Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: বসন্তের বিকেলে (Paharpur) মনটা কেমন পালাই পালাই করে। মনে হয় রাঙামাটির পথ ধরে যদি পলাশের বনে হারিয়ে যাওয়া যায়? তবে যেতে পারেন পুরুলিয়ার কাশীপুরের কাছে অবস্থিত পাহাড়পুর নামক গ্রামে। এই ছোট্ট জনপদে রয়েছে উজাড় করা প্রকৃতির এক অপূর্ব রূপ। এখানে ঢেউখেলানো মালভূমি, চাষের ক্ষেত, এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রা আপনাকে স্বাগত জানায়। বিলাসবহুলতা বা বৈভবের অভাব সত্ত্বেও এখানে কাটানো দিনগুলো একদম বিশেষ।
রক্তাভ পলাশের আভা (Paharpur)
বসন্তের সময়ে পাহাড়পুরে আসলে আপনি (Paharpur) প্রকৃতির রূপবদলের সাক্ষী হতে পারবেন। এই সময় এখানে রক্তাভ পলাশের রঙের আগুনে জ্বলতে থাকে চারপাশ। পুরুলিয়ার আনাচেকানাচে রয়েছে ইতিহাস, ঝর্ণা, রাজবাড়ি, পাহাড় এবং আরও অনেক কিছু। তবে যদি আপনি নির্জনতায় থাকতে চান এবং প্রকৃতির সঙ্গ উপভোগ করতে চান, তাহলে পাহাড়পুর আদর্শ জায়গা।
পাহাড়পুর থেকে যাবেন কোথায়? (Paharpur)
পাহাড়পুর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে রয়েছে সোনাঝুরির (Paharpur) জঙ্গল, যেখানে যাওয়ার পথে রোদে ঝকমক করা পাথরের টুকরো দেখা যাবে। এখানে অভ্রের খনি ছিল, যা বর্ষার পরে জলমগ্ন হয়ে একটি সুন্দর জলাশয়ে পরিণত হয়। সেখান থেকে একটু দূরে চলে গেলেই আপনি সোনাঝুরির বন পাবেন, যা শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরির জঙ্গলের সঙ্গে তুলনা করা যায়।
আরও পড়ুন: Marriage Ritual: বিয়ের পর ৩ দিন শৌচালয় নিষিদ্ধ, না মানলেই ভাঙবে বিয়ে!
সবুজ টিলার উপর গ্রাম
বিকেলবেলা পাহাড়পুরে ফিরে আপনি গ্রামের মধ্যে থাকা পাহাড়ে উঠতে পারেন। যদিও এটি পাহাড় নয়, বরং একটি টিলা, তবে এর শীর্ষ থেকে পুরো পাহাড়পুরের দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হতে হবে। এখানে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে নির্মিত সেমাফোর টাওয়ারের ধ্বংসাবশেষও দেখতে পাবেন। এই টাওয়ারগুলো জরুরি বার্তা পাঠানোর জন্য ব্যবহার হতো।

শিবমন্দিরে গাজনের মেলা
রাতের সময় পাহাড়পুরের সৌন্দর্য একদম আলাদা। জ্যোৎস্নায় রাতের আকাশে তারা জ্বলজ্বল করে এবং দূষণমুক্ত আকাশে চাঁদের আলো সবকিছু ঢেকে রাখে। পরের দিন আপনি ইকো পাহাড় সংলগ্ন ইকো লেক দেখতে যেতে পারেন এবং বরুণেশ্বর শিবমন্দিরে গাজনের সময় বিশাল মেলার সাক্ষী হতে পারেন।
আরও পড়ুন: Fact Check: বাংলাদেশে আয়নাঘর নিয়ে হাসিনার স্বীকারোক্তির ভাইরাল ভিডিও আসলে ডিপফেক
রয়েছে ইকো রিসর্ট
পাহাড়পুরে এক বা দুই রাত কাটালে আশপাশের বিভিন্ন জায়গাও ঘুরে নেওয়া যাবে। বর্ষায় এখানকার সবুজ শ্যামল, আর পুজোর সময় কাশফুলের সৌন্দর্য আপনাকে আকৃষ্ট করবে। সময় থাকলে রঞ্জনডি ড্যাম বা যোগমায়া সরোবরও ঘুরে নিতে পারেন। থাকার জন্য এখানে একটি ইকো রিসর্ট রয়েছে। যদিও এখানে বৈভব নেই, তবে সাধারণভাবে যাপনের সবকিছুই এখানে পাওয়া যাবে।
আসবেন কীভাবে?
যানবাহনের ক্ষেত্রে, ট্রেনে আসলে ইন্দ্রবিল স্টেশনে নামতে হবে, তবে সব ট্রেন এখানে থামে না। অন্যথায়, আদ্রা স্টেশনে নেমে গাড়িতে ২৭ কিলোমিটার দূরে পাহাড়পুরে পৌঁছানো যাবে। কলকাতা থেকে সরাসরি গাড়িতে আসারও সুযোগ রয়েছে।


