Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতীয় রেলের আধুনিকীকরণের প্রতীক হিসেবে বন্দে ভারত ট্রেন ইতিমধ্যেই যাত্রীদের মধ্যে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে (Vande Bharat Sleeper)। দ্রুতগতি, উন্নত পরিষেবা এবং স্বল্প সময়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম সব মিলিয়ে এই ট্রেনকে ঘিরে প্রত্যাশা বরাবরই বেশি। সেই প্রত্যাশার তালিকায় এবার যুক্ত হল আরও এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খাদ্যাভ্যাসের স্বাধীনতা। দীর্ঘ বিতর্কের পর অবশেষে বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসে আমিষ খাবার পরিবেশনের সিদ্ধান্ত নিল রেল দফতর।

আধুনিক রেলের নতুন অধ্যায় (Vande Bharat Sleeper)
২৩ জানুয়ারি থেকে যাত্রা শুরু করা বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসকে ভবিষ্যতের দূরপাল্লার ট্রেন হিসেবে তুলে ধরেছে রেল মন্ত্রক। এই ট্রেনে রয়েছে আধুনিক শয়নকক্ষ, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় দরজা, বায়ো-টয়লেট এবং উন্নত ক্যাটারিং পরিষেবার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের পাশাপাশি যাত্রীদের সাংস্কৃতিক ও দৈনন্দিন অভ্যাসের প্রতিফলন ঘটানোও যে সমান জরুরি, তা প্রাথমিকভাবে গুরুত্ব পায়নি।
খাদ্যতালিকা ঘোষণা ও প্রথম বিতর্ক (Vande Bharat Sleeper)
ট্রেন চালুর আগে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বন্দে ভারত স্লিপারের সম্ভাব্য খাদ্যতালিকা প্রকাশ করেন। সেখানে আঞ্চলিক স্বাদের উপর জোর দেওয়া হয়। হাওড়া থেকে ছাড়া ট্রেনে বাঙালি রান্না এবং অসম থেকে হাওড়াগামী ট্রেনে অসমের ঐতিহ্যবাহী খাবারের কথা বলা হয়। শুনতে আকর্ষণীয় হলেও সমস্যার জায়গা ছিল একটাই গোটা মেনুই ছিল নিরামিষ। ভারতের মতো বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক দেশে খাদ্যাভ্যাস শুধুই স্বাদ নয়, বরং সামাজিক পরিচয়ের অংশ। ফলে আমিষের অনুপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তোলে।
বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতি ও আমিষ প্রসঙ্গ (Vande Bharat Sleeper)
বাংলার খাদ্যসংস্কৃতিতে মাছ, মাংস ও ডিমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। দৈনন্দিন আহার থেকে শুরু করে উৎসব সব ক্ষেত্রেই আমিষ একটি স্বাভাবিক উপাদান। সেই বাংলার মাটি ছুঁয়ে চলা ট্রেনে যদি আমিষ না থাকে, তবে তা অনেকের কাছেই সাংস্কৃতিক বঞ্চনার মতো ঠেকে। এই কারণেই প্রশ্ন ওঠে, এ কি শুধুই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, না কি নিরামিষ ভাবধারাকে ঘুরপথে চাপিয়ে দেওয়া?
কেন্দ্রের অবস্থান বদল (Vande Bharat Sleeper)
বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখন হস্তক্ষেপ করেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত ভট্টাচার্য। তিনি প্রকাশ্যে বন্দে ভারত স্লিপারে আমিষ খাবারের পক্ষে সওয়াল করেন। এরপরই রেল দফতরের অন্দরমহলে আলোচনা শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত ‘নন-ভেজ অপশন’ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রবিবার বাজেট সংক্রান্ত সাংবাদিক বৈঠকে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব নিজেই জানান, বন্দে ভারত স্লিপারে এবার থেকে আমিষ খাবার মিলবে।
প্রশাসনিক বাস্তবতা (Vande Bharat Sleeper)
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে ভোটমুখী বাংলার বাস্তবতা। বাংলায় খাদ্যাভ্যাস একটি আবেগঘন বিষয়, এবং এই বিষয়ে অসন্তোষ তৈরি হলে তার রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সম্ভবত বুঝেছে, যাত্রী অসন্তোষ উপেক্ষা করলে তা ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সময় থাকতেই অবস্থান বদল।

আরও পড়ুন: Weather Kolkata: কুয়াশার দাপটে বিপর্যস্ত বিমান পরিষেবা, বিপদের মুখে দিল্লির রাস্তা
যাত্রীস্বার্থে সিদ্ধান্ত, না চাপের ফল?
এই সিদ্ধান্তকে একদিকে যেমন যাত্রীস্বার্থে ইতিবাচক পদক্ষেপ বলা যায়, তেমনই অন্যদিকে প্রশ্ন থেকেই যায় এই পরিবর্তন কি আদৌ স্বতঃপ্রণোদিত ছিল? নাকি রাজনৈতিক চাপই শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করল? যাই হোক, বাস্তব ফলাফলে খুশি সাধারণ যাত্রীরা। দীর্ঘ যাত্রাপথে নিজের পছন্দমতো খাবার পাওয়ার সুযোগ যে যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্য বাড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।



