Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষার উদ্দেশ্যে চালু হওয়া বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর এই প্রশাসনিক উদ্যোগ ক্রমশ সাধারণ মানুষের কাছে আতঙ্কের আরেক নাম হয়ে উঠছে (SIR)। ভোটার তালিকার সংশোধনের মতো একটি নিয়মিত ও প্রয়োজনীয় কাজ যে কীভাবে সামাজিক চাপ, মানসিক যন্ত্রণা এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর মতো ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে, তারই নির্মম উদাহরণ উঠে এল কলকাতার পূর্ব যাদবপুর ও মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ থেকে।

দায়িত্বের চাপে নুয়ে পড়া এক শিক্ষক (SIR)
পূর্ব যাদবপুরের মুকুন্দপুর এলাকার অহল্যা নগরে বৃহস্পতিবার সকালে যে দৃশ্য সামনে আসে, তা নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা প্রশাসনিক মহলকে। নিজের বাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হন অশোক দাস, যিনি পেশায় ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর এলাকার বহরু হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক। একই সঙ্গে তিনি চলমান এসআইআর প্রক্রিয়ায় বুথ লেভেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। চিতকালিকাপুর এফ.পি. স্কুলের ১১০ নম্বর ভোটকেন্দ্রে বিএলও হিসাবে কর্মরত অশোক দাসের পরিবারের দাবি, এসআইআর সংক্রান্ত কাজ নিয়ে প্রবল মানসিক চাপে ছিলেন তিনি। শুধু প্রশাসনিক চাপ নয়, পাড়ায় পাড়ায় মানুষের প্রশ্ন, অভিযোগ, সন্দেহ সব মিলিয়ে এক অদৃশ্য মানসিক বোঝা বহন করছিলেন তিনি।
প্রশাসনিক দায়িত্ব বনাম সামাজিক চাপ (SIR)
এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিএলওদের দায়িত্ব অত্যন্ত সংবেদনশীল। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই, নাম বাদ পড়া বা বানান ভুল সংক্রান্ত অভিযোগ শোনা, নোটিস পৌঁছে দেওয়া এই সমস্ত কাজের মধ্যেই তৈরি হয় সংঘাতের পরিস্থিতি। অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ প্রশাসনিক নিয়মকানুন না বুঝে সরাসরি বিএলওদের দায়ী করেন। অশোক দাসের দিদির বক্তব্য, এই লাগাতার চাপই তাঁর ভাইকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। কীভাবে এই মৃত্যু হল, তা খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছে পরিবার। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা নিজে।

মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ (SIR)
একই দিনে এসআইআর আতঙ্ক ঘিরে আরেকটি মৃত্যুর অভিযোগ উঠে আসে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ থেকে। পুটু শেখ, বয়স ৬০ বছর রামেশ্বরপুর চাচন্ড গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর সংক্রান্ত শুনানির নোটিসই তাঁর মৃত্যুর কারণ। নোটিসে পুটু শেখের নাম ভুল বানানে লেখা ছিল ‘পুট’। এই সামান্য বানান বিভ্রাটই বৃদ্ধের মনে গভীর আতঙ্কের জন্ম দেয়। একে একে ছেলে ও বউমার নামেও নোটিস আসতে শুরু করলে তাঁর দুশ্চিন্তা আরও বাড়ে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুনানির দিন বাড়িতে একাই ছিলেন তিনি। সেই সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর।
প্রশাসনিক ভুল, মানবিক বিপর্যয় (SIR)
এই দুটি ঘটনায় একটি সাধারণ সুত্র স্পষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মানবিক দিক উপেক্ষিত। নামের বানান ভুল, নোটিসের ভাষা, শুনানির ভয় এসব বিষয় শিক্ষিত ও সচেতন মানুষের কাছেও বিভ্রান্তিকর হতে পারে। সেখানে গ্রামীণ বা প্রান্তিক মানুষের ক্ষেত্রে তা হয়ে ওঠে চরম আতঙ্কের কারণ। এসআইআর-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় যদি পর্যাপ্ত সচেতনতা, সহানুভূতিশীল আচরণ এবং মানসিক সমর্থনের ব্যবস্থা না থাকে, তবে তার ফল ভয়াবহ হতে বাধ্য।

আরও পড়ুন: Bank Strike India: পরপর ৫ দিন বন্ধ ব্যাঙ্ক, এটিএমেও থাকবে না টাকা!
প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নিয়ে
এই মুহূর্তে বড় প্রশ্ন এসআইআর কি শুধুই তথ্য সংশোধনের কাজ, না কি তা রূপ নিচ্ছে এক প্রকার সামাজিক সন্ত্রাসে? প্রশাসনিক লক্ষ্য পূরণের তাড়নায় কি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে চোখ বন্ধ রাখা হচ্ছে? বিএলও থেকে শুরু করে সাধারণ ভোটার দু’পক্ষই এই প্রক্রিয়ার চাপে বিপর্যস্ত। ফলে প্রয়োজন হয়ে উঠেছে অবিলম্বে এসআইআর প্রক্রিয়ার মানবিক পুনর্মূল্যায়ন।



