌমত্বের মৌলিক নীতিকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।
শুল্ক-রাজনীতির হুমকি ( Donald Trump)
নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের নেতারা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শুল্ক বৃদ্ধির বিরোধিতার জন্য ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু আলোচনার পথ ছেড়ে ট্রাম্প বেছে নেন হুমকির কৌশল। তিনি স্পষ্ট জানান, গ্রিনল্যান্ড কেনার অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর ধাপে ধাপে শুল্ক আরোপ করা হবে। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে এবং আটলান্টিক পারাপারের মিত্রতার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
ন্যাটো, রাশিয়া ও চীনের প্রসঙ্গ ( Donald Trump)
ট্রাম্প তাঁর সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দাবি করেন, ন্যাটো দীর্ঘদিন ধরেই ডেনমার্ককে গ্রিনল্যান্ড সংলগ্ন অঞ্চলে রুশ হুমকি মোকাবিলার কথা বলে আসছে, কিন্তু ডেনমার্ক ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর মতে, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

আরও পড়ুন: Mumbai: মুম্বইয়ে ফের রিসর্ট রাজনীতি: বিএমসি জিততে প্রতিনিধিদের পাঁচতারা হোটেলে পাঠাল শিন্ডে শিবসেনা
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জবাব
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড উভয় পক্ষই ট্রাম্পের বক্তব্য দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের অবস্থান পরিষ্কার, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চায় না, এই ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার গ্রিনল্যান্ডবাসীর, এই অবস্থান আন্তর্জাতিক সমাজের কাছেও ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে।



