Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ভবিষ্যৎ গঠনে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ (Nirmala Sitharaman)। দেশের প্রথম মহিলা অর্থমন্ত্রী হিসেবে নবমবার বাজেট পেশ করার সময় তিনি জানালেন, রেয়ার আর্থ পার্মানেন্ট ম্যাগনেট তথা বিরল খনিজ উৎপাদনে আত্মনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে দেশের চারটি রাজ্যে গড়ে তোলা হবে রেয়ার আর্থ করিডর। এই চার রাজ্য হল তামিলনাড়ু, কেরল, ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে গেল, কৌশলগত খনিজ ক্ষেত্রে চিনের উপর নির্ভরতা কমাতে ভারত এখন দীর্ঘমেয়াদি ও সুপরিকল্পিত পথে হাঁটতে চলেছে।

কী এই রেয়ার আর্থ বা বিরল খনিজ? (Nirmala Sitharaman)
‘বিরল খনিজ’ বলতে মূলত ১৭টি বিশেষ ধাতুকে বোঝানো হয়, যাদের একত্রে বলা হয় Rare Earth Elements । নামের মধ্যে ‘বিরল’ থাকলেও প্রকৃতপক্ষে এগুলি পৃথিবীতে খুবই অল্প পাওয়া যায় বা উত্তোলন করা কঠিন। এই ধাতুগুলি ছাড়া আজকের আধুনিক জীবন কার্যত অচল। ব্যবহার হয়, বৈদ্যুতিক যান, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, স্মার্টফোন ও ইলেকট্রনিক্স, বিমান পরিষেবা ও মহাকাশ গবেষণা, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও যুদ্ধবিমান, বিশেষ করে রেয়ার আর্থ পার্মানেন্ট ম্যাগনেট, যা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মোটর ও প্রযুক্তির প্রাণভিত্তি।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই ঘোষণা? (Nirmala Sitharaman)
বর্তমানে চিন এই শিল্পে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে আছে। পরিসংখ্যান বলছে, বৈশ্বিক খনি উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ, পরিশোধিত ও প্রক্রিয়াজাত বিরল খনিজ উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ, এই নির্ভরতা শুধুমাত্র অর্থনৈতিক নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ঝুঁকিপূর্ণ। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিরল খনিজ এখন একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক অস্ত্র। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের নিজস্ব উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি করা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছিল।

কী প্রস্তাব দিল কেন্দ্র? (Nirmala Sitharaman)
অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ বাজেট ভাষণে বলেন,“২০২৫ সালের নভেম্বরে বিরল খনিজ প্রকল্পটি চালু করা হয়েছিল। এখন আমরা খনিজসমৃদ্ধ রাজ্য ওড়িশা, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ুকে খনিজ উত্তোলন, প্রক্রিয়াকরণ, গবেষণা এবং উৎপাদনে উৎসাহিত করার জন্য রেয়ার আর্থ করিডর স্থাপন করার প্রস্তাব দিচ্ছি।” এই করিডরের মাধ্যমে একটি সম্পূর্ণ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হবে, যেখানে থাকবে, খনিজ উত্তোলন, প্রক্রিয়াকরণ ও পরিশোধন, গবেষণা ও উন্নয়ন, চূড়ান্ত উৎপাদন
আগেই তৈরি হয়েছিল ভিত (Nirmala Sitharaman)
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গত বছরের নভেম্বরেই এই ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ নিয়েছিল কেন্দ্র সরকার। প্রায় ৭২০০ কোটি টাকার প্রকল্পে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল, দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো চিনা আমদানির উপর নির্ভরতা কমানো, কৌশলগত খাতে স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করা, এদিনের বাজেট ঘোষণায় স্পষ্ট হয়ে গেল, সেই পরিকল্পনাই এবার বাস্তব রূপ নিতে চলেছে।
আরও পড়ুন: Content Creator Lab: চাকরির গণ্ডি ভেঙে জেন জির ভবিষ্যৎ গড়ছে কন্টেন্ট ক্রিয়েশন!
চার রাজ্য কেন বেছে নেওয়া হল?
এই চারটি রাজ্য, তামিলনাড়ু, কেরল, ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ খনিজ সম্পদের দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। উপকূলবর্তী অঞ্চল হওয়ায় এখানে মনাজাইট, ইলমেনাইটের মতো বিরল খনিজের ভাণ্ডার রয়েছে। এছাড়া, উন্নত পরিকাঠামো, বন্দর সুবিধা, শিল্পবান্ধব পরিবেশ, এই রাজ্যগুলিকে রেয়ার আর্থ করিডরের জন্য আদর্শ করে তুলেছে।



