Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ১৩ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা (SC Euthanasia Verdict) আর মানসিক যন্ত্রণার শেষে অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারলেন এক অসহায় বাবা–মা। কোমায় থাকা ছেলে হরিশ রানার চিকিৎসা প্রত্যাহারের অনুমতি দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আবারও সামনে এল ‘মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকার’-এর গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
বুধবার এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে সুপ্রিম কোর্ট অফ ইন্ডিয়া (SC Euthanasia Verdict) জানিয়েছে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে রোগীর স্বার্থ বিবেচনা করে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা বন্ধ করার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। বিচারপতি J. B. Pardiwala এবং K. V. Viswanathan-এর বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কোনও রোগীর জীবন কৃত্রিমভাবে দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে কিনা এবং তা আদৌ তাঁর জন্য উপকারী কিনা-সেই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা দরকার।
কে এই হরিশ রানা? (SC Euthanasia Verdict)
হরিশ রানা ছিলেন Chandigarh University-এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র। ২০১৩ সালে রাখির দিনে এক পেয়িং গেস্টের চারতলার বারান্দা থেকে পড়ে গুরুতর মাথায় আঘাত পান তিনি। সেই দুর্ঘটনার পর থেকেই তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘পার্সিস্টেন্ট ভেজিটেটিভ স্টেট’। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে কোনও উন্নতির লক্ষণ দেখা যায়নি তাঁর শরীরে।

লাইফ সাপোর্টের উপর নির্ভরশীল
চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, হরিশ সম্পূর্ণভাবে লাইফ সাপোর্টের উপর নির্ভরশীল। ফিডিং টিউবের মাধ্যমে তাঁকে পুষ্টি দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু এভাবেই অনির্দিষ্টকাল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তাঁর জন্য কতটা অর্থপূর্ণ- সেই প্রশ্ন থেকেই আদালতের দ্বারস্থ হন তাঁর বাবা–মা।
আরও পড়ুন: Weather: দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ, রাজ্যের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস
এই রায়ে আদালত আরও স্পষ্ট করেছে, হাসপাতালের মাধ্যমে দেওয়া কৃত্রিম পুষ্টিও এক ধরনের চিকিৎসা। তাই বিশেষ পরিস্থিতিতে মেডিক্যাল বোর্ডের মতামত নিয়ে তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত Common Cause vs Union of India মামলার নির্দেশিকাকে আরও পরিষ্কার করে দিল। সেই মামলায়ই প্রথমবার ‘মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকার’-কে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১-এর অন্তর্ভুক্ত বলে স্বীকৃতি দিয়েছিল আদালত। দীর্ঘ লড়াইয়ের শেষে হরিশ রানার মামলার এই রায় ভবিষ্যতে একই ধরনের জটিল পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ আইনি দিশা দেখাবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


