Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মা বলেছিলেন, “আমি সৎ-এরও মা, অসৎ-এরও মা (Sri Maa Sarada Devi)। ” আজ সকলের মা শ্রী শ্রী সারদা মায়ের ১৭৩তম জন্মতিথি। তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন জয়রামবাটীতে। শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরম হংস দেবের অর্ধাঙ্গিনী হয়ে এসেছিলেন কামারপুকুরে। ধীরে ধীরে তিনি সামান্য এক মানুষ থেকে হয়ে উঠেছিলেন সকলের মা। আজ তাঁরই জন্মতিথি উপলক্ষ্যে জয়রামবাটি মাতৃমন্দিরে সাজো সাজো রব।
বিশেষ পুজোর আয়োজন (Sri Maa Sarada Devi)
সারদা মায়ের জন্মতিথি উপলক্ষ্যে আজ ভোরে করা (Sri Maa Sarada Devi) হয়েছে বিশেষ পুজোর আয়োজন। সকাল সকাল প্রভাতফেরি ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে মায়ের বিশেষ আরাধনা করা হয়। এর সঙ্গে বেলুড় মঠেও আজ চলছে মায়ের পুজো। দূর দূরান্ত থেকে পুজো দেখতে আসছেন মায়ের ভক্তরা। চলছে মায়ের গান, বিশেষ স্তব।

সারদা মা কী খেতে ভালোবাসতেন? (Sri Maa Sarada Devi)
সারদা মা লুচি, তরকারি, দুধ, শীতকালে বেগুনী-ফুলুরি-আলুর চপ (Sri Maa Sarada Devi), এবং বিভিন্ন মিষ্টি যেমন মুগের মিষ্টি, রাঙা আলুর পিঠে, সাদা বোঁদে, জিলিপি খেতে ভালোবাসতেন; ছোটবেলায় ছোলা পাটালিও পছন্দ করতেন। তার থেকেও বেশি তিনি নিজের হাতে রান্না করে ভক্তদের খাওয়াতে খুব ভালোবাসতেন। শ্রী শ্রী মা সারদা দেবীর খুবই প্রিয় ছিল আমরুল শাক। আমরুল শিলে বেটে গরম ভাতের সাথে খেতে খুবই ভালো বাসতেন।নিজের হাতেই রান্না করতেন। মুখের অরুচি কাটাতে কবিরাজ আমরুল শাকের ব্যবস্থা করে দেন। শুশুনি শাক ও তিনি প্রায় খেতেন ভাতের সাথে। মা রোজ এই শাক খেতেন।
সারদা মা ও ভগিনী নিবেদিতা
আইরিশ দুহিতা ভগিনী নিবেদিতা ভারতে এসে মনে প্রাণে বাঙালি হয়ে উঠেছিলেন। সকলের মত তিনিও মনে প্রাণে মায়ের মেয়ে হয়ে উঠেছিলেন। এক মন খোলা চিঠিতে তিনি মায়ের উদ্দেশ্যে লিখেছিলেন, “আদরিনী মাগো, আজ সকালে খুব ভোরে গীর্জায় গিয়েছিলাম সারার জন্য প্রার্থনা করতে। সেখানে সবাই মেরীর কথা ভাবছিল। হঠাৎ আমার মনে পড়ে গেল তোমার কথা।”

সারদা মায়ের প্রথম তোলা ছবি
শ্রীমতি বুলের ভারতে কিছু সময় কাটিয়ে দেশে ফেরার সময় মনে হল, সারদা মায়ের একটি ফটো সঙ্গে করে নিয়ে যাবেন। নিজের বাড়িতে পূজো করবেন। কিন্তু মায়ের ছবি পাবেন কোথায়? তখনও মায়ের ছবি তোলাই হয়নি। ১৮৯৮এর নভেম্বরে মা একদিন এলেন বাগবাজার ১০/২বোসপাড়া লেনের বাড়ি। ফটোগ্রাফার মিস্টার হ্যারিংটনও এলেন তার যন্ত্রপাতি নিয়ে। মিসেস বুল মাকে বসিয়ে মাথার কাপড়, এবং চুল ঠিক করে দিলেন। দু পাশে কয়েকটি ফুলদানি রাখা হলো। তবে ফটোগ্রাফার দেখে প্রথমে মা একটু আরষ্ঠ বোধ করছিলেন। তবে হ্যারিংটন একপ্রকার বাধ্য হয়েই প্রথম ছবিটি তোলেন যেখানে মায়ের মুখটা নিচের দিকে তাকানো। ছবি তোলা হয়ে গিয়েছে বুঝতে পেরেই কিছুটা স্বস্তিতে মা ক্যামেরার দিকে তাকান।আর ঠিক সেই মুহূর্তেই যে দ্বিতীয় ছবিটি পাকা ক্যামেরাম্যান তোলেন সেটাই আজ সবার কাছে রয়েছে।
আরও পড়ুন: Patties Seller Beaten: গীতাপাঠের মাঠে প্যাটিস ফেলে দিয়ে বিক্রেতাকে মার, গ্রেফতার ৩!
সারাজীবন ঘোমটার আড়ালে থাকলেও মা সারদা রক্ষণশীল ছিলেন না মোটেও। বিদেশিনীকে নিজের মেয়ে করে কাছে টেনে নেওয়াই হোক অথবা তৎকালীন সময়ে ফটোগ্রাফারের মুখোমুখি হয়ে ছবি তোলা, সবসময় তিনি মেয়েদের উন্নতির কথাই ভেবেছেন। তিনি সকলকে ভালোবেসেছেন। কখনও ভেদাভেদ রাখেননি। তার অমৃতবাণী- “সবাইকে সমান ভাবে ভালোবাসো, যাকে ভালোবাসো, তার কাছ থেকে কিছু দাবি কোরো না। তুমি যদি দাবি করো, তাহলে কেউ তোমাকে বেশি বেশি করে দেবে, আবার কেউ কম দেবে। তখন কী হবে, যে বেশি দিচ্ছে, তুমি তাকে বেশি ভালোবাসবে। এর ফলে তোমার ভালোবাসা আর সবার প্রতি সমান থাকবে না।” আজও আমাদের মনে গাঁথা রয়েছে।


