Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ঘাড় গুঁজে একটানা মোবাইল ঘাঁটা, পরিশ্রম না করা ইত্যাদি বিষয় প্রভাব ফেলছে কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যের উপর (Health)।
রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে স্ক্রিন টাইম (Health)
যন্ত্রের ফলে যেমন অনেক কাজ সহজ হয়েছে তেমনই যন্ত্র নির্ভর জীবনের যন্ত্রনাও বেড়েছে অনেকটাই। দৈনন্দিন জীবনে আমাদের সবসময়ের সঙ্গী কোনও না কোনও যন্ত্র। যার মধ্যে সারাক্ষণ হাতে থাকে মোবাইল। আট থেকে আশি সবাই এখন ফোনে আসক্ত। কমবেশি তার প্রভাব পড়ছে আমাদের শরীরে। তবে এর মারাত্মক প্রভাব দেখা যাচ্ছে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে (Health)।
ঘাড় গুঁজে সারাক্ষণ মোবাইল ঘাঁটা, শরীরচর্চা না করা, দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকা, ইত্যাদি কারণে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ক্রমাগত বেড়ে চলেছে রোগের ঝুঁকি। একটা সময় ছিল যখন বই পড়া, মাঠে গিয়ে খেলা ইত্যাদি ছিল জীবনের অঙ্গ কিন্তু এখন তার বদলে জায়গা করে নিয়েছে মোবাইল ফোন আর ইন্টারনেট। আর সেই ইন্টারনেটের ফাঁদে পড়েই দেখা যাচ্ছে পিঠ-কোমরে ব্যথা, পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া এবং নমনীয়তা কমে যাওয়ার মতো একাধিক সমস্যা। বয়স কম হলেও এই সকল সমস্যায় কাবু করে দিচ্ছে তরুণ প্রজন্মকে। এমনটাই রিপোর্ট উঠে এসেছে AIIMS ও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চের করা একটি গবেষণায়।
দিল্লির দু’টি বেসরকারি স্কুলের ১৫-১৮ বছর বয়সি ৩৮০ শিক্ষার্থীদের নিয়ে করা হয় একটি গবেষণা। ২০২৩-এর অক্টোবর মাসে এই গবেষণা শুরু হয় এবং চলে টানা দুই বছর। চলতি মাসে সেই গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য যা চিন্তায় ফেলেছে চিকিৎসকদের। এই গবেষণায় দেখা গিয়েছে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ঘাড় ও কাঁধ যন্ত্রণা, কোমরে ব্যথা, পেশি শক্ত হয়ে যায়, ফ্ল্যাট ফুট, নমনীয়তা কমে যাওয়া এবং সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ার মতো সমস্যা বাড়ছে।
আরও পড়ুন: Koel – Ranjit Mallick : কোয়েলের স্বার্থপর জীবনে ‘যুধিষ্ঠির’ রঞ্জিত মল্লিক! পোস্ট অভিনেত্রীর
রিসার্চ টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে এই সমস্যার জন্য দায়ী সেডেন্টারি লাইফস্টাইল। এই সেডেন্টারি লাইফস্টাইলের অর্থ হলো একটানা এক জায়গায় বসে থাকা বা কোনও প্রকার যদি মুভমেন্ট না করা। দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ব্যবহার করা, কম্পিউটারের সামনে বসে থাকা, বাইরে বেরিয়ে খেলাধুলো না করা ইত্যাদি অভ্যেস আমাদের শরীরের স্বাভাবিক ফ্লেক্সিবিলিটি বা নমনীয়তা নষ্ট করে দিচ্ছে। যার প্রভাব বর্তমানে সব থেকে বেশি পড়ছে তরুণ প্রজন্মের উপর।

তবে এই ধরণের সমস্যা এড়ানো যেতে পারে। তার জন্য প্রয়োজন জীবনধারায় কিছু পরিবর্তন আনা। যার মধ্যে সবার আগে প্রয়োজন স্ক্রিন টাইম কমানো, তাছাড়াও মাঠে গিয়ে খেলা বা যেকোনো আউটডোর গেমে অংশ নেওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যেস তৈরি করা। তবে যদি প্রয়োজন মনে হয় সেক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপিস্টের সাহায্যও নিতে পারেন। গবেষণা চলার সময় শিক্ষার্থীদের ১২ সপ্তাহ ফিজিওথেরাপির সেশন চলে এবং সেই সেশন চলাকালীন দেখা যায় টিনএজারদের মধ্যে নমনীয়তা বেড়েছে। যদিও এখনও কিছু সেশন বাকি আছে তারপর আরও কী পরিবর্তন আসে সেটা জানা যাবে (Health)।


