Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান আবারও সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে উত্তাল (Pakistan Warns)। সরকার দাবি করছে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা রক্ষাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য, কিন্তু দেশের ভেতর ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উঠছে পাল্টা অভিযোগ এ কি সত্যিই জঙ্গিবাদ দমন, নাকি রাজনৈতিক মতপ্রকাশ দমনের আরেক কৌশল?

অজুহাতে নিষেধাজ্ঞার ঝড় (Pakistan Warns)
পাকিস্তানের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আকিল মালিক সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন, দেশের বেশিরভাগ সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়াই উচিত। তাঁর অভিযোগ এই প্ল্যাটফর্মগুলিই জঙ্গিগোষ্ঠীর যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। ফলে শুরু থেকেই এগুলি নিষিদ্ধ করা গেলে জঙ্গিদের কার্যকলাপ দুর্বল হয়ে পড়বে। সরকারের এই বক্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহল, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
পাকিস্তানের নতুন উদ্বেগ (Pakistan Warns)
গত কয়েক মাসে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে ঘটে যাওয়া জঙ্গি হামলার জন্য সরকার সরাসরি দায়ী করছে, বালোচ লিবারেশন আর্মি (BLA), পাকিস্তানি তালিবান (TTP) সরকার দাবি করছে, এদের একটি বড় অংশ ভারত, আফগানিস্তান এবং আরও কিছু দেশের মদদে পরিচালিত। তাই হামলা প্রতিহত করার জন্যই সামাজিক মাধ্যম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এমনটাই সরকারি যুক্তি। তবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন সামাজিক মাধ্যম বন্ধ করলে কি সত্যিই জঙ্গিবাদ কমবে, নাকি সাধারণ মানুষের তথ্যপ্রাপ্যতাই বাধাগ্রস্ত হবে?
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ (Pakistan Warns)
পাকিস্তানের পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে বহুস্তরের রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণ। ২০২৩ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে এক্স পুরোপুরি বন্ধ ছিল। বিরোধীরা অভিযোগ তোলে নির্বাচনে কারচুপির খবর বাইরে আসা ঠেকাতেই এই নিষেধাজ্ঞা। নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর প্রচার ঠেকাতে প্ল্যাটফর্মগুলোর উপর চাপ বাড়ানো হয়েছে। তবে প্রশ্ন রয়ে যায় জঙ্গিরা কি সত্যিই শুধু সামাজিক মাধ্যমে সংগঠিত হয়? টিকটকের বিরুদ্ধে পাকিস্তান বহুবার ‘অশ্লীলতা’ ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছে। যদিও সমালোচকদের মতে, এটি তরুণ প্রজন্মের উপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপের একটি অজুহাত। অনেক সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী এবং বিরোধী নেতার অ্যাকাউন্ট ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ অভিযোগে বন্ধ হয়েছে। এ থেকে স্পষ্ট রাজনীতি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর চাপ বাড়ছে।
আরও পড়ুন: Chingrighata Metro: চিংড়িহাটা মেট্রো-জট কাটাতে বৈঠকের নির্দেশ, আলোচনার দিনক্ষণ বেঁধে দিল হাইকোর্ট
‘নিজেদের তৈরি ফাঁদেই পাক সরকার’
ভারত পাকিস্তানের অভিযোগকে সোজাসাপ্টা খারিজ করে দিয়েছে। ভারতের বক্তব্য, পাকিস্তান বহু দশক ধরে জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দিয়েছে। এখন সেই জঙ্গিরাই পাকিস্তানকে আঘাত করছে। তাই নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই সামাজিক মাধ্যমকে দোষারোপ করছে পাকিস্তান। ভারতের মতে, পাকিস্তান এখন নিজের তৈরি ফাঁদে নিজেই আটকা পড়েছে।



