Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু যুবক দীপু দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং সে দেশে সংখ্যালঘুদের উপর ক্রমবর্ধমান অত্যাচারের (Protests Bangladesh) অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। সেই প্রেক্ষিতেই মঙ্গলবার দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভে সামিল হল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দল। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে পুলিশকে লাঠিচার্জ পর্যন্ত করতে হয়।

ক্ষোভের কেন্দ্রে কী? (Protests Bangladesh)
অভিযোগ, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যুবক দীপু দাসকে পরিকল্পিতভাবে নির্মম হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং সংখ্যালঘুদের উপর ধারাবাহিক নিপীড়নের অংশ বলেই দাবি করছে বিভিন্ন সংগঠন। তাদের বক্তব্য, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলা, মন্দির ভাঙচুর, ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা বেড়েই চলেছে। এই হত্যাকাণ্ডের পরেও বাংলাদেশ সরকার বা প্রশাসনের তরফে কোনও দৃশ্যমান কড়া পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের।
তবু থামানো গেল না বিক্ষোভ (Protests Bangladesh)
পদ্মাপাড়ে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে আগেই বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল ভিএইচপি ও বজরং দল। সেই কারণেই মঙ্গলবার সকালে থেকেই দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসেনা বাহিনী। একাধিক রাস্তার মোড়ে বসানো হয় ব্যারিকেড। তবে দুপুর গড়াতেই বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী জমায়েত হন। উত্তেজিত জনতা ব্যারিকেড ভেঙে হাইকমিশনের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেন। পুলিশ প্রথমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

স্লোগান, প্ল্যাকার্ড ও কুশপুতুল দাহ (Protests Bangladesh)
বিক্ষোভকারীরা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধ করো’, ‘দীপু দাসের হত্যার বিচার চাই’, ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের জবাব দাও’। এই বিক্ষোভে আরও এক ধাপ এগিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের কুশপুতুলও পোড়ানো হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বর্তমান প্রশাসন আন্তর্জাতিক মঞ্চে মানবাধিকার রক্ষার কথা বললেও বাস্তবে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
পুলিশের লাঠিচার্জ, উত্তেজনা চরমে (Protests Bangladesh)
ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা এবং হাইকমিশনের দিকে এগোনোর ঘটনায় পরিস্থিতি চরমে পৌঁছয়। তখন পুলিশ ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ শুরু করে। কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, কূটনৈতিক এলাকা হওয়ায় নিরাপত্তা রক্ষা করাই ছিল তাদের প্রথম লক্ষ্য।

আরও পড়ুন: Rajasthani Fair in Kolkata: কলকাতার বুকে এক টুকরো রাজস্থান ‘আপনো গাঁও’ মেলা
আন্তর্জাতিক বার্তা দিতে চায় সংগঠনগুলি
ভিএইচপি ও বজরং দলের নেতাদের বক্তব্য, এই বিক্ষোভ শুধু প্রতিবাদ নয়, আন্তর্জাতিক সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণের একটি প্রয়াস। তাঁদের দাবি, ভারত সরকারকে কূটনৈতিক স্তরে বাংলাদেশের উপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় এবং দীপু দাস হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত হয়



