Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজারহাটে রেলিং ভেঙে বাস খালে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে (Rajarhat)। সেই দুর্ঘটনায় বহু মানুষ আহত হওয়ার পরই প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। দ্রুত আরামবাগের ভগ্ন রামকৃষ্ণ সেতুতে লোড টেস্ট শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলত, শনিবার সকাল থেকেই হঠাৎ করে সেতুতে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকী, দুই চাকার যানও যেতে পারবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
“আমরাই সব সিদ্ধান্তের বলি” (Rajarhat)
দূর–দূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন আরামবাগের উপর দিয়ে কলকাতা বা অন্য জেলায় কাজ করতে যান। সেতু বন্ধ থাকায় তাঁদের এখন সেতুর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত হেঁটে যেতে হচ্ছে। এতে সময় নষ্ট হচ্ছে, অফিসে দেরি হচ্ছে, কেউ কেউ ট্রেন মিস করছেন। স্থানীয় কুমকুম দত্ত ও মায়া ঘোষের কথায়, “সবটাই সরকারি পলিসির ভুল। দায়সারা কাজ হচ্ছে। আবার সেই লোহার বার দিয়ে রেলিং হচ্ছে এতে নিরাপত্তা কোথায়? নতুন সেতু তৈরি না হলে আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই।”
বারবার ‘দায়সারা’ মেরামতি (Rajarhat)
রামকৃষ্ণ সেতু বহু বছর ধরেই অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। কয়েক মাস আগেই প্রশাসন ফুটপাথ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। গত ৯ আগস্ট সেতুর একাংশ ভেঙে পড়েছিল। কিছুদিন বন্ধ থাকার পর অস্থায়ী মেরামতি করে ফের যান চলাচল শুরু হয়। সেতুর দুই ধারে তখন কংক্রিটের গার্ডওয়াল কেটে ফেলা হয় এবং লোহার বার দিয়ে নতুন রেলিং বসানো হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী নয়, বরং সেতুর নিরাপত্তা আরও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
হাজারো যাত্রীদের হাঁটাপথে পাড়ি (Rajarhat)
শনিবার সকাল থেকে হাজার হাজার নিত্যযাত্রী মিছিলের মতো করে হাঁটছেন সেতু পারাপার করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করলেও, যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ তুঙ্গে। এই সুযোগে অটো ও টোটো চালকেরা ইচ্ছেমতো ভাড়া নিচ্ছেন, ফলে ভোগান্তি আরও বেড়েছে। গোঘাট ও কালীপুরের দিকে দক্ষিণবঙ্গের পাঁচ জেলার বাস দাঁড়িয়ে যাচ্ছে সেতুর আগেই। অপরদিকে, বর্ধমান, কলকাতা ও হুগলির বাস আরামবাগে পল্লিশ্রীর দিকেই আটকে যাচ্ছে।
চিকিৎসা ব্যবস্থার সমস্যা (Rajarhat)
আরামবাগ শহরে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থাকলেও, অ্যাম্বুল্যান্স রামকৃষ্ণ সেতু দিয়ে যেতে পারছে না। জরুরি পরিস্থিতিতে বাইক–অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, তবে তা যথেষ্ট নয় বলে দাবি স্থানীয়দের। সেতুর দুই প্রান্তে মেডিক্যাল ক্যাম্প বসানো হয়েছে, কিন্তু তা শুধুমাত্র প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য। প্রশাসনের কোনও আধিকারিক এখনও পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেননি, কোনও মন্তব্যও করেননি।
খামখেয়ালিপনা? (Rajarhat)
স্থানীয়দের মতে, রাজারহাটের দুর্ঘটনার পর প্রশাসন আতঙ্কে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বহু যাত্রী প্রশ্ন তুলেছেন “লোড টেস্টের নামে আমরা কি পরীক্ষা দিচ্ছি? রেলিং বদলে সেতু কি মজবুত হবে?”
আরও পড়ুন: Shani Margi 2025: শনি দেবের মীন রাশিতে গমন, ২০২৬ পর্যন্ত ভাগ্য উজ্জ্বল হবে এই পাঁচ রাশির!
নতুন সেতুর দাবিতে সরব সাধারণ মানুষ
স্থানীয় ও নিত্যযাত্রীরা দাবি তুলেছেন, এই পুরোনো ও দুর্বল রামকৃষ্ণ সেতুর জায়গায় একটি নতুন, আধুনিক সেতু তৈরি করা হোক। এতে শুধুমাত্র আরামবাগ নয়, দক্ষিণবঙ্গের বৃহৎ অংশ উপকৃত হবে। তাঁদের কথায়, “প্রতিদিনের ভোগান্তি যদি প্রশাসন দেখতে না পায়, তাহলে আর উন্নয়ন কোথায়?”



