Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অযোধ্যার রামমন্দিরে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ‘ধর্মধ্বজ’ উত্তোলনের মুহূর্তটি শুধু ধর্মীয় আচারই ছিল না এটি এক গভীর প্রতীকী, আবেগপূর্ণ এবং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ও (Narendra Modi) । এই বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের জনগণকে আহ্বান জানান নিজেদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকে নতুন করে আত্মস্থ করতে।

ধর্মধ্বজ উত্তোলনের আবেগঘন মুহূর্ত (Narendra Modi)
অযোধ্যার পবিত্র প্রাঙ্গণে ‘ধর্মধ্বজ’ উত্তোলনের সময় পরিবেশ ছিল ভক্তিময় এবং প্রত্যাশায় পূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দিনটি শুধু ধর্মীয় স্মারক নয় সমগ্র জাতির আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। তিনি প্রত্যেক ভারতীয়কে এই মুহূর্ত স্মরণে রাখার পরামর্শ দেন, কারণ তাঁর মতে এটি ভারতীয় সভ্যতার পুনর্জাগরণের একটি অবিচ্ছেদ্য ধাপ।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য (Narendra Modi)
মোদির ভাষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল থমাস ম্যাকলে সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য। ১৮৩৫ সালে ম্যাকলে যে ‘ডাউনওয়ার্ড ফিল্ট্রেশন থিওরি’ বা নিম্নগামী পরিস্রাবণ তত্ত্ব চালু করতে চেয়েছিলেন, তার উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ শিক্ষায় শিক্ষিত একটি ছোট শ্রেণির ভারতীয় গোষ্ঠী তৈরি যারা ব্রিটিশ ধ্যানধারণা অনুসারে দেশকে প্রভাবিত করবে এবং ভারতীয় সমাজে আত্মবিস্মৃতি ও হীনমন্যতার বীজ রোপণ করবে। মোদির অভিযোগ, স্বাধীনতা পাওয়ার পরও এই ‘দাসত্বের মানসিকতার’ ছায়া এখনও আমাদের সামাজিক আচরণে ও চিন্তাধারায় বিরাজমান। তিনি বলেন, “বিদেশি যা কিছু তা শ্রেষ্ঠ এই ধারণা আমাদের রক্তে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি বা জ্ঞানব্যবস্থাকে অনেকে আজও অবজ্ঞা করেন।”
মোদির পাল্টা দাবি (Narendra Modi)
প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে দৃঢ় কণ্ঠে জানান, ভারতকে গণতন্ত্রের পাঠ শেখানোর প্রয়োজন নেই। তাঁর মতে, ভারতীয় সমাজের রক্তেই গণতন্ত্রের প্রবাহ আছে। সেই দাবিকে শক্তিশালী করতে তিনি উল্লেখ করেন দক্ষিণ ভারতের প্রাচীন এক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা উথিরামেরুরের কুদাবোলাই প্রথা।
১,১০০ বছরের পুরনো গণতন্ত্রের নিদর্শন (Narendra Modi)
তামিলনাড়ুর উথিরামেরুর গ্রামে চোল রাজা প্রথম পরান্তকের সময় (প্রায় ৯২০ খ্রিস্টাব্দে) গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচনের ব্যবস্থা ছিল। পাম পাতায় প্রার্থীদের নাম লিখে বিভিন্ন কমিটির সদস্য নির্বাচিত হতেন। এই প্রথাকে মোদি তুলে ধরেন প্রমাণ হিসেবেভারতীয় মাটিতে গণতন্ত্র বহু পুরনো, এবং পশ্চিমা বিশ্বকে এই দেশকে গণতন্ত্র শেখাতে আসতে হবে না।
কংগ্রেসকে সরাসরি আক্রমণ (Narendra Modi)
এ দিনের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেস এবং বিশেষত রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করেন। রাহুলের আমেরিকা সফরে ‘ভারতের গণতন্ত্র বিপন্ন’ মন্তব্যকে মোদি ‘বাতুলতা’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, যেই দেশ হাজার বছর ধরে গণতন্ত্রের চর্চা করে এসেছে, সেই দেশকে বিদেশে গিয়ে অপমান করা কোনও রাজনৈতিক পরিপক্বতার পরিচয় নয়।

আরও পড়ুন: Kunal Ghosh: পায়ে গুরুতর আঘাত, হাসপাতালে কুণাল ঘোষ!
সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের বার্তা
মোদি স্পষ্ট জানান, আগামী দশক হলো ভারতীয় পরিচয়কে নতুনভাবে সংজ্ঞায়নের সময়। “দাসত্বের মানসিকতা থেকে মুক্ত হওয়া” এটাই তাঁর মতে স্বাধীন ভারতের পরবর্তী লক্ষ্য। তিনি বলেন, বিদেশি প্রভাবকে অন্ধভাবে অনুসরণ না করে নিজেদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, জ্ঞানচর্চা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সম্মান করাই এখন সময়ের দাবি। ধর্মধ্বজ উত্তোলনের মুহূর্তে তাই প্রধানমন্ত্রী শুধু ধর্মীয় রীতির প্রতীক নয় এক আত্মবিশ্বাসী, সাংস্কৃতিকভাবে পুনরুজ্জীবিত, নিজস্ব শিকড়ে স্থিতিশীল ভারতের স্বপ্নকেও সামনে রাখলেন।



