Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: নতুন যুদ্ধজাহাজ সমুদ্রে নামানোর আগেই ঘটে গেল চাঞ্চল্যকর দুর্ঘটনা। উল্টে গেল উত্তর কোরিয়ার সদ্য তৈরি ৫,০০০ টনের রণতরী (North Korea Warship)। আর এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত দেশের একনায়ক শাসক কিম জং উন। সামরিক মর্যাদায় আঘাত এসেছে বলে এই ঘটনাকে ‘অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন কিম। ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে শীর্ষ সামরিক কর্তাসহ মোট চার জনকে।
কোথায় ঘটেছে ঘটনাটি? (North Korea Warship)
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর কোরিয়ার উত্তর-পূর্বের চংজ়িন বন্দরে, যেখানে যুদ্ধজাহাজটি নির্মিত হয়েছিল (North Korea Warship)। গত সপ্তাহে সেই জাহাজ সমুদ্রে নামানোর কথা ছিল। কিন্তু নামানোর মুহূর্তেই জাহাজটি ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয় জাহাজের কাঠামোর একটি বড় অংশ। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে চংজ়িন বন্দরের তিন আধিকারিককে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু সোমবার পরিস্থিতি আরও নাটকীয় রূপ নেয়, যখন উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি’ (KCNA) জানায়, গ্রেফতার করা হয়েছে যুদ্ধসরঞ্জাম দফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর রি হং-সনকে।
‘সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন’(North Korea Warship)
রি হং-সন শুধু একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা নন, তিনি উত্তর কোরিয়ার ‘সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন’-এর সদস্য (North Korea Warship)। এই কমিশনের হাতেই থাকে দেশের সেনাবাহিনীর মূল নিয়ন্ত্রণ এবং সামরিক নীতি নির্ধারণের দায়িত্ব। ফলে হং-সনের গ্রেফতারি এই বিপর্যয়ের গুরুত্ব ও সরকারের প্রতিক্রিয়া কতটা গভীর, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। কিম জং উনের মন্তব্যে উঠে এসেছে প্রবল অসন্তোষ। তিনি এই দুর্ঘটনাকে বলেছেন, “একটি দায়িত্বজ্ঞানহীন, অসাবধান এবং অবৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার ফল।” তাঁর মতে, এই ঘটনা দেশের সামরিক গৌরব ও সম্মানে আঘাত হেনেছে।

আরও পড়ুন: Aseefa Bhutto Zardari :জনতার রোষের মুখে পাক প্রেসিডেন্টের কন্যা আসিফা ভুট্টো! আক্রান্ত কনভয়
সামরিক খাত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার(North Korea Warship)
বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর কোরিয়ায় সামরিক খাত সবসময়ই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায় (North Korea Warship)। সেখানে সামান্য ব্যর্থতাও ক্ষমার অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। ফলে এই দুর্ঘটনায় জড়িতদের জন্য কঠিন পরিণতির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অতীতে উত্তর কোরিয়ায় সরকারি কর্মকর্তাদের মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে এমন ঘটনায়। বিবিসি জানিয়েছে, চংজ়িন বন্দর থেকে যুদ্ধজাহাজ নামানোর সময় কী ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি ঘটেছিল, তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি। উত্তর কোরিয়া সাধারণত তাদের অভ্যন্তরীণ তথ্য কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত রাখে। ফলে এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পরিণতি কী হবে, তা স্পষ্ট নয়।

আরও পড়ুন:Spy Arrest In Rajasthan : পাক গুপ্তচর সন্দেহে ধৃত আরও ১, পাকিস্তানে ফোন, কাদের সঙ্গে যোগাযোগ?
সামরিক উন্নয়নের ওপর জোর(North Korea Warship)
উল্লেখযোগ্যভাবে, কিম জং উন (Kim Jong-un) নিজেই সামরিক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নতুন রণতরী নির্মাণ ও পরীক্ষার দিকে মনোযোগী হয়েছেন (North Korea Warship)। এই প্রেক্ষাপটে এমন একটি দুর্ঘটনা শুধু প্রযুক্তিগত নয়, রাজনৈতিকভাবেও বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। এখন সকলের নজর কিম সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। রি হং-সন এবং বাকিদের বিরুদ্ধে কী শাস্তি নির্ধারিত হয়, তা থেকেই পরিষ্কার হবে—উত্তর কোরিয়া এই ব্যর্থতার প্রতিক্রিয়ায় কতটা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে।


