Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ৩ নভেম্বর, ২০২৫-এর রাত ভারতীয় (Richa Ghosh) নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বে ভারতীয় দল প্রথমবারের মতো মহিলাদের একদিনের বিশ্বকাপ জিতে নিল দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ট্রফি হাতে যখন পুরো ভারতীয় দল উল্লাসে মেতে উঠল, তখন গ্যালারির এক কোণে চোখে জল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন রিচা ঘোষের বাবা মানবেন্দ্র ঘোষ ও মা শম্পা ঘোষ। মেয়ের হাতে বিশ্বকাপ উঠতে দেখা সেই মুহূর্তটিকে তারা জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করছেন।
সমস্ত পরিশ্রম, ত্যাগ ও অপেক্ষার ফল যেন এক মুহূর্তে…(Richa Ghosh)
কে টিভি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শম্পা ঘোষ (Richa Ghosh) বলেন, “যখন দেখলাম রিচা হাতে বিশ্বকাপ তুলেছে, মনে হচ্ছিল যেন আমরাও ওর হাত ধরে সেই ইতিহাস ছুঁয়ে দেখছি।” মানবেন্দ্র ঘোষের চোখেও তখন গর্ব আর আবেগের ঝিলিক। জীবনের সমস্ত পরিশ্রম, ত্যাগ ও অপেক্ষার ফল যেন এক মুহূর্তে পাওয়া গেল।
প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে সংবর্ধনা (Richa Ghosh)
রিচার এই কীর্তির পর দেশের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে তাঁকে সংবর্ধনা (Richa Ghosh) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই কারণে মেয়েকে ছাড়াই বাবা-মা ইতিমধ্যেই শহরে ফিরে এসেছেন, তবে মন পড়ে আছে মাঠে, মেয়ের সঙ্গে। শম্পা ঘোষ এখন দিন গুনছেন, কবে রিচা ঘরে ফিরবে। মেয়ের প্রিয় ফ্রাইড রাইস আর চিলি চিকেন রান্না করে খাওয়ানোর স্বপ্নে দিন কাটছে তাঁর।

রিচার লড়াই
মাঠের ভেতরে রিচার লড়াই ছিল সমান অনুপ্রেরণামূলক। ফাইনালে ভারতীয় ব্যাটিং-এর কাঠামো যখন হঠাৎ ভেঙে পড়েছে তখন ১৫৩ রানে ৭ উইকেটে, দলকে টেনে তুলেছিলেন এই শিলিগুড়ির মেয়ে। স্নেহ রাণার সঙ্গে ৮৮ রানের জুটি গড়ে দলকে এনে দেন সম্মানজনক স্কোর-২৫১ রান। রিচার ৯৪ রানের ইনিংসটি ছিল সেই ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। তাঁর ধৈর্য, শট সিলেকশন ও ঠান্ডা মাথায় ব্যাটিং পুরো টিমের মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছিল।
আরও পড়ুন: Zohran Mamdani: নিউ ইয়র্কের নতুন মেয়রের পরিচয় জানলে অবাক হবেন!
এই ইনিংসের পেছনে আছে অগণিত সকাল-বিকেল, বাবার স্কুটারে চড়ে শিলিগুড়ির মাঠে পৌঁছনো, আর মায়ের ভালোবাসায় ভরা যত্ন। ছোটবেলায় যে মেয়েটি ছেলেদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলত, আজ সে দেশের গর্ব, কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা।


