Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ধর্ষণ মামলায় জামিন পাওয়ার পর আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে ফের শিরোনামে উঠে এলেন দুই বাংলার পরিচিত গায়ক মইনুল আহসান নোবেল (Mainul Ahsan Noble)। তাঁর মন্তব্য “মানুষ মাত্রই ভুল করে, একবার ভুল করেছি, আবারও হতে পারে” শুধু আইনি লড়াই নয়, নৈতিকতা ও জনমতের প্রশ্নও নতুন করে উসকে দিয়েছে। নিচে গোটা ঘটনাপ্রবাহ ও তার সামাজিক তাৎপর্য বিশদে আলোচনা করা হল।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে নোবেল (Mainul Ahsan Noble)
গত বছরের ১৩ আগস্ট এক তরুণী অভিযোগ করেন, তাঁকে নিজের স্টুডিওতে আটকে রেখে হেনস্তা করেছেন নোবেল। অভিযোগ অনুযায়ী, আপত্তিকর ছবি তোলার মতো গুরুতর ঘটনাও ঘটেছে। সেই মামলায় সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জ থানা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতে জামিন পান তিনি। কিন্তু আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন তাঁর প্রতিক্রিয়াই এখন বেশি আলোচিত। আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে গান গাওয়া এবং অনুশোচনার বদলে “আবারও হতে পারে” ধরনের মন্তব্য এই আচরণ জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
শব্দচয়নের বিতর্ক (Mainul Ahsan Noble)
নোবেলের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট তিনি ঘটনাকে ‘ভুল’ হিসেবে ব্যাখ্যা করতে চাইছেন। কিন্তু সমাজবিজ্ঞানীরা বারবার বলেছেন, ব্যক্তিগত ভুল ও ফৌজদারি অপরাধের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। ধর্ষণ বা যৌন হেনস্তার মতো অভিযোগ শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বিচ্যুতি নয়; তা আইনের চোখে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই ধরনের অভিযোগকে ‘মানবিক ভুল’ বলে হালকা করে দেখার প্রবণতা ভুক্তভোগীর মানসিক আঘাতকে আরও গভীর করতে পারে।
বিতর্কের দীর্ঘ ইতিহাস (Mainul Ahsan Noble)
নোবেলের ক্ষেত্রে এটি প্রথম বিতর্ক নয়। অতীতে শ্লীলতাহানি, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মারধর, এমনকি পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তাঁর বিতর্কিত মন্তব্যও বহুবার জনরোষ ডেকে এনেছে বিশেষত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্পর্কে অশালীন মন্তব্যের ঘটনায় তিনি তুমুল সমালোচিত হন। ফলে জনসমক্ষে তাঁর ভাবমূর্তি আগেই প্রশ্নের মুখে ছিল।
অনুতাপহীনতার বার্তা (Mainul Ahsan Noble)
সাধারণত জনসমালোচনার মুখে পড়লে শিল্পী বা জননেতারা অনুশোচনার ভাষা ব্যবহার করেন আইন ও সমাজের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য। কিন্তু নোবেলের বক্তব্যে সেই সুর অনুপস্থিত। বরং তিনি বলেন, “দর্শক-শ্রোতারা আমাকে বোঝেন, ওরা আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।” এই মন্তব্যে যেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এক ধরনের দায় এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাও ধরা পড়ে। যেন জনসমর্থন থাকলেই নৈতিক দায় লঘু হয়ে যায় এমন এক বিপজ্জনক বার্তা এতে নিহিত।
সমাজের দ্বন্দ্ব (Mainul Ahsan Noble)
প্রশ্ন উঠছে একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবন ও তাঁর শিল্পকে কি আলাদা করে দেখা যায়? ইতিহাসে বহু শিল্পীর জীবন বিতর্কিত হলেও তাঁদের সৃষ্টিকর্ম টিকে গেছে। কিন্তু বর্তমান সময় সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ; ব্যক্তির আচরণ মুহূর্তে জনসমক্ষে পৌঁছে যায়। ফলে শিল্পীর সামাজিক দায়ও আগের তুলনায় অনেক বেশি। নোবেলের ক্ষেত্রেও এই দ্বন্দ্ব প্রকট। তাঁর কণ্ঠ ও জনপ্রিয়তা একদিকে, অন্যদিকে বারবার ওঠা অভিযোগ ও বিতর্ক দর্শক কি কেবল শিল্পকেই মূল্য দেবে, নাকি শিল্পীর চরিত্রকেও বিবেচনায় আনবে?
আরও পড়ুন: Suniti Kum ar Chatterjee: মহাগ্রন্থের শতবর্ষ! ‘ও-ডি-বি-এল’এই বই বাঙালির আত্মপরিচয়ের শিকড়
আইনি প্রক্রিয়া ও নৈতিক প্রশ্ন
এখনও মামলার বিচার সম্পূর্ণ হয়নি। আইন অনুযায়ী, আদালত চূড়ান্ত রায় না দেওয়া পর্যন্ত কেউ দোষী নন। কিন্তু জনমত গঠনের ক্ষেত্রে নৈতিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তা কেবল একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত পতন নয় বরং সমাজে নারীর নিরাপত্তা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং তার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আর যদি অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবুও তাঁর মন্তব্য নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা তাঁর জন-ভাবমূর্তিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে।



