Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আসানসোলের একাধিক প্রাথমিক স্কুলে পড়াশোনার গতি কার্যত থমকে যাওয়ার আশঙ্কা (Working as BLO)। কারণ, ওই সমস্ত স্কুলের সব শিক্ষককেই একযোগে বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)-এর দায়িত্ব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ফলে একদিকে স্কুল চালানো, অন্যদিকে ভোট সংক্রান্ত কাজ দুইয়ের ভারে কার্যত দিশেহারা শিক্ষকরা।

কীভাবে চলবে স্কুল? (Working as BLO)
হীরাপুর চক্রের চাপড়াইদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন মাত্র দুই শিক্ষক। পড়ুয়ার সংখ্যা ৫১। এই দুই শিক্ষককেই বিএলও হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ডাবলু নাথ বলেন, “স্কুল চালানো যথেষ্ট সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এত কম সময়ে কাজটি সঠিকভাবে হবে কি না, তা নিয়েও আশঙ্কা রয়েছে।” তিনি জানান, তাঁর দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকা স্কুল থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে। “সেই অঞ্চলটি আবাসন এলাকা হওয়ায় বেশিরভাগ মানুষ সারাদিন বাইরে থাকেন। ফলে তাঁদের বাড়িতে পাওয়া যাবে না। কাজটি কীভাবে করব, সেটা ভেবেই আমরা চিন্তিত।”

ফটিকচন্দ্র স্মৃতি বিদ্যালয়েও একই চিত্র (Working as BLO)
আসানসোলের নামোপাড়ার ফটিকচন্দ্র স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয় হীরাপুর চক্রের অন্তর্গত। এখানে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ২৬, শিক্ষক দুইজন, এবং তাঁদেরও দেওয়া হয়েছে বিএলও-র দায়িত্ব। প্রধান শিক্ষক অমিয় মণ্ডল জানান, “আমাদের দু’জনেই বিএলও। ফলে স্কুলের পড়ানো ও কাজ দুই সামলাতে হচ্ছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ছুটির দিনে বা স্কুল শেষে এসআইআরের কাজ করতে হবে।” সহশিক্ষক অভিমন্যু শূর বলেন, “আমাদের মধ্যে বোঝাপড়া করে কাজ ভাগ করব। কোনওদিন প্রধান শিক্ষক বাইরে থাকলে আমি স্কুল দেখব, আর আমি গেলে উনি দেখবেন।” তাঁদের বক্তব্য, স্কুল পরিচালনা মানে কেবল পাঠদান নয় মিড-ডে মিলের রান্না, খাবার সরবরাহ, শিশুদের খাবার তদারকি সবই শিক্ষকদের সামলাতে হয়।
“সরকারি স্কুলে এমন ক্ষতি কেন?” (Working as BLO)
ডুবুরডিহি প্রাথমিক স্কুলের অভিভাবক রঞ্জিত বাউরি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা টাকার অভাবে সরকারি স্কুলে সন্তানদের পড়াতে পাঠাই। অথচ এভাবে লেখাপড়ার ক্ষতি হচ্ছে। বেসরকারি স্কুলে তো এমন হয় না।” অভিভাবকদের আশঙ্কা, নভেম্বর-ডিসেম্বরে যখন পরীক্ষার মরশুম, তখন শিক্ষক না থাকলে পড়ুয়ারা পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়বে।
‘সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী শিক্ষকরা’ (Working as BLO)
তবে হতাশ না হয়ে শিক্ষকরা নিজেরাই সমাধান খুঁজছেন। ঠিক হয়েছে, দিনের নির্দিষ্ট সময় ভাগ করে শিক্ষকরা একাংশ স্কুল সামলাবেন, বাকিরা বিএলও কাজ করবেন। একজন শিক্ষক বলেন, “স্কুল ছুটির পর, বিকেল বা সন্ধ্যায় বিএলওর কাজ করা হবে। স্কুলের ক্ষতি যতটা সম্ভব কমানোই লক্ষ্য।”
আরও পড়ুন:Foreign Hindi Scholar: বিদেশি স্কলারের প্রবেশে বাধা! ভারত কি ভয় পাচ্ছে মুক্ত চিন্তাকে?
শিক্ষা দফতরের প্রতিক্রিয়া
এই বিষয়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান রথীন্দ্রনাথ মজুমদার বলেন, “আমরা গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। কোথাও পঠন-পাঠনে যাতে বিঘ্ন না ঘটে, তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”



