Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: একটা যুগের অবসান নীরবে (Saina Nehwal)। কোনও আলো ঝলমলে মঞ্চ, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার তোয়াক্কা না করেই প্রতিযোগিতামূলক ব্যাডমিন্টনকে বিদায় জানালেন সাইনা নেহওয়াল। এক সময় যিনি বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় ছিলেন, সেই সাইনা নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই জানালেন একটি পডকাস্টে। খুব স্বাভাবিক, খুব ব্যক্তিগত ভঙ্গিতে। ঠিক যেমনটা তিনি সারা কেরিয়ার জুড়েই করে এসেছেন-নিজের শর্তে।
কোর্টে অনুপস্থিত সাইনা (Saina Nehwal)
গত দু’বছর ধরেই কোর্টে কার্যত অনুপস্থিত ছিলেন (Saina Nehwal) সাইনা। ২০২৩ সালের সিঙ্গাপুর ওপেনের পর আর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেখা যায়নি তাঁকে। বারবার চোট, দীর্ঘ চিকিৎসা আর মানসিক টানাপোড়েনের মধ্যেই কেটেছে সময়। অবশেষে সেই বাস্তবতাকেই স্পষ্ট ভাষায় মেনে নিলেন তিনি। পডকাস্টে সাইনার বক্তব্যে কোনও নাটকীয়তা ছিল না, ছিল কেবল অভিজ্ঞতার ভার। তিনি জানিয়ে দেন, খেলা তিনি নিজের ইচ্ছায় শুরু করেছিলেন, আবার নিজের ইচ্ছাতেই থামাচ্ছেন। আলাদা করে ‘অবসর’ শব্দটি ব্যবহার করাও তাঁর প্রয়োজন মনে হয়নি।

সাইনার কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় শত্রু (Saina Nehwal)
সাইনার কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় শত্রু (Saina Nehwal) হয়ে উঠেছিল তাঁর হাঁটু। চিকিৎসকদের মতে, কার্টিলেজ প্রায় সম্পূর্ণ ক্ষয় হয়ে গিয়েছে, সঙ্গে রয়েছে আর্থ্রাইটিসের সমস্যাও। এই অবস্থায় বিশ্বের সেরা পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গেলে দিনে আট থেকে নয় ঘণ্টা কঠোর অনুশীলন দরকার। সেখানে তিনি দু’ঘণ্টার বেশি অনুশীলনই করতে পারছিলেন না। বহু চেষ্টা করেছেন, লড়াই করেছেন শরীরের সঙ্গে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বুঝেছেন-এই লড়াই আর চালিয়ে যাওয়ার মতো শক্তি শরীর দিচ্ছে না। সেই উপলব্ধিই তাঁকে থামতে বাধ্য করেছে।

সাইনার যাত্রা শুরু
সাইনার যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালে, মাত্র ১৫ বছর বয়সে। এরপর দ্রুতই তিনি হয়ে ওঠেন ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের পরিচিত মুখ। ২০১০ কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতে নজর কাড়েন গোটা দেশের। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জিতে তিনি লিখে ফেলেন ইতিহাস-ভারতীয় ব্যাডমিন্টনে প্রথম অলিম্পিক পদকজয়ী হিসেবে। এরপর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে রুপো ও ব্রোঞ্জ, ২০১৮ কমনওয়েলথ গেমসে আবার সোনা, এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ-সাফল্যের তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে। জুনিয়র বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্বও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।

আরও পড়ুন: Tamilnadu News: চারিদিকে রক্ত, মানুষের চিৎকার, মেলায় হঠাৎ বিস্ফোরণ!
ফর্মে ফিরতে বারবার চেষ্টা
তবে ২০১৬ রিও অলিম্পিকের পর থেকেই চোট তাঁর কেরিয়ারকে ধীরে ধীরে গ্রাস করতে শুরু করে। ফর্মে ফিরতে বারবার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু শরীরের সীমাবদ্ধতা শেষ পর্যন্ত সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে দাঁড়ায়। আজ আর কোর্টে নামবেন না সাইনা নেহওয়াল। কিন্তু তাঁর অবদান শুধুমাত্র পদক বা ট্রফিতে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি প্রমাণ করে গিয়েছেন, ভারত থেকেও বিশ্বসেরা হওয়া যায়। সেই আত্মবিশ্বাসই তাঁর সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার, যা আগামী প্রজন্মের খেলোয়াড়দের পথ দেখিয়ে যাবে।


