Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আফগানিস্তানের দুই প্রদেশে পাকিস্তানি সেনার ভয়াবহ হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক মানচিত্র (Pakistan Attack)। শনিবার রাতভর চালানো এই অভিযানে অন্তত ১৭ জন আফগান নাগরিকের মৃত্যুর খবর মিলেছে। মৃতদের মধ্যে শিশু ও মহিলারাও রয়েছেন। বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনাকে ঘিরে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে উঠেছে।

কোন কোন প্রদেশে হামলা? (Pakistan Attack)
সীমান্তবর্তী নানগড়হর এবং পাকটিকা প্রদেশে পাকিস্তানি সেনা বিমান ও গোলাবর্ষণের মাধ্যমে হামলা চালিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আফগান সংবাদমাধ্যম TOLONews সূত্রে জানা যায়, একাধিক জেলায় রাতভর বোমাবর্ষণ চলে। বিশেষ করে বেহসুদ জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে একই পরিবারের ২৩ জন সদস্য। তাঁদের মধ্যে মাত্র ৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে খবর।
জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করেই অভিযান (Pakistan Attack)
পাকিস্তানের একাধিক সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, আফগানিস্তানের মাটিতে লুকিয়ে থাকা জঙ্গি সংগঠনগুলির ঘাঁটি লক্ষ্য করেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। বিশেষত তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান এবং ইসলামিক স্টেট-এর কয়েকটি ক্যাম্প ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি। ইসলামাবাদের বক্তব্য, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের মাটিতে যে ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে, তার পেছনে আফগানিস্তানে আশ্রয় নেওয়া জঙ্গিদের হাত রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে ‘প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক’ চালানো হয়েছে।

সাম্প্রতিক বিস্ফোরণ (Pakistan Attack)
দিন কয়েক আগেই আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে একটি বিস্ফোরণে পাকিস্তানের ১১ জন সেনা এবং এক শিশুর মৃত্যু হয়। তার আগে বান্নু অঞ্চলে অন্য এক বিস্ফোরণে নিহত হন পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্য। এই দুই ঘটনার পর থেকেই পাকিস্তানের তরফে কড়া প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত মিলছিল। বিশ্লেষকদের মতে, শনিবারের এই হামলা সেই প্রতিক্রিয়ারই বহিঃপ্রকাশ।
কাবুলের পাল্টা অভিযোগ (Pakistan Attack)
আফগানিস্তানের শাসকগোষ্ঠী তালিবান সরকারের মুখপাত্র জ়াবিউল্লাহ মুজাহিদ পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁর দাবি, “নিজেদের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও ব্যর্থতা ঢাকতেই পাকিস্তানি সেনা আফগানিস্তানের উপরে হামলা চালিয়েছে।” কাবুলের বক্তব্য, তারা কোনও জঙ্গি সংগঠনকে মদত দেয় না। বরং সীমান্ত পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার জন্য ইসলামাবাদকেই দায়ী করেছে আফগান প্রশাসন।
কূটনৈতিক টানাপোড়েন (Pakistan Attack)
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সম্পর্ক বহুদিন ধরেই সন্দেহ ও অবিশ্বাসে ঘেরা। পাকিস্তান বরাবরই অভিযোগ করেছে যে আফগান মাটিতে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিরা পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে আফগানিস্তান অভিযোগ তোলে, পাকিস্তান তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সীমান্ত উত্তেজনা কেবল সামরিক ইস্যু নয়; এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, কৌশলগত আধিপত্য এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যের প্রশ্ন।

আরও পড়ুন: Mani Shankar: জন অরণ্যে বিলীন স্যাটা বোস এর স্রষ্টা, প্রয়াত সাহিত্যিক শংকর
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
এই হামলায় সাধারণ নাগরিকদের মৃত্যু আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। শিশু ও মহিলাদের প্রাণহানি ঘটনাটিকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আগেই ছিল অনিশ্চিত। নতুন করে সামরিক সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।



