Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইউক্রেন যুদ্ধ গতি হারাচ্ছে না, বরং নিত্য নতুন মঞ্চে ছায়া ফেলছে বিশ্বের বৃহত্তম কূটনৈতিক ও সামরিক জোটগুলির মধ্যেও(Russia Ukraine Ceasefire Meeting)। এরই মধ্যে নতুন করে শান্তির আলো দেখা দিয়েছে—এই সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে তুরস্কে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিচেপ তায়িপ এর্ডোগান বৃহস্পতিবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald J. Trump) ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগামী মাসে ইস্তানবুল বা আঙ্কারায় মুখোমুখি বৈঠকে বসতে পারেন ইউক্রেন যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনা করতে।
নেটোর শীর্ষ সম্মেলন শেষে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ থেকে ফিরে তুরস্কে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এর্ডোগান বলেন, “আমরা শান্তির পথ প্রশস্ত করতে শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে গঠনমূলক সংলাপের পরিবেশ তৈরি করতে চাই। ট্রাম্প আমাকে জানিয়েছেন, যদি পুতিন ইস্তানবুল বা আঙ্কারায় আসেন, তবে তিনিও আসবেন আলোচনায় যোগ দিতে(Russia Ukraine Ceasefire Meeting)।”
প্রথম রুশ-ইউক্রেন বৈঠকের রূপরেখা (Russia Ukraine Ceasefire Meeting)
এটি এমন একটি প্রস্তাবনা যার গোড়াপত্তন হয়েছিল গত ১৭ মে ইস্তানবুলেই, যখন রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রথম মুখোমুখি বৈঠকে বসেছিল। ওই আলোচনায় পুতিনের উপদেষ্টা ভ্লাদিমির মেডিনস্কি রুশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। ইউক্রেনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুস্তেম উমেরভ। তবে আলোচনায় শুধুমাত্র যুদ্ধবন্দি ও নিহত সেনাদের দেহ বিনিময়ের বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল। যুদ্ধবিরতি নিয়ে তেমন অগ্রগতি হয়নি।
রাশিয়ার অবস্থান (Russia Ukraine Ceasefire Meeting)
তুরস্কের মধ্যস্থতার সম্ভাবনা থাকলেও, রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রক থেকে বারবার জানানো হয়েছে, তারা কোনও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না(Russia Ukraine Ceasefire Meeting)। ২০ জুন রুশ বিদেশ দফতরের মুখপাত্র মারিয়া জ়াখারোভা স্পষ্ট জানান, “আমরা যুদ্ধবিরতির জন্য কোনও বাহ্যিক চাপ মেনে চলি না। আলোচনা হবে আমাদের শর্তে।” তবে তুরস্কের প্রস্তাবিত ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক প্রসঙ্গে এখনও মস্কোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কিছু জানানো হয়নি।

কেন তুরস্ক? (Russia Ukraine Ceasefire Meeting)
তুরস্ক এর আগেও রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালন করেছে(Russia Ukraine Ceasefire Meeting)। কৃষ্ণসাগর শস্যচুক্তি, যুদ্ধবন্দি বিনিময় বা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের উপস্থিতিতে সীমান্ত নিরীক্ষা— সব ক্ষেত্রেই আঙ্কারা একটি নিরপেক্ষ কূটনৈতিক স্থান হিসাবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

ট্রাম্পের ভূমিকা (Russia Ukraine Ceasefire Meeting)
প্রাক্তন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প পুনরায় প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শান্তি উদ্যোগে তাঁর সরাসরি অংশগ্রহণ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে(Russia Ukraine Ceasefire Meeting)। নির্বাচনী প্রচারে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন— এবং এ ধরনের বৈঠকে উপস্থিতি তাঁকে আন্তর্জাতিক স্তরে “শান্তির মধ্যস্থতাকারী” হিসেবে তুলে ধরতে পারে।
এই মুহূর্তে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের আবহে তুরস্কে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুধু ইউক্রেন যুদ্ধই নয়, রাশিয়া-আমেরিকা দ্বন্দ্বের নিরসনেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। তবে পুতিন এবং ট্রাম্প— উভয়েই দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন, তাই সেই বৈঠকে কতটা বাস্তব সম্মত অগ্রগতি হবে, তা এখন সময়ই বলবে। তবু আলোচনার সম্ভাবনা মানেই নতুন করে কূটনীতির ভাষায় শান্তির একটি শব্দ— যার প্রতীক্ষায় বিশ্ব।


