Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: চলতি আইপিএল-এ ঝড়ের নাম রাজস্থান। জেন জি-র দাপটে উড়ে গেল বেঙ্গালুরু (Rajasthan Royals)।
বিরাটদের বিরুদ্ধে রাজস্থানের বৈভব (Rajasthan Royals)
ভারতের বিভিন্ন রাজ্য জয়ের লক্ষ্যে মুঘল সম্রাট আকবরের চোখ পড়েছে রাজপুতানার দিকে। আকবর জানতেন যদি কোনওভাবে তিনি চিত্তোড় জয় করতে পারেন তবে রাজপুতানার বাকি রাজ্যগুলি বিনা যুদ্ধে জয় করা এমন কোনও বিষয় হবে না এবং বাকিরাও আত্মসমর্পণ করবেন। সেই সময়ে আরেকটা জায়গার নাম ইতিহাসে উঠে আসে। মেবারের নাম বিশেষভাবে ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে। যা উত্তর পশ্চিম ভারতের একটি প্রদেশ, বর্তমানে এই প্রদেশ রাজস্থান রাজ্যের অন্তর্গত। আর সেখানেই আকবরের বিশাল সৈন্যের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন রানা প্রতাপ। সেই প্রতাপের সামনে আটকে যায় বিরাট আকবর বাহিনী (Rajasthan Royals)।
এরপরেই বিখ্যাত সেই হলদিঘাটের যুদ্ধ। বিরাট সৈন্য বাহিনীর সামনে একদিকে যখন মহারানার প্রতাপ আবার তেমনই তাঁর ঘোড়া চেতক। রাজস্থানের এই প্রতিরোধের সামনে পড়ে আকবরকে বেগ পেতে হয়েছে আর রানা প্রতাপের ‘প্রতাপ’ লেখা হয়ে থেকেছে স্বর্ণাক্ষরে। তেমনই ১০ এপ্রিলে বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে রাজস্থানের সেই প্রতাপ দেখা গেল। বেঙ্গালুরুর সামনে বৈভব সেই প্রতাপের সঙ্গে ব্যাটিং করলেন বৈভব। রীতিমত ঝড়ের সামনে খেই হারাল বিরাটের দল। ১৫ বছরের বৈভবের সামনে অভিজ্ঞ বিরাটদের বিজয় রথ থামতে হল।

এই ম্যাচের পর একটা প্রশ্ন ইতিমধ্যেই উঠতে শুরু করেছে যে এই আইপিএল-এ কি খেতাব জয়ী হিসেবে নিজেদের নাম কি নথিভুক্ত করে ফেলেছে রাজস্থান রয়্যালস? এই ম্যাচেও তরুণদের দাপটের কাছে দাঁড়াতে পারল না বেঙ্গালুরু। গুয়াহাটির বর্ষাপারা স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই ম্যাচে চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে রাজস্থান পরাস্ত করল ৬ উইকেট (Rajasthan Royals)।
এই ম্যাচের আগে থেকেই চর্চায় ছিল এই যুদ্ধ। একদিকে বিরাট, অন্যদিকে জেন জি। এই পিচে সমস্যায় পড়েন বেঙ্গালুরুর ব্যাটাররা। এই ম্যাচে বিরাট করেন ৩২, রজত পতিদার ৬৩, রোমারিও শেফার্ড ২২, বেঙ্কটেশ আইয়ার ২৯ রান করেন। বাকিরা আর তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেননি। অন্যদিকে রাজস্থানের হয়ে জোফ্রা আর্চার, রবি বিষ্ণোই ও ব্রিজেশ শর্মা দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। সন্দীপ শর্মা এবং রবীন্দ্র জাদেজা নিয়েছেন একটি করে উইকেট।
বেঙ্গালুরুর ব্যাটিংয়ের সময় মনে হচ্ছিল এই পিচ বিপাকে ফেলতে পারে ব্যাটারদের। কিন্তু রাজস্থানের ব্যাটিংয়ের সময় ছবি যেন পুরো উল্টো। বারবার যে দাবি উঠে আসছে যে আইপিএল-এ সম্ভবত রাজস্থানের এই ওপেনিং জুটিই সেরা। রাজস্থানের অধিনায়ক রিয়ান পরাগের নেতৃত্বে রাজস্থানের পারফরম্যান্স নিয়ে আর কোনও প্রশ্নের জায়গাই নেই।

ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল ৮ বলে মাত্র ১৩ রান করে ফেরার পর যে স্তব্ধতা নেমেছিল সেটা ছিল কালবৈশাখী ঝড়ের আগের স্তব্ধতা। এরপর সবকিছু তছনছ করে উঠল ঝড় আর এই ঝড়ের নাম বৈভব বললেও ভুল বলা হবে না। তৃতীয় উইকেটে বৈভব সূর্যবংশী ও ধ্রুব জুরেলের পার্টনারশিপ করে ৩৭ বলে ১০৮। এই জুটিতে পাওয়ার প্লে-তে ওঠে ৯৭ রান। অবলীলায় একের পর এক ছক্কা হাঁকাতে থাকেন। আটটা চার ও সাতটা ছক্কা মারার পর ২৬ বলে ৭৮ রান করেন এই তরুণ তুর্কি (Rajasthan Royals)।

বৈভব ও জুরেলের পার্টনারশিপ ভাঙার পরে ক্রুনাল পান্ডিয়ার বাউন্সারে থার্ড ম্যানের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন শিমরন হেটমায়ার। হ্যাজেলউডের বলে আউট হন রিয়ান। সেই সময় মনে হতে থাকে যে কিছুটা এবার চাপে পড়েছেন রাজস্থান কিন্তু রাজস্থানের অভিধানে এই মুহূর্তে চাপ বলে কোনও শব্দই যে নেই সেটা আবারও প্রমাণ হল গতকালের ম্যাচে।

আরও পড়ুন: Sonam Wangchuk Dies: কার্গিলের সেই বীর সেনানায়ক, লাদাখের ‘সিংহ’ চিরবিদায় নিলেন
উইকেট হারালেও সমস্যার হয়নি এটা। পঞ্চম উইকেটে ধ্রুব ও রবীন্দ্র জাডেজা দলের হাল ধরেন। দ্রুত গতিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন এই দুই ক্রিকেটার। ৮.১ ওভারে ১২৯ থেকে ১৬ ওভারের শেষে ১৮৪। তবে শুধু যে বড় শট খেলছেন তা নয় বরং দরকারে রানের গতি কমিয়েছে আবার দরকারে গতি বাড়িয়েছে।
তরুণ ব্রিগেডের এই পরিণত ব্যাটিংয়ে অনেকটা ব্যাকফুটে চলে যায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। জশ হ্যাজেলউড, ক্রুনাল পান্ডিয়া দুটো করে উইকেট নিলেও বাকিরা নিতে পারেননি। আর এটার পূর্ণ সুবিধা নেয় রাজস্থান। শেষ পর্যন্ত ৪৩ বলে ৮১ ও ২৫ বলে ২৪ রান করে অপরাজিত থাকেন যথাক্রমে ধ্রুব জুরেল ও রবীন্দ্র জাডেজা। তারা ১৮ ওভারেই খেলা শেষ করে মাঠ ছাড়েন (Rajasthan Royals)।


