Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বর্তমান সময়ে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে (Yuva Sathi Scheme)। বহু যুবক-যুবতী উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেও উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের আর্থিকভাবে সহায়তা করা এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতিতে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করাই যুবসাথী প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। সরকারের বক্তব্য, এই প্রকল্প কেবল আর্থিক সহায়তা নয় এটি আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে যাওয়ার এক সেতুবন্ধন। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়টুকুতে একটি ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এর উদ্দেশ্য।

কারা এই প্রকল্পের আওতায়? (Yuva Sathi Scheme)
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আবেদনকারীদের জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
১. স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া আবশ্যক
আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। অন্য রাজ্যের বাসিন্দারা এই সুবিধা পাবেন না।
২. বয়সসীমা
২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে বয়স হতে হবে। অর্থাৎ তরুণ কর্মপ্রত্যাশীদেরই এই প্রকল্পের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
৩. শিক্ষাগত যোগ্যতা
ন্যূনতম মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হতে হবে। অর্থাৎ ন্যূনতম শিক্ষাগত ভিত্তি থাকা বাধ্যতামূলক।
৪. সম্পূর্ণ বেকার হওয়া
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত—আবেদনকারীকে সম্পূর্ণ বেকার হতে হবে। এখানেই তৈরি হচ্ছে বিতর্ক ও বিভ্রান্তি।

ধোঁয়াশার জায়গা
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যাঁরা কোনও বেসরকারি সংস্থায় স্থায়ীভাবে কর্মরত এবং প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF), ইএসআই বা অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁরা এই প্রকল্পের আওতায় পড়বেন না। অর্থাৎ স্থায়ী বেসরকারি চাকরিজীবীরা বেকার হিসেবে গণ্য হবেন না। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের নিয়ে। অনেক যুবক-যুবতী রয়েছেন যারা—
- দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন
- চুক্তিভিত্তিক অস্থায়ী কাজে যুক্ত
- নগদ মজুরি পান
- কোনও প্রভিডেন্ট ফান্ড বা সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা পান না
তাঁদের ক্ষেত্রে তাঁরা আদৌ ‘বেকার’ হিসেবে বিবেচিত হবেন কিনা, তা স্পষ্ট নয়। কারণ তাঁরা নিয়মিত ও স্থায়ী কর্মসংস্থানের আওতায় নেই, আবার সম্পূর্ণ বেকারও নন। ফলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে আরও নির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অনলাইন ও অফলাইন দুই ব্যবস্থাই (Yuva Sathi Scheme)
সরকার আবেদন প্রক্রিয়াকে সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করেছে।
অনলাইনে আবেদন (Yuva Sathi Scheme)
১. প্রথমে https://apas.wb.gov.in ওয়েবসাইটে যেতে হবে।
২. ‘Click to Apply’ অপশনে ক্লিক করতে হবে।
৩. মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে।
৪. আবেদন ফর্ম পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করতে হবে।
৫. সবশেষে ফর্ম সাবমিট করে আবেদনপত্র ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করতে হবে।
অফলাইনে আবেদন (Yuva Sathi Scheme)
যাঁদের ইন্টারনেট সুবিধা নেই, তাঁরা নিজেদের বিধানসভা এলাকায় আয়োজিত বিশেষ ক্যাম্পে গিয়ে আবেদন করতে পারবেন। এতে গ্রামীণ ও প্রযুক্তি-অপরিচিত আবেদনকারীরাও সুযোগ পাবেন।
আরও পড়ুন: Kolkata: কবীর সুমনের উদ্বোধনে একুশের বইমেলা, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে লায়েলকা মাঠে
অর্থনৈতিক প্রভাব
যুবসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের বিপুল সংখ্যক যুবক-যুবতী সরাসরি উপকৃত হতে পারেন। এটি একদিকে যেমন আর্থিক স্বস্তি দেবে, অন্যদিকে মানসিক নিরাপত্তাও প্রদান করবে। কর্মসংস্থানের অপেক্ষার সময়ে এই সহায়তা তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। তবে সমালোচকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। বেকারভাতা সাময়িক স্বস্তি দিলেও কর্মসংস্থানই পারে প্রকৃত সমাধান দিতে।



