Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও ‘বিগ বস ১৩’-এর আলোচিত প্রতিযোগী শেহনাজ গিল আবারও সংবাদ শিরোনামে (Shehnaaz– Sidharth)। সম্প্রতি এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তিনি অকপটে খুলে বললেন তাঁর জীবনের গভীরতম বেদনা প্রয়াত অভিনেতা সিদ্ধার্থ শুক্লার সঙ্গে সম্পর্ক, তাঁর অকাল মৃত্যু, এবং সেই ঘটনার পর জীবনে ঘটে যাওয়া মানসিক পরিবর্তনের কথা।
“সিদ্ধার্থের চলে যাওয়া আমাকে রাতারাতি পরিণত করেছে” (Shehnaaz- Sidharth)
শেহনাজ গিল সাক্ষাৎকারে বলেন, “সিদ্ধার্থ আমাকে অনেক পরিণত করে দিয়ে গিয়েছে। যখন সেই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, তারপরে আমি রাতারাতি বড় হয়ে উঠেছি। যদি সেটা না ঘটত, তবে আমি হয়তো আজও ‘বিগ বস’-এর সেই চঞ্চল মেয়েটিই থাকতাম কারওর পরোয়া করতাম না, যা ইচ্ছে তাই করতাম।” ‘বিগ বস ১৩’-এর ঘরে সিদ্ধার্থ শুক্লা ও শেহনাজের রসায়ন ছিল অনুষ্ঠানের প্রাণ। তাঁদের জুটি অনুরাগীদের কাছে পরিচিত ছিল ‘সিডনাজ’ নামে। সেই সময়ের শেহনাজ ছিলেন প্রাণবন্ত, হাসিখুশি, শিশুসুলভ আবেগে ভরা। কিন্তু সিদ্ধার্থের হঠাৎ প্রয়াণ তাঁর জীবনে যেন এক ঝড় তুলে দিয়েছিল, যা তাঁর ভেতরের মানুষটিকে সম্পূর্ণ বদলে দেয়।

চঞ্চলতার জায়গায় এলো আত্মসংযম ও ভাবনা (Shehnaaz- Sidharth)
শেহনাজ জানান, আগে তিনি ছোটখাটো বিষয়েও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাতেন, কিন্তু এখন তিনি অনেক ভাবেন, শান্ত থাকেন। “আমি এখন আর আগের মতো তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাই না। আমি আগে হাসিখুশি, হালকা মনের মানুষ ছিলাম। কিন্তু জীবনের এমন এক ধাক্কা আমাকে বুঝিয়েছে জীবন শুধু আনন্দ নয়, এটি গভীর এক যাত্রা।” এই কথায় প্রকাশ পায়, কীভাবে এক ভয়াবহ ব্যক্তিগত ক্ষতি তাঁকে আরও পরিণত, সংযত এবং দৃঢ়চেতা করে তুলেছে।
স্মৃতির আয়নায় ‘সিডনাজ’ (Shehnaaz- Sidharth)
অভিনেত্রী জানান, তিনি প্রায়ই ‘বিগ বস’-এর পুরনো ভিডিও ক্লিপ দেখেন। তখন তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে, “আমি কি সত্যিই এমন ছিলাম? আমি কি এতটাই সরল ছিলাম?” তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর সেই সারল্য, সেই অতিরিক্ত চঞ্চলতা আজ আর নেই। সিদ্ধার্থের চলে যাওয়ার পর জীবনের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ বদলে গেছে।
আরও পড়ুন: Thailand: ট্রাম্প-সচেষ্ট থাইল্যান্ড-কাম্বোডিয়া শান্তিচুক্তি স্থগিত, ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে উত্তেজনা
ট্র্যাজেডি থেকে শক্তিত
শেহনাজ গিলের এই সাক্ষাৎকার শুধু আবেগ নয়, বরং এক মানসিক রূপান্তরের অনুপ্রেরণামূলক কাহিনি। প্রিয়জন হারানোর বেদনাকে তিনি জীবনের শক্তিতে রূপান্তরিত করেছেন। তিনি বলেন, জীবনে এখন তাঁর লক্ষ্য শুধুমাত্র নিজের কাজ ও আত্মোন্নয়ন। তবে প্রতিটি সিদ্ধান্তে, প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি অনুভব করেন সিদ্ধার্থের স্মৃতি ও শিক্ষা তাঁর সঙ্গে আছে এক নীরব শক্তির মতো।



