Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিশ্ব রাজনীতিতে যখন একের পর এক ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত সামনে আসছে, তখন পূর্ব এশিয়াতেও নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে (North Korea)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া ঘিরে আবারও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে উত্তর কোরিয়া। সেই ক্ষোভের প্রকাশ ঘটল সরাসরি সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে। উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন-এর নির্দেশে জাপান সাগর লক্ষ্য করে পরপর ১০টি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এই ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো প্রতিবেশী দেশগুলিতে।

ছোড়া হল একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র (North Korea)
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফ সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর প্রায় ১টা ২০ মিনিট নাগাদ উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ং-এর সুনান এলাকা থেকে একাধিক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয় (North Korea)। এগুলি জাপান সাগরের দিকে ছোড়া হয়েছিল এবং পরে গিয়ে জাপানের সমুদ্রসীমার কাছাকাছি এক্সক্লুসিভ ইকোনোমিক জোনে (EEZ) গিয়ে পড়ে। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উদ্ধৃতি দিয়ে সে দেশের সংবাদমাধ্যমও জানিয়েছে যে উত্তর কোরিয়ার ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলির কয়েকটি জাপানের নিকটবর্তী সমুদ্রে আছড়ে পড়ে। ফলে এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছে জাপান সরকার। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এটি তৃতীয়বার যখন উত্তর কোরিয়া প্রতিবেশী দেশের খুব কাছাকাছি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পরেই কিমের শক্তি প্রদর্শন (North Korea)
এই ঘটনার সময়কাল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। কারণ তার ঠিক একদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠকে তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতা
কিম জং উন-এর সঙ্গে নিজের সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, কিমের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো এবং ভবিষ্যতে তিনি আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সমাধানের পক্ষপাতী। কিন্তু সেই মন্তব্যের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উত্তর কোরিয়ার তরফে ১০টি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ অনেকের কাছে স্পষ্ট বার্তা বহন করছে কিম আপাতত কোনও আলোচনার পথে হাঁটতে আগ্রহী নন।

জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় হাই অ্যালার্ট (North Korea)
উত্তর কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরই সতর্ক হয়ে উঠেছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। দুই দেশেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা শুধু সামরিক শক্তি প্রদর্শনের জন্য নয়, বরং কূটনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেও ব্যবহার করে উত্তর কোরিয়া।
আরও পড়ুন: Rail Death AI: রেললাইনে বন্যপ্রাণীর মৃত্যু রোধ, AI ব্যবহারের সিদ্ধান্ত রেলমন্ত্রকের
মহড়াই কি আসল কারণ?
কূটনৈতিক মহলের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের মূল কারণ হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া স্বাধীনতা ঢাল। এই মহড়া শুরু হয়েছে ৯ মার্চ এবং তা চলবে ১৯ মার্চ পর্যন্ত। এই মহড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার সমুদ্র এলাকায় বিপুল সংখ্যক মার্কিন ও দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নিচ্ছেন। আধুনিক যুদ্ধ কৌশল, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যৌথ সামরিক অভিযান অনুশীলনের জন্য এই মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। তবে উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে এই ধরনের সামরিক মহড়া আসলে তাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি। তাদের দাবি, সামরিক মহড়ার আড়ালে অস্ত্র পরীক্ষা এবং যুদ্ধ কৌশল বাস্তবে প্রয়োগের অনুশীলন করা হয়।



