Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে অস্থিরতার (Pakistan Afghanistan War) আশঙ্কা। সীমান্ত বিরোধ ঘিরে শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করল পাকিস্তান। মাঝরাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিবৃতিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বে আঘাত এলে তার কড়া জবাব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “পাকিস্তানি সেনাবাহিনী প্রতিটি হামলার কঠোর জবাব দেবে। আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হল ঐক্যবদ্ধ জাতি, যারা সেনাবাহিনীর পাশে রয়েছে।”
মাঝরাতের ঘোষণা (Pakistan Afghanistan War)
মাঝরাতের ঘোষণার পর সকালে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র (Pakistan Afghanistan War) মোশাররফ জাইদি এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা মহম্মদ আসিফ সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ পৃথক পোস্টে যুদ্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। খাজা আসিফ লেখেন, পাকিস্তান সংঘাত এড়াতে বন্ধু দেশগুলির মাধ্যমে সর্বাত্মক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু সব উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় সামরিক পদক্ষেপ ছাড়া আর কোনও পথ খোলা ছিল না। তাঁর কথায়, “আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গিয়েছে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক (Pakistan Afghanistan War)
এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে কাবুল ও কান্দাহারে (Pakistan Afghanistan War) একযোগে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় পাকিস্তান। ইসলামাবাদের দাবি, এই অভিযানে অন্তত ১৩৩ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে এবং একাধিক ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে। পাকিস্তান সরকারের বক্তব্য, আফগান ভূখণ্ড থেকে সাম্প্রতিক যে হামলা চালানো হয়েছিল, তারই প্রত্যুত্তর এই সামরিক অভিযান। অন্যদিকে, কাবুলের তালিবান প্রশাসন পাকিস্তানের দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। রাষ্ট্রসংঘে তাদের মুখপাত্রের তরফে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের হামলায় অন্তত ১২ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। তবে তালিবান সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ হতাহতের তালিকা প্রকাশ করেনি। কাবুলে কর্তব্যরত বিবিসি এবং আল জাজিরা-র সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতভর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ ও বোমাবর্ষণের শব্দ শোনা গিয়েছে। বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলেও জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পাকিস্তানের হামলার যথাযথ জবাব (Pakistan Afghanistan War)
ঘটনার পর আফগান তালিবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সকালে এক্স-এ দাবি করেন, পাকিস্তানের হামলার যথাযথ জবাব দেওয়া হয়েছে। তবে কিছুক্ষণ পর সেই পোস্ট সরিয়ে নেওয়া হয়। কেন পোস্টটি মুছে ফেলা হল, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। উত্তেজনার প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেশ দুই দেশকেই সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। আন্তর্জাতিক মহলও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

আরও পড়ুন: Kejriwal Sisodia Clean Chit: আদালতের রায়ে সততার জয়: কান্নায় ভেঙে পড়লেন কেজরিওয়াল!
সীমান্তে সেনা মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরেই অস্থিরতা চলছে। তবে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিল। এর প্রভাব শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, গোটা দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে সীমান্তে সেনা মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নজর রাখছে দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।


