Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতের রাজনীতিতে শিবরাজ পাটিলের নাম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান রাখে (Shivraj Patil Passes Away)। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং সুদক্ষ প্রশাসনিক দক্ষতার জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে সমাদৃত ছিলেন। আজ, শুক্রবার সকালে মহারাষ্ট্রের লাতুরে নিজের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন দেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা শিবরাজ পাটিল। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। শিবরাজ পাটিল দীর্ঘদিন বয়সজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তার পরিবারে রয়েছেন ছেলে শৈলেশ পাটিল, পুত্রবধূ অর্চনা পাটিল, যিনি বিজেপি নেত্রীও, এবং দুই নাতনি।

প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষাজীবন (Shivraj Patil Passes Away)
শিবরাজ পাটিলের জন্ম ১৯৩৫ সালের ১২ অক্টোবর লাতুরে। ছোটবেলা থেকেই তিনি পড়াশোনায় আগ্রহী ছিলেন। মারাঠি, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন তিনি। বই পড়া তাঁর বড় শখ ছিল এবং সংবিধান সম্পর্কেও তাঁর ছিল গভীর জ্ঞান।

রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা (Shivraj Patil Passes Away)
শিবরাজ পাটিলের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় নিজের শহর লাতুর থেকে। তিনি প্রথমে পুরসভা নির্বাচনে জয়লাভ করে পৌরপ্রধান হন। ১৯৭০-এর দশকে বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়ে রাজ্য রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। পরবর্তীকালে টানা সাতবার, ১৯৮০, ১৯৮৪, ১৯৮৯, ১৯৯১, ১৯৯৬, ১৯৯৮ ও ১৯৯৯ সালে লাতুর থেকে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হন।
স্পিকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব (Shivraj Patil Passes Away)
১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন লোকসভার স্পিকার। এই সময়কালে সংসদের কার্যক্রমকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য তিনি প্রশংসিত হন। ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত শিবরাজ পাটিল ছিলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিশেষ করে ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বই হামলার সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন। হামলার সময় নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য সমালোচনার মুখে পড়ে নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন

আরও পড়ুন: South Kolkata Fire: গভীর রাতে দক্ষিণ কলকাতার বিধ্বংসী আগুন
রাজ্যপাল ও প্রশাসনিক কাজ
২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত শিবরাজ পাটিল পঞ্জাবের রাজ্যপাল এবং চণ্ডীগঢ়ের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়কালে তিনি তার নৈতিকতা, সংযমী আচরণ এবং প্রশাসনিক দক্ষতার জন্য পরিচিত হন। শিবরাজ পাটিলকে শুধু একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবেই মনে করা হতো না; তিনি ছিলেন বিনয়ী, ন্যায়পরায়ণ এবং সদা সংবিধান ও নিয়মের প্রতি আনুগত্যী। কখনও কোনও নেতাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেননি। জনসভা বা বৈঠকে কারোর প্রতি বিরূপ মন্তব্য করা ছিল তাঁর অভ্যাসবিরোধী।



