Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : ছ’দিনের সফর শেষে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) বৃহস্পতিবার রাতে দেশে ফিরেছেন (Pakistan China Relations)। সফরের শুরু এসসিও (SCO) সম্মেলনে হলেও শেষ হয়েছে চিনা প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াঙ এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক বৈঠকে। পাশাপাশি চিনা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে সফরকে ‘সদর্থক’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
চিনের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সমঝোতা (Pakistan China Relations)
শাহবাজের সফরে পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে মোট ২১টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৭৪ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্যিক সমঝোতা(Pakistan China Relations)। এছাড়া, চীনা-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (CPEC) প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। সফরের শেষ দিনে শাহবাজ় চীনা বিনিয়োগকারীদের পাকিস্তানে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তি সহযোগিতা (Pakistan China Relations)
শাহবাজের সফরের সময় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে চিনের সঙ্গে যৌথ চুক্তি করা হয়েছে(Pakistan China Relations)। এতে দু’দেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও দৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন : Trump On China Military Show : চিনের সামরিক কুচকাওয়াজ নিয়ে ফের ক্ষোভ উগরে দিলেন ট্রাম্প!
নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সমঝোতা (Pakistan China Relations)
পাক-চিনের মধ্যে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও মজবুত করার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে(Pakistan China Relations)। তারা একসঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে সম্মত হয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তান চীনের সাহায্য নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থান শক্ত করছে।
ভারত-চিন সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক প্রভাব
এসময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এসসিও সম্মেলনে চিনে ছিলেন। মোদির চিনা সফর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা বহন করেছিল। তবে পাকিস্তান-চীন ঘনিষ্ঠতার কারণে নয়া দিল্লি কিছুটা সতর্ক অবস্থানে থাকবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান চীনের সঙ্গে মিলিত হয়ে সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি বাড়াচ্ছে।

পাশাপাশি নিরাপত্তা প্রেক্ষাপট(Pakistan China Relations)
গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলেছে। এই অভিযানের মাধ্যমে ভারত পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে। সেই সময় পাকিস্তানকে চিনের সমর্থন মেলে, যা ভারত-চীন-আমেরিকা ত্রিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব পায়।
ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাকিস্তান-চিন ঘনিষ্ঠতা নয়া দিল্লির জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক মজবুত হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে চীনের সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতা এবং আমেরিকার শুল্ক নীতির পরিপ্রেক্ষিতে এই সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে।


