Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জাতীয় সড়কে ক্রমবর্ধমান দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির (Road Accidents New Policy) ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র সরকার। দুর্ঘটনার সময় আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দিলে উদ্ধারকারীদের ২৫ হাজার টাকা আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির জন্য সাতদিনের সম্পূর্ণ বিনামূল্যের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার হাসপাতালগুলিকে সর্বোচ্চ দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেবে।
কেন্দ্রের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য (Road Accidents New Policy)
কেন্দ্রের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল দুর্ঘটনার পর সাধারণ (Road Accidents New Policy) মানুষের মধ্যে উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসার মানসিকতা তৈরি করা। এত দিন দুর্ঘটনা দেখেও অনেকেই এগিয়ে আসেননি শুধুমাত্র পুলিশি ঝামেলার ভয় থেকে। সেই ভয় দূর করতেই রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।
সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকের মতে, জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হল প্রবল কুয়াশা, রাস্তার খারাপ অবস্থা এবং অতিরিক্ত গতি। বিশেষ করে শীতকালে উত্তর ভারতের একাধিক রাজ্যে কুয়াশাজনিত দুর্ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। এর পাশাপাশি, অনিয়ন্ত্রিত গতি এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবও মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠছে।
দুর্ঘটনা-প্রবণ এলাকা বা ‘ব্ল্যাক স্পট’ চিহ্নিতকরণ (Road Accidents New Policy)
এই পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনা-প্রবণ এলাকা বা ‘ব্ল্যাক স্পট’ চিহ্নিতকরণে (Road Accidents New Policy) বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে মন্ত্রক। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই সারা দেশে প্রায় ৭ হাজার ব্ল্যাক স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটে। এই এলাকাগুলিতে আলাদা করে নজরদারি, সাইনেজ এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সারা দেশে ৪ লক্ষ ৮০ হাজার ৫৮৩টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১ লক্ষ ৭২ হাজার ৮৯০ জন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিহতদের বড় অংশই কর্মক্ষম বয়সের মানুষ।
বহু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব (Road Accidents New Policy)
নিহতদের মধ্যে, ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সিদের হার ২৫.৭ শতাংশ (Road Accidents New Policy), আর ৩৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সিদের হার প্রায় ২১.৫ শতাংশ। ফলে এই দুর্ঘটনাগুলি শুধুমাত্র পারিবারিক নয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকেও বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনার পর প্রথম এক ঘণ্টা, যাকে ‘সোনালি সময়’ বলা হয়, সেই সময়ের মধ্যে আহতকে চিকিৎসা দেওয়া গেলে বহু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, পথচারীরা বা প্রত্যক্ষদর্শীরা অনেক সময় সাহায্য করতে চান না। প্রধান কারণ—পুলিশি জেরা, আদালতে হাজিরা এবং দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার আশঙ্কা।
সমাধানেই কেন্দ্রের নতুন নীতি
এই সমস্যা সমাধানেই কেন্দ্রের নতুন নীতি। উদ্ধারকারীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা, তাঁদের নাম-পরিচয় গোপন রাখা এবং অহেতুক হয়রানি বন্ধ করতে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে নির্দিষ্ট প্রোটোকল তৈরির কথা জানিয়েছে কেন্দ্র। এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গড়করি জানিয়েছেন, “দুর্ঘটনার সময় সামান্য মানবিক উদ্যোগ নিলেই বছরে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।” তাঁর মতে, আর্থিক পুরস্কার মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দেবে এবং উদ্ধার কাজে উৎসাহ বাড়াবে। উদ্ধারকারীদের সম্মান জানাতে শুধু আর্থিক পুরস্কার নয়, তাঁদের সাহসী উদ্যোগের বিবরণ সরকারি স্তরে প্রকাশ করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে সমাজে একটি উদাহরণ তৈরি হয়।
সরকারের দাবি
সরকারের দাবি, চিকিৎসার খরচের আশঙ্কায় যেন কোনও হাসপাতাল আহতদের ভর্তি বা চিকিৎসায় দেরি না করে, সেই উদ্দেশ্যেই এই আর্থিক সহায়তা। সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ধরনের হাসপাতালই এই প্রকল্পের আওতায় আসবে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশি তদন্ত চলবে, তবে প্রকৃত উদ্ধারকারীদের যেন কোনওভাবেই হেনস্তার শিকার না হতে হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: Medicine Sell For Pollution: শীত বাড়তেই দিল্লিতে দূষণের দাপট, বাড়ছে চোখ ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে জনপ্রতিনিধিদেরও যুক্ত করতে চাইছে কেন্দ্র। সূত্রের খবর, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এই বিষয়ে সাংসদদের নিয়ে প্রয়োজনে বিশেষ কর্মশালার আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন। সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রচারে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।
কেন্দ্রের বার্তা স্পষ্ট, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। লক্ষ্য একটাই—প্রাণহানি কমানো এবং প্রতিটি সম্ভাব্য জীবন রক্ষা করা।


