Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রজাতন্ত্র দিবসের ঠিক আগের রাতে বড়সড় নাশকতার (Republic Day Threat Foiled) আশঙ্কা রুখে দিল রাজস্থান পুলিশ। নাগৌর জেলার হারসৌর গ্রামের একটি চাষের জমি থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের পরিমাণ প্রায় ১০ টন, যা দিয়ে যেকোনও সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণ বা পরিকল্পিত নাশকতা ঘটানো সম্ভব ছিল।
হারসৌর গ্রামে অভিযান (Republic Day Threat Foiled)
গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার গভীর রাতে (Republic Day Threat Foiled) হারসৌর গ্রামে অভিযান চালায় নাগৌর জেলা পুলিশ। অভিযানের সময় একটি পরিত্যক্ত খেত থেকে উদ্ধার হয় ১৮৭টি বস্তায় ভরা মোট ৯,৫৫০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট। পুলিশ সুপার মৃদুল কচ্ছাওয়া জানিয়েছেন, “উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের পরিমাণ অত্যন্ত বিপজ্জনক। সঠিক সময়ে অভিযান না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিতে পারত।” পুলিশ আধিকারিকদের বক্তব্য, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট অতীতেও দেশে ও বিদেশে একাধিক বড় বিস্ফোরণের ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে দিল্লির লালকেল্লা সংলগ্ন এলাকায় সংঘটিত বিস্ফোরণেও এই রাসায়নিকের ব্যবহার হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। সেই ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকেই এবারের ঘটনায় কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয় প্রশাসন।
ধৃতের বিরুদ্ধে আগেই মামলা (Republic Day Threat Foiled)
ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেফতার করা হয়েছে হারসৌর গ্রামের (Republic Day Threat Foiled) বাসিন্দা সুলেমান খানকে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের বিরুদ্ধে আগেই তিনটি ফৌজদারি মামলা নথিভুক্ত রয়েছে। ফলে এই বিপুল বিস্ফোরক মজুতের ঘটনায় তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের পাশাপাশি খেত থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডিটোনেটরের ৯টি কার্টন, নীল ফিউজ তারের ১২টি কার্টন ও ১৫টি বান্ডিল,
লাল ফিউজ তারের ১২টি কার্টন ও ৫টি বান্ডিল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই সমস্ত সামগ্রী সাধারণত খনি বা বিস্ফোরক কাজে ব্যবহার করা হলেও, এত বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম একসঙ্গে মজুত থাকায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
বিস্ফোরক সরবরাহ
প্রাথমিক জেরায় ধৃত দাবি করেছে, বৈধ ও অবৈধ খননকাজে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির কাছে এই বিস্ফোরক সরবরাহ করা হচ্ছিল। কোন কোন এলাকায় এই বিস্ফোরক পাঠানো হতো এবং কারা এর ক্রেতা ছিল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের একাংশের অনুমান, এর পিছনে একটি বৃহত্তর চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। পুলিশ সুপার মৃদুল কচ্ছাওয়া জানিয়েছেন, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে বিষয়টি ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে ধৃত সুলেমান খানকে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থারাও এখন এই ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে।
আরও পড়ুন: Manali Snowfall: ভারী তুষারপাতের জেরে স্তব্ধ মানালি, গাড়িতেই কাটছে রাত যাত্রীদের
ঘটনার পর হারসৌর গ্রাম ও সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বিস্ফোরকগুলি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।


