Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতীয় নৌবাহিনীর ক্ষমতা বৃদ্ধির পথে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছুঁতে চলেছে দেশ (Indian Navy)। আগামী ১৭ ডিসেম্বর গোয়ায় INS Hansa নৌঘাঁটি থেকে কমিশন করা হবে NAS 335 স্কোয়াড্রনকে। এই স্কোয়াড্রনের অধীনেই সক্রিয় ভাবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে অত্যাধুনিক MH-60R ‘রোমিও’ মাল্টি-রোল হেলিকপ্টারগুলি। উন্নত অস্ত্রব্যবস্থা, আধুনিক সেন্সর এবং শক্তিশালী অ্যাভিওনিক্স স্যুট সব মিলিয়ে রোমিও আজ ভারতীয় নৌবাহিনীর অন্যতম ‘পাওয়ার প্যাকেজ’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সাবমেরিন-বিধ্বংসী সক্ষমতায় বড়সড় লাফ (Indian Navy)
ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই নতুন ডুবোজাহাজ বিধ্বংসী হেলিকপ্টার স্কোয়াড্রন গঠনের কাজ সম্পূর্ণ করতে চলেছে ভারত। সমুদ্রের গভীরে শত্রুপক্ষের সাবমেরিন চিহ্নিত করা এবং ধ্বংস করাই এই স্কোয়াড্রনের প্রধান লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা হয়েছে MH-60R রোমিও চপার। এই স্কোয়াড্রনের দফতর হবে গোয়ায়, এবং INS Hansa থেকেই পরিচালিত হবে রোমিও হেলিকপ্টারগুলির অপারেশনাল কার্যক্রম।
লকহিড মার্টিনের রোমিও (Indian Navy)
মার্কিন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার নির্মাতা সংস্থা লকহিড মার্টিন-এর তৈরি MH-60R রোমিও কেনার জন্য ২০২০ সালে বরাত দেয় কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। চুক্তি অনুযায়ী নৌবাহিনীর জন্য মোট ২৪টি রোমিও হেলিকপ্টার, সঙ্গে বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্র, উন্নত নজরদারি সরঞ্জাম এবং লজিস্টিক সাপোর্ট মিলিয়ে বরাদ্দ করা হয় প্রায় ২১,৫০০ কোটি টাকা। নৌসেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ২৪টি হেলিকপ্টারের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১৫টি ভারতে এসে পৌঁছেছে এবং বাকি গুলিও পর্যায়ক্রমে যোগ দেবে বহরে।
দ্বিতীয় স্কোয়াড্রনের আত্মপ্রকাশ (Indian Navy)
আগামী ১৭ ডিসেম্বর কমিশন হতে চলা NAS 335 ‘Ospreys’ স্কোয়াড্রনের অধীনেই সমস্ত MH-60R রোমিও চপার অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই ঐতিহাসিক কমিশনিং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠী।
এই স্কোয়াড্রন গঠনের মাধ্যমে নৌবাহিনীর অপারেশনাল প্রস্তুতি ও প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন:Fishermen: ভারতীয় জলসীমায় বাংলাদেশি নৌসেনার জাহাজ: ভারতীয় ট্রলারে ধাক্কা নিখোঁজ ৫ মৎস্যজীবী
প্রযুক্তিগত ব্যবধানে আকাশ-পাতাল তফাত
ভারতে প্রথম MH-60R স্কোয়াড্রন INAS 334 ‘Seahawks’ কমিশন করা হয়েছিল ২০২৪ সালের মার্চ মাসে। সেই সময় থেকেই রোমিও সক্রিয় ভাবে নৌবাহিনীর অপারেশনে অংশ নিচ্ছে। প্রায় দেড় বছরের মাথায় এবার দ্বিতীয় স্কোয়াড্রনের অন্তর্ভুক্তি নৌবাহিনীর শক্তিকে আরও বহুগুণ বাড়াবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ব্যবহৃত সাড়ে চার দশকের পুরনো ব্রিটিশ ‘সি কিং’ হেলিকপ্টারগুলির তুলনায় রোমিও বহু গুণ বেশি আধুনিক, প্রাণঘাতী এবং প্রযুক্তিগত ভাবে উন্নত।



