Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দীর্ঘদিন পরে একেবারে ‘খতরনাক’ অবতারে পর্দায় ধরা দিয়েছিলেন শাহিদ কাপুর (Shahid Kapoor)। সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘ও রোমিও’-র পয়লা ঝলক প্রকাশ্যে আসতেই দর্শকমহলে উত্তেজনার পারদ চড়ে যায়। নয়ের দশকের মুম্বইয়ের অন্ধকার জগতের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই ছবিতে শাহিদের রুক্ষ, হিংস্র ও দুর্ধর্ষ গ্যাংস্টার লুক কার্যত নজর কাড়ে। কিন্তু উন্মাদনার মাঝেই আচমকা মাথাচাড়া দেয় বিতর্ক। অভিযোগ উঠল, এই চরিত্র আদতে বাস্তবের কুখ্যাত গ্যাংস্টার হুসেন উস্তারা-র জীবনকাহিনির আঁধারে নির্মিত আর তাতেই আইনি ঝঞ্ঝাটে জড়িয়ে পড়লেন অভিনেতা ও নির্মাতারা।

নয়ের দশকের মুম্বই ও হুসেন উস্তারা (Shahid Kapoor)
বলিউডের অলিগলিতে কানাঘুষো বহুদিনের নয়ের দশকে মুম্বইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ড মানেই একাধিক কুখ্যাত নামের ছায়া। সেই তালিকায় অন্যতম ছিল হুসেন উস্তারা। শোনা যায়, মুম্বইয়ের প্রান্তিক এলাকা থেকে উঠে এসে ধীরে ধীরে অপরাধজগতের শক্তিশালী ডন হয়ে ওঠেন তিনি। দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভরা প্রায় সাপে-নেউলে। ‘ও রোমিও’-র টিজার দেখে অনেকেরই অনুমান, বিশাল ভরদ্বাজ শাহিদের চরিত্র গড়েছেন এই উস্তারার জীবন ও কর্মকাণ্ডের অনুপ্রেরণায়।
ত্রিকোণ প্রেম ও গ্যাংস্টার রাজনীতি (Shahid Kapoor)
টিজার প্রকাশের পর আরও একটি গুঞ্জন ছড়ায় ছবিটি নাকি আদতে স্বপ্নাদিদি, দাউদ ইব্রাহিম এবং হুসেন উস্তারা-র মধ্যেকার এক ত্রিকোণ সম্পর্ক ও ক্ষমতার লড়াইকে কেন্দ্র করে। প্রেম, প্রতিহিংসা, বিশ্বাসঘাতকতা আর অপরাধের জটিল সমীকরণ এই সবকিছু মিলিয়েই নাকি ‘ও রোমিও’। এই গুঞ্জনই শেষ পর্যন্ত আগুনে ঘি ঢালে।

উস্তারাকন্যার আপত্তি ও আইনি নোটিস (Shahid Kapoor)
এই আবহেই সামনে আসেন হুসেন উস্তারার কন্যা শানোবার শেখ। তাঁর অভিযোগ, ছবিটি শুধু অনুপ্রাণিত নয় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাঁর বাবার জীবনকেই তুলে ধরেছে। বলিউড সূত্রে খবর, আইনজীবী ডিভি সরোজ-এর মাধ্যমে তিনি পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজ, চিত্রনাট্যকার রোহান নরুলা, প্রযোজনা সংস্থা নাদিয়াদওয়ালা গ্র্যান্ডসন এন্টারটেইনমেন্ট, এমনকি অভিনেতা শাহিদ কাপুরের কাছেও আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন। এখানেই শেষ নয় ছবির সেন্সর ছাড়পত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলে সেন্সর বোর্ডকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে।
অভিযোগের মূল সুর (Shahid Kapoor)
নোটিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নির্মাতারা প্রকাশ্যে দাবি করেছেন ছবিটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে। শাহিদের চরিত্রটি উস্তারার জীবনকাহিনির আঁধারে গড়া এমন ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ছবি তৈরির আগে বা পরে উস্তারার পরিবার, বিশেষ করে শানোবার শেখের সঙ্গে কোনওরকম অনুমতি বা যোগাযোগ করা হয়নি।, উপরন্তু কাল্পনিক ও অতিরঞ্জিত অপরাধমূলক দৃশ্য দেখিয়ে উস্তারার ভাবমূর্তি ও তাঁর পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই শানোবার শেখ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এবং ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। পাশাপাশি তাঁর আর্জি, অবিলম্বে ছবির প্রচার ও মুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হোক।
নির্মাতাদের পালটা যুক্তি (Shahid Kapoor)
অভিযোগের জবাবে ‘ও রোমিও’ নির্মাতাদের বক্তব্য, ছবির শেষে স্পষ্ট একটি ডিসক্লেইমার রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে এই ছবির চরিত্র ও ঘটনাবলি সম্পূর্ণ কাল্পনিক; বাস্তব কোনও ব্যক্তি বা ঘটনার সঙ্গে মিল থাকলে তা নিছক কাকতালীয় এবং অনিচ্ছাকৃত। তাঁদের দাবি, কোনও ব্যক্তিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মানহানি করার চেষ্টা করা হয়নি।
আরও পড়ুন: Ranjit Mallick: মল্লিক বাড়িতে উন্নয়নের পাঁচালি! ভোটের আগে সবচেয়ে বড় মাস্টারস্ট্রোক
শিল্পের স্বাধীনতা বনাম ব্যক্তিগত সম্মান
এই বিতর্ক নতুন নয়। বলিউডে এর আগেও একাধিকবার বাস্তব চরিত্র বা ঘটনার ছায়ায় তৈরি ছবিকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াই হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে একদিকে শিল্পীর সৃজনশীল স্বাধীনতা, অন্যদিকে বাস্তব ব্যক্তির সম্মান ও অধিকার এই দুইয়ের সীমারেখা ঠিক কোথায়? ‘ও রোমিও’ সেই চিরাচরিত দ্বন্দ্বকেই ফের সামনে আনল।



