Last Updated on [modified_date_only] by Anustup Roy Barman
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রধানমন্ত্রী “গণতন্ত্রকে আটকে রাখার” জন্য তৎকালীন ইন্দিরা গান্ধীর কংগ্রেস (PM Modi on Emergency) সরকারেরও সমালোচনা করেন।
সংবিধান হত্যা দিবস পালন করল দেশবাসী (PM Modi on Emergency)
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জরুরি অবস্থার ৫০ বছর পূর্তিতে বলেন, এটা ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায় (PM Modi on Emergency)। ২৫ জুন, ১৯৭৫ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের দিনটিকে ভারতবাসী ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ হিসেবে স্মরণ করে। মোদী তাঁর এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ লেখেন, “এই দিনে ভারতের সংবিধানে নিহিত মূল্যবোধ উপেক্ষা করা হয়েছিল, মৌলিক অধিকার স্থগিত করা হয়েছিল, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং বহু রাজনৈতিক নেতা, সমাজকর্মী, ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ মানুষকে জেলে পাঠানো হয়েছিল।”
কংগ্রেস সরকারের কড়া সমালোচনা (PM Modi on Emergency)
সেই সময়ের কংগ্রেস সরকারের তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন (PM Modi on Emergency), “গণতন্ত্রকে বন্দি করা হয়েছিল। কেউ ভুলবে না কীভাবে সংসদের কণ্ঠ রোধ করা হয়েছিল, আদালতকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা হয়েছিল। ৪২তম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের আত্মাকে আঘাত করা হয়েছিল।” মোদী বলেন, “সেই সময় গরিব, প্রান্তিক এবং পিছিয়ে পড়া মানুষদের বিশেষভাবে টার্গেট করা হয়েছিল। তাদের সম্মানহানিও করা হয়েছিল।”
গণতন্ত্র রক্ষায় লড়াই করা মানুষদের কুর্নিশ
প্রধানমন্ত্রী দেশের সেই সমস্ত মানুষদের স্মরণ করেন, যাঁরা জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি লেখেন, “এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন ভারতের নানা প্রান্তের, নানা মতাদর্শের মানুষ। তাঁদের একটাই লক্ষ্য ছিল—ভারতের গণতন্ত্রকে রক্ষা করা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখা। তাঁদের সম্মিলিত আন্দোলনের ফলেই কংগ্রেস সরকারকে ফের নির্বাচন ডাকতে হয় এবং তারা বাজেভাবে হেরে যায়।”
আরও পড়ুন: Meghalaya Case: রাজের সঙ্গে সম্পর্ক সোনমের! মেঘালয়কাণ্ডে পরতে পরতে রহস্য
গণতন্ত্র রক্ষায় সরকারের প্রতিশ্রুতি
মোদী লেখেন, “আমাদের সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে আমরা সংবিধানের মূল আদর্শগুলিকে আরও মজবুত করব এবং ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করব।”
১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার প্রেক্ষাপট
১৯৭৫ সালের ২৫ জুন দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭১ সালে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হন। কিন্তু এরপর থেকেই সরকার নানা সমস্যার মুখে পড়ে। ১৯৭১ সালের ভারত-পাক যুদ্ধ, খরা, এবং ১৯৭৩ সালের তেলের সংকট দেশের অর্থনীতিকে প্রবল ধাক্কা দেয়।
আরও পড়ুন: Shubhanshu Shukla: অবশেষে মহাকাশে ভারতের শুভাংশু! সফল উৎক্ষেপণে পাড়ি দিল স্পেসএক্সের ‘ড্রাগন’
১৯৭৫ সালের ১২ জুন এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি জগমোহনলাল সিংহ ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী দুর্নীতির রায় দেন এবং তাঁর রায়বেরেলি আসনের লোকসভা জয় বাতিল করেন। এরপর তাঁর পদত্যাগের দাবি উঠতে থাকে। ওই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দিন আলি আহমেদ ২৫ জুন রাতে জরুরি অবস্থার ঘোষণাপত্রে সই করেন।
এই জরুরি অবস্থা চলে ১৯৭৭ সালের ২১ মার্চ পর্যন্ত। এই সময় ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার সংবিধানের নানা ধারার অপব্যবহার করে দেশজুড়ে প্রশাসনিক ও আইনগত হস্তক্ষেপ চালায়।


