Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন হোয়াইট হাউসে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নরদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ব্যস্ত (Donald Trump)। ঠিক সেই সময়েই তাঁর কানে পৌঁছয় এক তাৎপর্যপূর্ণ খবর সুপ্রিম কোর্ট তাঁর বহুল আলোচিত শুল্কনীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছে। বৈঠকের মাঝেই এক বাণিজ্য উপদেষ্টা ঘরে ঢুকে একটি চিরকুট তাঁর হাতে তুলে দেন। সংবাদমাধ্যমের দাবি, চিরকুট পড়েই ট্রাম্প প্রথমে কিছুটা স্তব্ধ হয়ে যান এবং বিস্ময়ের সুরে প্রশ্ন করেন, “আমরা কি সত্যিই হেরে গেলাম?” উপস্থিত কয়েকজনের মতে, বাইরে থেকে তাঁকে শান্ত দেখালেও ভিতরে ভিতরে তিনি প্রবলভাবে ক্ষুব্ধ ছিলেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তিনি দ্রুত বৈঠক সংক্ষিপ্ত করেন এবং প্রশ্নোত্তর পর্বও কমিয়ে দেন।

শুল্কনীতি কেন বিতর্কের কেন্দ্রে? (Donald Trump)
ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতিতে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। চীন, ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল দেশীয় শিল্পকে রক্ষা করা এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানো। কিন্তু বিরোধীদের দাবি ছিল, এই শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। সেই প্রেক্ষিতেই বিষয়টি আদালতে গড়ায়। সর্বোচ্চ আদালত রায়ে জানায়, প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপ আইনি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং সেই কারণে তা বাতিল করা হচ্ছে।
বৈঠক থেকে সোজা বিবৃতি প্রস্তুতিতে (Donald Trump)
রায়ের খবর পাওয়ার পর ট্রাম্প আর সময় নষ্ট করেননি। বৈঠক শেষ করে তিনি দ্রুত নিজের টিমকে নিয়ে বিবৃতি তৈরিতে বসেন। প্রথম প্রতিক্রিয়ায় তিনি রায়কে “হতাশাজনক” বলে আখ্যা দেন। তবে একই সঙ্গে আত্মবিশ্বাসী সুরে জানান, “এই সিদ্ধান্ত ভুল। কিন্তু তাতে আমাদের কাজের গর্ব কমে না।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, আইনি ধাক্কা পেলেও তিনি নীতিগতভাবে পিছু হটতে রাজি নন।

বিকল্প শুল্ক আরোপের ঘোষণা (Donald Trump)
রায় ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রাম্প নতুন পদক্ষেপের কথা জানান। বাতিল হওয়া শুল্কের পরিবর্তে কিছু ক্ষেত্রে ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ হারে নতুন শুল্ক বসানোর নির্দেশ দেন। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে সুরক্ষা দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে শুল্ক থেকে আরও বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে। এই ঘোষণায় বোঝা যায়, আদালতের রায়কে তিনি রাজনৈতিক লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই দেখছেন। তাঁর বক্তব্য, এই রায় ভবিষ্যতে তাঁকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাবে।
আরও পড়ুন: Sundar Pichai: এআই দুনিয়ায় নেতৃত্ব দেবে ভারত? অল্টম্যানের পর পিচাইয়ের বড় বার্তা!
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক তাৎপর্য
এই ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি আইনি পরাজয় নয়; এটি মার্কিন প্রশাসনিক কাঠামোর ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে। প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা বনাম বিচার বিভাগের সাংবিধানিক ভূমিকা এই দ্বন্দ্ব আবারও সামনে এল। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যক্ষেত্রে এই রায়ের প্রভাবও সুদূরপ্রসারী হতে পারে। ভারত-সহ বিভিন্ন দেশ যারা অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা বইছিল, তাদের জন্য এটি স্বস্তির বার্তা। তবে ট্রাম্পের বিকল্প শুল্ক আরোপের ঘোষণায় ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সম্পর্ক আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।



