Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে সাম্প্রতিক সময়ে যে বিষয়ভিত্তিক বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে, তারই একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন ‘সব চরিত্ররা’ (Rwitobroto Priyanka Debraj)। সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ঘরানার এই ছবি পরিচালনা করেছেন দীপ মোদক। ইতিমধ্যেই প্রকাশিত ট্রেলার দর্শকমনে কৌতূহল জাগিয়েছে, কী সেই রহস্য, যা বাস্তব ও অনুভূতির সীমারেখাকে ধূসর করে দেয়? ছবিটি মুক্তি পেতে চলেছে রিলায়েন্স এন্টারটেনমেন্ট-এর ইউটিউব প্ল্যাটফর্মে, ফলে সহজলভ্যতার কারণে আরও বৃহৎ দর্শকসমাজের কাছে পৌঁছনোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

গল্পের কেন্দ্রে এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী অভিনেতা (Rwitobroto Priyanka Debraj)
ছবির কাহিনি আবর্তিত হয়েছে এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী অভিনেতাকে ঘিরে (Rwitobroto Priyanka Debraj), যার জীবনে পেশাগত অনিশ্চয়তা ও ব্যক্তিগত অস্থিরতা ক্রমশ জটিল রূপ নেয়। শিল্পীজীবনের স্বপ্ন ও বাস্তবতার সংঘাতে তার মানসিক ভারসাম্য টলতে শুরু করে। ঠিক এই সময়েই এক অচেনা ব্যক্তির আবির্ভাব যে উপস্থিতি তার জীবনের গতিপথ বদলে দেয়। গল্প এগোতে থাকে এমন এক মনস্তাত্ত্বিক গোলকধাঁধায়, যেখানে দর্শকও ধীরে ধীরে অনিশ্চয়তার অংশ হয়ে ওঠেন। কোনটি বাস্তব, কোনটি কল্পনা এই প্রশ্ন ছবির প্রধান চালিকাশক্তি। পরিচালক সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরেছেন মানসিক টানাপোড়েনের সেই মুহূর্তগুলো, যা আমাদের অচেনা অথচ পরিচিত।
সম্পর্কের ধূসর বাস্তবতা (Rwitobroto Priyanka Debraj)
‘সব চরিত্ররা’ মূলত চরিত্রনির্ভর চলচ্চিত্র। এখানে প্রত্যেকটি চরিত্র নিজস্ব মানসিক অবস্থান ও যুক্তির ভিতর আবদ্ধ। ঋত্বিক দাশগুপ্ত চরিত্রে দেবরাজ ভট্টাচার্য এক দ্বিধাবিভক্ত মানুষকে ফুটিয়ে তুলেছেন, যিনি ভালোবাসা, আত্মসম্মান ও অভিমানের টানাপোড়েনে ক্রমশ অস্থির হয়ে ওঠেন। তাঁর অভিনয়ে এক অন্তর্মুখী যন্ত্রণার স্পষ্ট ছাপ ধরা পড়ে।
অন্যদিকে ঋতব্রত মুখোপাধ্যায়-এর চরিত্র বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে যুক্তির ভারসাম্য রক্ষা করে। তাঁর উপস্থিতি গল্পে এনে দেয় স্থিতি ও প্রতিফলনের সুযোগ। প্রিয়াঙ্কা ভট্টাচার্য সংবেদনশীল অভিনয়ের মাধ্যমে সম্পর্কের আবেগঘন দিকটিকে সামনে আনেন। এই তিনটি মানসিক অবস্থানের সংঘাতই ছবির মূল সুর নির্ধারণ করে। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন রানা বসু ঠাকুর ও দেবপ্রসাদ হালদার, যাঁদের উপস্থিতি কাহিনিকে আরও গভীরতা দেয়।

না-বলা কথার অভিঘাত
পরিচালক দীপ মোদকের মতে, মানুষের জীবনে অনেক ভুল বোঝাবুঝির জন্ম হয় না বলা কথার মধ্যে। সম্পর্কের ভেতরে জমে থাকা অনিশ্চয়তা, অভিমান ও অদৃশ্য মানসিক দূরত্ব এই সবকিছুকেই ছবিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংলাপের চেয়ে অনেক সময় দৃষ্টি, বিরতি ও নীরবতাই হয়ে উঠেছে অধিক অর্থবহ। এই নীরবতার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে চরিত্রগুলির আসল টানাপোড়েন। প্রত্যেকে নিজের অনুভূতিকে কেন্দ্র করে নিজেকে সঠিক ভাবলেও, অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে এই উপলব্ধিই ছবিকে আরও বাস্তব করে তোলে।
আরও পড়ুন: Kolkata: কবীর সুমনের উদ্বোধনে একুশের বইমেলা, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে লায়েলকা মাঠে
নির্মাণশৈলী
আলো-ছায়ার পরিমিত ব্যবহার ছবির মনস্তাত্ত্বিক আবহকে ঘনীভূত করেছে। আবহসংগীতের সূক্ষ্মতা ও মিতব্যয়ী সম্পাদনা গল্পকে গম্ভীর ও চিন্তাশীল মাত্রা দিয়েছে। ক্যামেরার ভাষা এখানে কেবল দৃশ্য ধারণ করেনি; বরং চরিত্রের অন্তর্জগতের প্রতিফলন ঘটিয়েছে। ট্রেলার থেকেই স্পষ্ট ‘সব চরিত্ররা’ শুধুমাত্র একটি গল্প নয়, এটি এক মনস্তাত্ত্বিক যাত্রা। দর্শককে ভাবতে বাধ্য করবে, নিজের ভেতরের অস্থিরতা ও সম্পর্কের জটিলতাকে নতুন করে দেখার সুযোগ দেবে।



