Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে আবারও অস্থিরতার ছায়া। (Pakistan) আনুষ্ঠানিকভাবে Afghanistan-এর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা করেছে । গত কয়েকদিন ধরে দুই দেশের সীমান্তে টানটান উত্তেজনার পর আকাশপথে হামলা, পালটা আক্রমণ এবং বিস্ফোরণের ঘটনায় পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছে। এই সংঘাত শুধু দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সামরিক শক্তির লড়াই নয়, বরং তালিবান-শাসিত আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের জটিল সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ।

আকাশপথে হামলা (Pakistan)
শুক্রবার ভোর থেকে রাজধানী Kabul-এ অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। একই দিনে দক্ষিণ আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ শহর Kandahar-এও হামলার খবর মিলেছে। আফগান প্রশাসনের দাবি, পাকিস্তান আগেই একাধিক সীমান্ত এলাকায় বোমাবর্ষণ করেছিল। তার পালটা হিসেবেই আফগান বাহিনী বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানের সীমান্ত পেরিয়ে আক্রমণ চালায় এবং অন্তত ১২টি পোস্ট দখল করে। তালিবান প্রশাসনের এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে ইসলামাবাদের বক্তব্য, আফগানিস্তানের দিক থেকে সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশ ও সীমান্তে উস্কানির জবাব দিতেই এই অভিযান।
যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা (Pakistan)
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Khawaja Asif এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে কড়া ভাষায় জানান, “আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এবার সরাসরি যুদ্ধ হবে।” ইসলামাবাদ এই সামরিক অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন গজব লিল হক’। পাকিস্তানের দাবি, তাদের হামলায় ১৩৩ জন আফগান সেনা নিহত হয়েছে। পালটা হিসেবে আফগানিস্তানের বক্তব্য, তারা ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করেছে। তবে দুই পক্ষের দাবির সত্যতা আন্তর্জাতিকভাবে যাচাই করা হয়নি, ফলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

প্রচারযুদ্ধের নতুন পর্ব (Pakistan)
যুদ্ধ ঘোষণার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায় পাকিস্তানের একটি F-16 Fighting Falcon যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ছে। আফগান প্রশাসনের দাবি, তাদের বাহিনী গুলি করে বিমানটি নামিয়েছে। তবে পাকিস্তান এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ভিডিওটির সত্যতা এখনও নিশ্চিত নয়। আধুনিক যুদ্ধে যেমন মিসাইল ও ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তথ্যযুদ্ধ ও প্রচারযুদ্ধও বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে এই ঘটনাও তারই প্রমাণ।
কান্দাহারের গুরুত্ব (Pakistan)
খবর অনুযায়ী, কান্দাহারে তালিবান প্রধান Hibatullah Akhundzada-র ঘাঁটির আশেপাশেও হামলা হয়েছে। কান্দাহার তালিবান আন্দোলনের ঐতিহাসিক কেন্দ্র এবং প্রতীকী শক্তির উৎস। সেখানে হামলা মানে শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিক বার্তাও দেওয়া। এই আঘাত তালিবান প্রশাসনের কাছে মর্যাদার প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে, যা সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।

শাহবাজ শরিফের হুঁশিয়ারি (Pakistan)
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী Shehbaz Sharif স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “যাবতীয় আগ্রাসন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে পাক ফৌজের। গোটা দেশ সেনার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছে।” এই বক্তব্যে জাতীয়তাবাদের সুর স্পষ্ট। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিও এই কঠোর অবস্থানের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
কেন বাড়ছে উত্তেজনা? (Pakistan)
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক বরাবরই জটিল। মূল ইস্যুগুলির মধ্যে রয়েছে, ডুরান্ড লাইন বিতর্ক: দুই দেশের সীমান্ত নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিনের মতভেদ। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর কার্যকলাপ: পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান মাটিতে টিটিপি ঘাঁটি গেড়ে আছে। সীমান্তে অনুপ্রবেশ, শরণার্থী ও জঙ্গি তৎপরতা। তালিবান ক্ষমতায় ফেরার পর অনেকেই ভেবেছিলেন সম্পর্ক মসৃণ হবে, কিন্তু বাস্তবে দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়েছে।
আরও পড়ুন: Sikandar Raza: রোহিতকে টপকে রাজাই ‘সিকান্দার’
আন্তর্জাতিক প্রভাব
এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব পড়বে গোটা দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ায়। সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ হতে পারে। নতুন করে শরণার্থী স্রোত তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক শক্তিগুলি বিশেষ করে চিন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। ভারতের মতো প্রতিবেশী দেশগুলির জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত ইস্যু।



