Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় জেল হেফাজতে কাটানোর পর অবশেষে জামিন পেলেন বিতর্কিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ‘ননসেন’ নামে পরিচিত শমীক অধিকারী (Samik Adhikary)। এক তরুণীর গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগ, গ্রেফতারি, আদালতের নির্দেশ এবং শেষ পর্যন্ত জামিন সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
কী অভিযোগ উঠেছিল? (Samik Adhikary)
ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে। এক তরুণী অভিযোগ করেন যে, শমীক অধিকারী তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত অমানবিক আচরণ করেছেন। অভিযোগকারিণীর দাবি অনুযায়ী, ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত কলকাতার বেহালা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে তাঁকে জোর করে আটকে রাখা হয়েছিল। তরুণীর বক্তব্য, ওই সময়ের মধ্যে তাঁকে শুধু আটকে রাখাই নয়, শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনও করা হয়। তাঁর অভিযোগ ছিল, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তিনি কার্যত বন্দি অবস্থায় দিন কাটাতে বাধ্য হন। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি দ্রুত পুলিশের নজরে আসে এবং তদন্ত শুরু হয়।

দমদম এলাকা থেকে পাকড়াও (Samik Adhikary)
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করার পর পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৬ ফেব্রুয়ারি দমদম এলাকা থেকে শমীক অধিকারীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। সেই সময় থেকেই বিষয়টি ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর জনপ্রিয়তার কারণে ঘটনাটি আরও আলোড়ন তোলে।
ফোনে আপত্তিজনক ভিডিও (Samik Adhikary)
তদন্তের সময় শমীক অধিকারীর মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে পুলিশ বেশ কিছু আপত্তিজনক ভিডিও উদ্ধার করেছে বলে সূত্রের খবর। এই ভিডিওগুলি সামনে আসার পর গোটা ঘটনার বিতর্ক আরও গভীর হয়। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন তাঁর কন্টেন্ট তৈরির ধরন ও ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে। ফলে ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি অভিযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং বৃহত্তর সামাজিক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
বিচারবিভাগীয় হেফাজত (Samik Adhikary)
গ্রেফতারের পর তাঁকে আদালতে তোলা হলে আদালত ১৬ মার্চ তাঁকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। সেই সময় থেকেই তিনি জেল হেফাজতে ছিলেন। তবে শুরু থেকেই শমীক অধিকারী নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাঁর দাবি, তিনি নির্দোষ এবং আইনের মাধ্যমে সত্য সামনে আসবে।
আরও পড়ুন: Rail Death AI: রেললাইনে বন্যপ্রাণীর মৃত্যু রোধ, AI ব্যবহারের সিদ্ধান্ত রেলমন্ত্রকের
আইনি লড়াই শেষে মিলল জামিন
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর অবশেষে আদালত তাঁকে জামিন মঞ্জুর করেছে। প্রায় এক মাসের বেশি সময় জেলে থাকার পর তিনি মুক্তি পেলেও মামলাটি এখনও বিচারাধীন। এই মুহূর্তে শমীক অধিকারী কোথায় রয়েছেন বা তিনি প্রকাশ্যে কী বক্তব্য রাখবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি আপাতত জনসমক্ষে আসেননি।



