Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: তিন বছর, তিন মাস এবং তিন দিন কারাবাসের পর (Partha Chatterjee) অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী ও তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘ বিরতির পর বাড়ি ফিরেই তিনি নাকি ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন-আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে তিনি বিধায়ক হিসেবে যোগ দিতে চান। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য রাজনীতি। কারণ, পার্থ এখনও তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হলেও দল থেকে তিনি নিলম্বিত। ফলে, প্রশ্ন উঠেছে-বিধানসভায় তাঁর আসন কোথায় হবে?
দুই দলের কোনও শিবিরেই বসতে পারবেন না (Partha Chatterjee)
বিধানসভার বৃত্তাকার অধিবেশনকক্ষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা বসেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডান দিকে, অর্থাৎ ট্রেজারি বেঞ্চে। তাঁদের পরপরই থাকে তৃণমূলের বিধায়কদের আসন। অন্যদিকে, স্পিকারের বাঁ দিকে বসে বিরোধী শিবির-মূলত বিজেপি বিধায়করা। এমতাবস্থায় পার্থ যদি অধিবেশনে যোগ দেন, তবে তিনি এই দুই দলের কোনও শিবিরেই বসতে পারবেন না।
কোন আসনে বসবেন পার্থ (Partha Chatterjee)
তৃণমূলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কেউই মুখ খুলতে চাননি (Partha Chatterjee)। কারণ, পার্থকে দল থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে। ফলে শাসকদলের অনেকেই এখন মন্তব্য করতে সাবধানতা অবলম্বন করছেন। তবে বিধানসভা সচিবালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শাসক ও বিরোধী বেঞ্চের মাঝামাঝি কোনও নিরপেক্ষ আসনে বসার ব্যবস্থা করা হতে পারে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জন্য।
গুরুত্ব এখনও অস্বীকার করা যায় না
এই ব্যবস্থা নতুন নয়। অতীতে একই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল বিধানসভা সচিবালয়। উদাহরণস্বরূপ, ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিকেও বসানো হয়েছে তৃণমূল ও বিজেপির মাঝের একটি নিরপেক্ষ আসনে। এমনকি ২০১৪ সালে বসিরহাট দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে জয়ী বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যও প্রথমে বসেছিলেন সেই ‘মধ্যবর্তী সারিতে’। তবে পার্থের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা জটিল, কারণ তিনি একসময় রাজ্য মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন এবং পাঁচবারের অভিজ্ঞ বিধায়ক হিসেবে বিধানসভায় তাঁর গুরুত্ব এখনও অস্বীকার করা যায় না।

আরও পড়ুন: Horoscope Update: শনি আবার সরাসরি পথে, কর্মফলের নতুন অধ্যায় শুরু
২০০১ সালে প্রথমবার বেহালা পশ্চিম কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। পরের দুই মেয়াদে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিরোধী দলনেতা থেকে শুরু করে শিক্ষা, শিল্প ও পরিষদীয় দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্ব সামলেছেন। তাই তাঁর প্রত্যাবর্তন কেবল রাজনৈতিক নয়, প্রশাসনিক পরিমণ্ডলেও এক প্রকার পরীক্ষার মুহূর্ত তৈরি করেছে।


