Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র বরাবরই ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক হাতিয়ার হিসাবে বিবেচিত হয়েছে(Pak Saudi Defence Deal)। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের পর জল্পনা শুরু হয়েছে—ইসলামাবাদ কি তবে তার পরমাণু অস্ত্রনীতিতে পরিবর্তন আনছে? পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের দুই বিপরীতমুখী বক্তব্য সেই জল্পনাকেই আরও ঘনীভূত করেছে।
সৌদির সঙ্গে কৌশলগত চুক্তি (Pak Saudi Defence Deal)
সৌদি আরবে গিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) ‘কৌশলগত ও পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে সই করেন(Pak Saudi Defence Deal)। তাতে স্পষ্ট বলা হয়, দু’দেশের মধ্যে যে কোনও একটিকে যদি বাইরের শক্তি আক্রমণ করে, তবে সেটিকে উভয়ের বিরুদ্ধে আক্রমণ হিসেবে ধরা হবে। একইসঙ্গে সংকটকালে তারা একে অপরকে সামরিক সহায়তা দেবে।
এই ঘোষণা ঘিরেই প্রশ্ন উঠছে—সৌদি কি পাকিস্তানের পারমাণবিক ছাতার নীচে আশ্রয় নেবে?
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দ্বৈত বক্তব্য
চুক্তি ঘোষণার পর জিয়ো নিউজ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আসিফ বলেন—
“আমাদের কাছে যা আছে, যতটা ক্ষমতা আছে, এই চুক্তির অধীনে সবটাই ব্যবহার করা যাবে(Pak Saudi Defence Deal)।’’
এমনকি তিনি যোগ করেন, পাকিস্তান পরমাণু শক্তির ব্যবহার নিয়ে দায়িত্বশীল। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই রয়টার্স-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভিন্ন সুরে আসিফ বলেন,
“এই চুক্তির আওতায় পরমাণু অস্ত্র নেই। আগ্রাসনের জন্য এই চুক্তিকে ব্যবহার করার ইচ্ছা আমাদের নেই।”
দুই সাক্ষাৎকারের পরস্পরবিরোধী অবস্থান ইসলামাবাদের অবস্থানকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

আরও পড়ুন : US H-1B Visa : ট্রাম্পের নতুন নির্দেশে আতঙ্ক এইচ-১বি ভিসাধারীদের! সতর্ক মাইক্রোসফট, জেপি মর্গান ও অ্যামাজন
সরকার ও সেনার অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি(Pak Saudi Defence Deal)
পাকিস্তানের ডন সংবাদপত্র সরাসরি প্রশ্ন তোলে—কেন একই বিষয়ে দুই ভিন্ন বার্তা? বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র শফকত আলি খানকে বিষয়টি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন করা হলেও তিনি স্পষ্ট উত্তর দেননি(Pak Saudi Defence Deal)। বরং কূটনৈতিক কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ।
আঞ্চলিক রাজনীতির প্রেক্ষাপট(Pak Saudi Defence Deal)
পশ্চিম এশিয়ার একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ ইজরায়েল। সম্প্রতি দোহায় হামলার ঘটনায় আরব বিশ্ব ক্ষুব্ধ। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, পাকিস্তান-সৌদি চুক্তি আসলে ইজরায়েলকেই বার্তা দিচ্ছে। যদিও সরকারিভাবে ইসলামাবাদ সে দাবি অস্বীকার করছে(Pak Saudi Defence Deal)।
অন্যদিকে, সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য একটি প্রতিরক্ষা ঢাল খুঁজছিল। পাকিস্তানের সঙ্গে এই নতুন সম্পর্ক সেই কৌশলকেই শক্তিশালী করেছে।
নীতি বদলের ইঙ্গিত?
এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানের পরমাণু নীতি ঘোষিতভাবে ‘ভারত-কেন্দ্রিক’। ইসলামাবাদ বারবার জানিয়েছে, অন্য কোনও দেশের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই(Pak Saudi Defence Deal)। কিন্তু সৌদিকে সুরক্ষা দেওয়ার ইঙ্গিত যদি বাস্তব হয়, তবে কার্যত তাদের অস্ত্রের নিশানা আরও বিস্তৃত হতে পারে।
পাকিস্তান কি পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে তার পুরনো নীতি থেকে সরে আসছে? নাকি এটি নিছক কূটনৈতিক বিভ্রান্তি? আপাতত নিশ্চিত কোনও উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। তবে পশ্চিম এশিয়ায় সৌদি-ইজরায়েল-ইরান উত্তেজনার আবহে পাকিস্তানের এই দ্বৈত অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে অস্বস্তি বাড়াচ্ছে।


