Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সতীশ শাহ (Satish Shah) আর নেই। ৭৪ বছর বয়সে কিডনির জটিলতাজনিত কারণে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মুম্বাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৫ অক্টোবর (২০২৫) তারিখে তাঁর মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন। সতীশ শাহের প্রয়াণে পুরো বলিউড জগৎ আজ শোকাহত। সহ-অভিনেতা, পরিচালক এবং তাঁর ভক্তরা সামাজিক মাধ্যমে শোকবার্তা জানিয়ে বলছেন— এক যুগের হাসির প্রতীক চিরবিদায় নিলেন।
অভিনয়ের সূচনা ও প্রাথমিক জীবন (Satish Shah)
১৯৫১ সালের ২৫ জুন বোম্বেতে (বর্তমান মুম্বাই) জন্মগ্রহণ করেন সতীশ শাহ (Satish Shah)। শৈশব থেকেই নাট্যকলার প্রতি ছিল গভীর অনুরাগ। কলেজ জীবনে নাটক মঞ্চস্থ করার সময় থেকেই তিনি বুঝতে পারেন, অভিনয়ই তাঁর প্রকৃত পথ। ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন তিনি। ছোট চরিত্র দিয়ে শুরু হলেও ধীরে ধীরে নিজের প্রতিভা ও পরিশ্রমে দর্শকের মনে জায়গা করে নেন।
ক্যারিয়ারের উজ্জ্বল অধ্যায়
সতীশ শাহের (Satish Shah) ক্যারিয়ার ছিল বহুমাত্রিক ও বর্ণময়। ১৯৮৩ সালের কালজয়ী কমেডি ফিল্ম ‘জানে ভি দো ইয়ারো’ (Jaane Bhi Do Yaaro) তাঁকে এনে দেয় ব্যাপক খ্যাতি। তাঁর হাস্যরসাত্মক অভিনয় আজও দর্শকের মনে গেঁথে আছে। তবে ছোট পর্দায় ‘সারাভাই ভার্সেস সারাভাই’(Sarabhai vs Sarabhai)-এর ইন্দ্রবদন সারাভাই চরিত্রে তাঁর রসিকতা ও সময়জ্ঞান তাঁকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে। পাশাপাশি ‘হম আপকে হ্যায় কৌন’, ‘হম সাথ সাথ হ্য়ায়’মতো একাধিক ছবিতে কাজ করেছেন তিনি। এ ছাড়াও ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’ ছবিতে হৃতিক রোশনের বাড়িওয়ালার চরিত্রে , ‘ম্যায় হুঁ না’ ছবিতে অধ্যাপকের মতো গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। প্রতিটি ভূমিকাতেই ছিল তাঁর অনন্য উপস্থিতি ও প্রাণবন্ত অভিব্যক্তি (Satish Shah)।

আরও পড়ুন: Virat Kohli: সিডনিতে ইতিহাস লিখলেন কোহলি, ভাঙলেন শচীনের রেকর্ড
সরল মানুষ, গভীর মানবিকতা (Satish Shah)
অভিনয়ে হাস্যরসিক হলেও বাস্তব জীবনে সতীশ শাহ (Satish Shah) ছিলেন এক বিনয়ী ও সহমর্মী মানুষ। স্ত্রী মাধু শাহের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন ছিল ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধায় ভরপুর। শিল্পজীবনের উত্থান-পতনের মাঝেও তিনি কখনও অহংকারে ভেসে যাননি। তাঁর সহকর্মীরা স্মৃতিচারণা করে বলেছেন, তিনি ছিলেন এমন এক মানুষ, যিনি হাসির আড়ালে লুকিয়ে রাখতেন গভীর জীবনবোধ।
এক অমর হাসির বিদায়
সতীশ শাহ শুধু একজন অভিনেতা নন—তিনি ছিলেন এক যুগের আবেগ, এক অনন্ত হাসির প্রতীক। তাঁর মৃত্যুতে বলিউড হারাল এক প্রজ্ঞাবান শিল্পীকে, আর দর্শক হারালেন এক প্রিয় মুখকে। তবে সিনেমা ও টেলিভিশনের পর্দায় রেখে যাওয়া তাঁর কাজই প্রমাণ করে, শিল্পী কখনও সত্যিই মরে না। তাঁর সৃষ্ট হাসি ও আনন্দ চিরকাল বেঁচে থাকবে কোটি দর্শকের হৃদয়ে (Satish Shah)।


