Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ে পাকিস্তানকে সহায়তা করেছিল চিন—ভারতীয় সেনার শীর্ষ কর্তার এই বক্তব্য ঘিরে জোর বিতর্কের মধ্যে মুখ খুলল বেজিং(Operation Sindoor)। সরাসরি ভারতীয় সেনার (INDIAN ARMY) ডেপুটি চিফ অফ আর্মি স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল আর সিংহের দাবি নস্যাৎ করে চিন জানিয়েছে, তারা কখনও কোনও তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা করে না।
চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং মঙ্গলবার বলেন, “চিন ও পাকিস্তান ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী। আমাদের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা স্বাভাবিক বিষয়। তবে তা কখনওই কোনও তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে নয়।” তিনি আরও বলেন, “চিন সব সময় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংলাপ এবং আলোচনা দিয়ে মতপার্থক্য মেটানোর পক্ষপাতী। আমরা গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে আগ্রহী।”
ভারতীয় সেনার দাবি (Operation Sindoor)
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরিপ্রেক্ষিতে এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল আর সিংহ বলেন, “সীমান্তে আমরা তিনটি শক্তির মুখোমুখি হয়েছিলাম—পাকিস্তান, চিন এবং তাদের প্রযুক্তিগত সমর্থন(Operation Sindoor)। পাকিস্তান সামনে ছিল, কিন্তু সব রকম সাহায্য করছিল চিন। পাকিস্তানের ৮১ শতাংশ মিলিটারি হার্ডঅয়্যার আসে চিন থেকে। তারা চিনা অস্ত্রের পরীক্ষাগার হয়ে উঠেছে। চিন নিজের নতুন প্রযুক্তি পাকিস্তানে ব্যবহার করে তার কার্যকারিতা যাচাই করে।”
বেজিংয়ের পাল্টা অবস্থান (Operation Sindoor)
চিন অবশ্য এই দাবি পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে। মাও নিং-এর বক্তব্যে স্পষ্ট, চিন তাদের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে স্বাভাবিক ও দুই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মনে করে। তাঁরা বারবার উল্লেখ করেছেন, কোনও তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে কিছুই করা হয়নি।

বাস্তব চিত্র কী বলছে? (Operation Sindoor)
ডেটা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৫ সাল থেকে পাকিস্তানে চিনের অস্ত্র রফতানির পরিমাণ ৮০০ কোটি ডলারের বেশি(Operation Sindoor)। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চিন ছিল বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অস্ত্র রফতানিকারক দেশ। তার ৬৩ শতাংশ রফতানি গিয়েছে পাকিস্তানে।
পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর বহু যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং নজরদারি প্রযুক্তি আসে চিন থেকেই। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের একাধিক সামরিক পরিকল্পনায় চিনের অব্যক্ত ‘কারিগরি সহায়তা’র প্রমাণ আন্তর্জাতিক রিপোর্টে বারবার উঠে এসেছে।

পাকিস্তানের পরোক্ষ স্বীকারোক্তি (Operation Sindoor)
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সম্প্রতি এক বিবৃতিতে স্বীকার করেছিলেন, সংঘর্ষের সময় চিনের তরফে ‘গোয়েন্দা তথ্য সহায়তা’ পাওয়া গিয়েছে। তবে চিন সেই দাবির ব্যাখ্যায় এখন কূটনৈতিকভাবে সাবধান, সরাসরি স্বীকার বা অস্বীকার—কোনোটাই করছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত (Operation Sindoor)
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, চিনের অবস্থান এখন আগের থেকে অনেক বেশি কৌশলী। দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে তারা পাকিস্তানকে সামরিক সহায়তা দেয় ঠিকই, তবে আন্তর্জাতিক স্তরে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রাখতে ভারত-বিরোধী কোনও খোলামেলা অবস্থান নিতে চায় না(Operation Sindoor)।
ভারতের তরফে চিনকে কার্যত ‘পাকিস্তানের প্রযুক্তি সরবরাহকারী’ বলার জেরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উত্তেজনা নতুন করে উসকে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে প্রকাশ্যে চিন এখনো শান্তিই কামনা করছে। ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে এই উত্তপ্ত অবস্থানে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি আরও চাপে বলেই মত আন্তর্জাতিক মহলের।


