Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (pok) টানা চতুর্থ দিনের মতো সম্পূর্ণ বন্ধে অচল হয়ে রয়েছে(Pok Protest)। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন তিনজন পুলিশকর্মীও। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
সরকার-বিক্ষোভকারীর মুখোমুখি (Pok Protest)
বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় সরকারের একটি আলোচক দল মুজাফ্ফরাবাদে পৌঁছেছে(Pok Protest)। তারা বিক্ষোভ নেতৃত্ব দেওয়া জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC)-র সঙ্গে আলোচনায় বসেছে। শওকত নবাজ মিরের নেতৃত্বে JAAC কয়েক মাস ধরেই সরকারবিরোধী আন্দোলন সংগঠিত করছে।
২৯ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের বন্ধে মুজাফ্ফরাবাদ-সহ একাধিক জেলা কার্যত স্তব্ধ। দোকানপাট, পরিবহণ, এমনকি হাটবাজারও বন্ধ হয়ে রয়েছে।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, নিরাপত্তা কঠোর(Pok Protest)
সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে পুরো অঞ্চলে মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে(Pok Protest)। পাশাপাশি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি মূল ভূখণ্ড পাকিস্তান থেকে অতিরিক্ত আধাসামরিক বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপে বিক্ষোভকারীদের অসন্তোষ আরও বেড়েছে। JAAC নেতা মির বলেন, “স্থানীয় পুলিশ যথেষ্ট। বাহিনী টেনে এনে আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে।”

আরও পড়ুন : 93rd Air Force Day : অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের ৮-১০ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি বায়ুসেনা প্রধানের
কেন ফুঁসছে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর?
এই আন্দোলনের সূত্রপাত গত বছর বিদ্যুৎ বিলের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও আটা-চাল ঘাটতি নিয়ে(Pok Protest)। পরে এসব অভিযোগ থেকে আন্দোলন গড়ায় সরকারবিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনে।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে JAAC-র আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। তারা এখন ৩৮ দফা দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের বিশেষ সুবিধা বা “রুলিং এলিট প্রিভিলেজ” তুলে দেওয়া,
- শরণার্থী সম্প্রদায়ের জন্য রাখা ১২টি সংরক্ষিত আসন বাতিল,
- বিনামূল্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা,
- নতুন অবকাঠামো প্রকল্প (সড়ক, টানেল, সেতু ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ),
- প্রতিবাদী কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার।

সরকারের পাল্টা যুক্তি(Pok Protest)
পাক অধিকৃত কাশ্মীরের অর্থমন্ত্রী আবদুল মাজিদ খান স্বীকার করেছেন, সরকারের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বেশ কিছু বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে(Pok Protest)। তবে দুটি দাবিতে জটিলতা রয়ে গিয়েছে—শরণার্থীদের সংরক্ষিত আসন বাতিল এবং আমলাতন্ত্রের বিশেষ সুবিধা প্রত্যাহার।
খান বলেন, “বিদ্যুৎ ও আটা নিয়ে আমরা ইতিমধ্যেই সমাধান দিয়েছি। কিন্তু সাংবিধানিক পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়।” তিনি আরও দাবি করেন, “এ অঞ্চলে করদাতার সংখ্যা ৫ হাজারেরও কম। রাজস্ব কম থাকায় উন্নয়ন প্রকল্প চালানো কঠিন।”
অচলাবস্থার ভবিষ্যৎ
বৃহস্পতিবারের আলোচনায় কোনও সমাধান আসেনি(Pok Protest)। শুক্রবার ফের নতুন করে আলোচনা হওয়ার কথা। সরকার আশাবাদী, সমঝোতা হলে দ্রুত ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা ফের চালু করা হবে।
তবে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা এবং সরকারের প্রতি অবিশ্বাস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। JAAC জানিয়েছে, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।


