Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ম্যালিগন্যান্ট ম্যালেরিয়ার (Research on Malaria) ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণের পথে এক নতুন বিজ্ঞানসম্মত উদ্যোগ সামনে এসেছে। ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারান। বিশেষ করে ম্যালিগন্যান্ট ম্যালেরিয়া, যা প্লাজমোডিয়াম ফ্যালসিপেরাম নামক পরজীবীর কারণে হয়, সবচেয়ে বিপজ্জনক ও প্রাণঘাতী। তবে এখন মশাকে টার্গেট করে নতুন ধরনের ওষুধ তৈরি করেছেন হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা, যা মশার শরীরে বাসা বেঁধে থাকা ম্যালেরিয়ার জীবাণুদের সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করবে।
মশার জীবন হারানোর প্রয়োজন নেই (Research on Malaria)
গবেষণার এক নতুন কৌশল মানুষের শরীরের পরিবর্তে মশাকেই (Research on Malaria) লক্ষ্য করে। সাধারণত মশার কামান মারা হয়, কিন্তু এই পদ্ধতিতে মশার জীবন হারানোর প্রয়োজন নেই। বরং মশার শরীরে এমন একটি ওষুধ প্রবেশ করানো হবে, যা মশার শরীরের ম্যালেরিয়ার জীবাণুদের ধ্বংস করে দেবে। এর ফলে মশার মধ্যেও ম্যালেরিয়া থাকবে না, ফলে রোগ ছড়ানোর সুযোগই পাবে না।
সাধারণ চিকিৎসায় রোগের প্রাথমিক অবস্থায়ই টাকার দরকার (Research on Malaria)
মশার মধ্যে বাসা বাঁধা পরজীবী বিশেষ করে প্লাজমোডিয়াম ফ্যালসিপেরাম মানুষের শরীরে প্রবেশ (Research on Malaria) করে লোহিত রক্তকণিকার দেওয়ালে আটকে যায়। এরপর তারা রক্তকণিকার ভিতরে ঢুকে নানা বিষাক্ত পদার্থ প্রবেশ করিয়ে জ্বর ও কাঁপুনি শুরু করে। সাধারণ চিকিৎসায় রোগের প্রাথমিক অবস্থায়ই টাকার দরকার হয়, কিন্তু অনেক সময় তা সফল হয় না, কারণ একবার পরজীবী মানুষের শরীরে প্রবেশ করলেই তাকে নির্মূল করা কঠিন।
পরজীবীদের ধ্বংস করবে
হার্ভার্ডের গবেষক আলেকজান্দ্রা প্রোবস্ট জানান, মশার শরীরে ম্যালেরিয়ার জীবাণুদের নির্মূল করার জন্য দুটি বিশেষ ওষুধ তৈরি করা হয়েছে। এই ওষুধগুলো মশার শরীরে ঢোকার মাধ্যমে সেখানে থাকা পরজীবীদের ধ্বংস করবে। মশাকে ওষুধ খাওয়ানোর জন্য তারা এমন এক ধরনের মশারি বা নেট তৈরি করেছেন, যার নাইলন তারে এই ওষুধ লিপ্ত থাকবে। মশা যেখানে বসুক, সেখানেই তার লালা দিয়ে এই ওষুধ গ্রহণ করবে। ফলে ওষুধ মশার শরীরে প্রবেশ করে জীবনঘাতী পরজীবীদের মারাত্মক হানি সাধন করবে।
মশা মারার ঝামেলা কমবে না
গবেষণায় দেখা গেছে, এই পদ্ধতিতে প্রায় ১০০ শতাংশ ফ্যালসিপেরাম জীবাণু নির্মূল করা সম্ভব। যদিও মশারি বা নেটে ওষুধ লিপ্ত করার প্রক্রিয়া কিছুটা জটিল, তাই তা প্রয়োগে কিছুটা সময় লাগবে। তবে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী যে, এই প্রযুক্তি সফল হলে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে অভূতপূর্ব সাফল্য আসবে। এর মাধ্যমে শুধু মশা মারার ঝামেলা কমবে না, রোগ প্রতিরোধেও বড় ধাক্কা দেওয়া সম্ভব হবে।
চিকিৎসার খরচ ও জটিলতা কমবে
এই নতুন পদ্ধতির আরেকটি বড় সুবিধা হলো, রোগীর শরীরে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক বা কড়া চিকিৎসার প্রয়োজন কমে যাবে। ফলে ম্যালেরিয়া থেকে মানুষের প্রাণ বাঁচানো ছাড়াও চিকিৎসার খরচ ও জটিলতা কমবে। বিশ্বব্যাপী ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এটি হতে পারে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
সার্বিকভাবে বলা যায়, মশাকে টার্গেট করে ম্যালেরিয়ার জীবাণু নির্মূলের এই নতুন পন্থা ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। যত দ্রুত সম্ভব এই প্রযুক্তি বাস্তবায়িত হলে, ম্যালেরিয়ার ভয়াবহতা অনেকাংশে কমে আসবে এবং মানুষের জীবন রক্ষায় বড় অবদান রাখবে।


