Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আগামীকাল পৃথিবীর ভাগ্যে ঠিক কী অপেক্ষা করছে এই প্রশ্নেই এখন উদ্বিগ্ন গোটা বৈজ্ঞানিক মহল। কারণ, সূর্য যেন আচমকাই হারিয়েছে তার স্থির-শান্ত রূপ (Strong Radio Blackout)। গত ২৪ ঘণ্টায় সৌরপৃষ্ঠে ঘটে যাওয়া একের পর এক ভয়ংকর ঘটনার জেরে ‘সিঁদুরে মেঘ’ দেখছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। সূর্যের ক্রুদ্ধ রণচণ্ডী রূপে কাঁপতে পারে পৃথিবী এমন আশঙ্কায় ঘুম উড়েছে আসমুদ্রহিমাচল গবেষকদের।
নজরে ‘রিজিয়ন ১৪৩৬৬’ (Strong Radio Blackout)
বিজ্ঞানীদের নজরের কেন্দ্রে এখন একটি বিশালাকার সানস্পট বা সৌরকলঙ্ক ‘রিজিয়ন ১৪৩৬৬’। গত দু’দিন ধরেই সূর্যের বুকে কার্যত তাণ্ডব চালাচ্ছে এই সানস্পটটি। রবিবার সন্ধে নাগাদ এখান থেকেই জন্ম নেয় X8.1 শ্রেণির একটি ভয়াবহ সৌরশিখা )। সাম্প্রতিক কয়েক বছরে এটি অন্যতম শক্তিশালী বিস্ফোরণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। উল্লেখযোগ্য বিষয়, এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে যে X9.0 মাত্রার সৌরঝড় আছড়ে পড়েছিল, এই বিস্ফোরণ তার প্রায় সমান শক্তিশালী। অর্থাৎ, সূর্যের ক্রোধ যে ক্রমেই ভয়ংকর আকার নিচ্ছে, তা স্পষ্ট।
কী এই সৌরশিখা ও CME? কেন এত ভয়? (Strong Radio Blackout)
সূর্য থেকে নির্গত এই বিপুল শক্তিশালী বিকিরণকে বলা হয় সোলার ফ্লেয়ার। অনেক সময় এর সঙ্গে বেরিয়ে আসে সূর্যের প্লাজমার বিশাল মেঘ যাকে বলা হয় করোনাল মাস ইজেকশন। এই CME যদি সরাসরি পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে, তবে তা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের সঙ্গে ভয়ংকর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে। ফলস্বরূপ দেখা দিতে পারে, প্রবল জিও-ম্যাগনেটিক স্টর্ম, উপগ্রহ ও স্যাটেলাইটের ক্ষতি, যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক বিপর্যয়

ইসরোর সতর্কবার্তা (Strong Radio Blackout)
মার্কিন সংস্থা NOAA-এর স্পেস ওয়েদার প্রেডিকশন সেন্টার জানিয়েছে, ৫ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীতে ভূ-চৌম্বকীয় কার্যকলাপ চরমে পৌঁছতে পারে। তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সূর্য থেকে নির্গত একটি শক্তিশালী CME পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে। যদিও বিজ্ঞানীদের আশা, এই প্লাজমা মেঘ সরাসরি পৃথিবীতে আঘাত না করে পাশ কাটিয়ে যাবে। তবে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে এর প্রভাব বা ‘আফটার-এফেক্ট’ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আছড়ে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে বিষয়টির উপর কড়া নজর রেখেছে ইসরো (ISRO)-ও। তাদের আশঙ্কা, স্ট্রং রেডিয়ো ব্ল্যাকআউট স্যাটেলাইট সিগন্যালের ব্যাঘাত
ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে প্রভাব (Strong Radio Blackout)
এই সৌর বিস্ফোরণের প্রভাব ইতিমধ্যেই চোখে পড়তে শুরু করেছে। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দেখা দিয়েছে আংশিক রেডিও ব্ল্যাকআউট। এর অর্থ, উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির রেডিও তরঙ্গ ব্যাহত হচ্ছে যা বিমান যোগাযোগ ও নৌপরিবহণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: Lalbazar CP: অ্যাকশনে নতুন সিপি: রাতের কলকাতায় সতর্ক লালবাজার
অরোরা দেখা যাবে? সঙ্গে আছে ভয়ও
এই তীব্র সৌরঝড়ের একটি দৃশ্যমান প্রভাব হতে পারে অরোরা বা মেরুজ্যোতি। বিজ্ঞানীদের মতে, ৫ ফেব্রুয়ারির মহাজাগতিক ঝাপটায় নিম্ন অক্ষাংশের এলাকাতেও অরোরা দেখা যেতে পারে। তবে রূপকথার মতো সুন্দর এই আলোর খেলার আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে বিপদের বার্তা।



