Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতা শহরে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক অগ্নিকাণ্ড যেন মৃত্যু ও ক্ষতির দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছে (South Kolkata Fire)। দক্ষিণ কলকাতার রামগড় বাজার থেকে শুরু করে আনন্দপুর, এজরা স্ট্রিট শহরের নানান প্রান্তে আগুন যেন প্রতিনিয়তই তাণ্ডব চালাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, প্রতিটি ঘটনার পরে তৎপরতা দেখা গেলেও আগুন লাগা বন্ধ হচ্ছে না কেন?

রাতের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড (South Kolkata Fire)
গভীর রাতে দক্ষিণ কলকাতার রামগড় বাজারে আচমকাই দেখা যায় আগুনের লেলিহান শিখা। রাত দেড়টা নাগাদ স্থানীয়রা কয়েকটি দোকানে আগুন জ্বলতে দেখে দমকলে খবর দেন দ্রুত। কিন্তু বাজারের ঘিঞ্জি পরিবেশ ও দোকানগুলিতে সঞ্চিত দাহ্য সামগ্রী আগুনকে মুহূর্তে ভয়ংকর আকার দেয়। দমকলের ৭টি ইঞ্জিন টানা দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ৪০টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুন লাগার উৎস নিয়ে তদন্ত চলছে।
রাসায়নিক গোডাউনের আতঙ্ক (South Kolkata Fire)
এর কিছুদিন আগেই আনন্দপুরের গুলশন কলোনিতে ঘটে আরেক বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড। একটি বহুতলের নিচে থাকা রাসায়নিক গোডাউন থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। গোডাউনের ভেতরে প্রচুর দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল কর্মীরা হিমশিম খেতেন, প্রায় এক ঘণ্টা লেগে যায় আগুন সামলাতে। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আকাশ। পাশেই ছিল দোকান ও আবাসিক এলাকা, ফলে মানুষের আতঙ্ক আরও বাড়ে।

নজরদারির প্রশ্নে পুরসভা-দমকল (South Kolkata Fire)
বছরের শুরু না হতেই ফের অগ্নিকাণ্ড ঘটে এজরা স্ট্রিটে একসময় কলকাতার বৈদ্যুতিন সামগ্রীর অন্যতম ব্যস্ত বাজার।
এবারও রাতের অন্ধকারে আগুনের দাপটে ছাই হয়ে যায় এলাকায় থাকা বহু দামী বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতি। ২০টি দমকল ইঞ্জিনের কঠোর লড়াইয়ের পর ভোরের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ক্রমাগত আগুন লাগার ঘটনাগুলিতে প্রশ্ন উঠছে, নজরদারি কোথায়? অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার উন্নতি হচ্ছে কেন না?
আরও পড়ুন: SMLM 2k25: SMLM-এর মঞ্চে দাঁড়িয়ে কত স্বপ্ন সত্যি হয়েছে
২৩ অক্টোবরের ঘটনার প্রতিচ্ছবি
২০২৪-এর ২৩ অক্টোবরও আগুন লেগেছিল এজরা স্ট্রিটে কাঠের বাক্স তৈরির কারখানা থেকে আগুন ছড়ায়। ১৫টি দমকল ইঞ্জিনের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তারপরও মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ফের ভয়ংকর আগুন আক্রান্ত করল একই অঞ্চলকে। সকালবেলায় বৈদ্যুতিন সামগ্রীর একটি দোকান থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। দমকলের ২০টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তবু দোকানের ভেতরের দাহ্য পদার্থ আগুনকে দ্রুত ভয়াবহ করে তোলে। পাশের বহুতল পর্যন্ত আগুন ছড়িয়ে যায়, কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আকাশ।



